১৭ বছর আগের এক নৃশংস ঘটনার শাস্তি, এক দম্পতিকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ডের নির্দেশ ঘাটাল মহকুমা আদালতের

জে মাহাতো, আমাদের ভারত, মেদিনীপুর, ২২ ডিসেম্বর: ১৭ বছর আগের এক নৃশংস ঘটনার শাস্তি হিসেবে বুধবার এক দম্পতিকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ডের নির্দেশ দিলেন ঘাটাল মহকুমা আদালতের অতিরিক্ত জেলা দায়রা বিচারক। ঘটনায় যুক্ত থাকার অপরাধে এদিন আরেক দম্পতিকে বিচারক ৫ বছর কারাদণ্ডের নির্দেশ দিয়েছেন। 

আদালতের সরকারি আইনজীবী তপন ভট্টাচার্য বলেন,  ১৭বছর আগে পশ্চিম মেদিনীপুর জেলার দাসপুর থানার বড় শিমুলিয়া গ্রামে ২০০৪ সালের ২২ জুলাই গ্রামেরই এক কৃষক রতন সামন্ত ভোর সাড়ে চারটা নাগাদ পাশের গোয়াল ঘর পরিস্কার করার জন্য যাচ্ছিলেন। রতনবাবুর সাথে তাঁর  প্রতিবেশীদের দীর্ঘদিনের বিরোধ ছিল।  গোয়ালে যাওয়ার পথে তার সারা শরীরে বালতি ভর্তি নাইট্রিক আ্যসিড ঢেলে দেওয়া হয়। মুখমন্ডল থেকে সারা শরীর প্রায় ৮৫ % পুড়ে যায়। তাঁর  আর্তনাদে ছুটে আসা পরিবারের সদস্য ও অন্যান্য প্রতিবেশীরা তাঁকে প্রথমে দাসপুর গ্রামীন হাসপাতাল তারপর ঘাটাল মহকুমা হাসপাতালে নিয়ে যান। পরে তাঁকে কলকাতার পিজি হাসপাতালে স্থানান্তরিত করা হয়। সেখানে প্রায় ২মাস পর ৯ সেপ্টেম্বর মৃত্যু হয় তাঁর।

ঘটনায় প্রতিবেশী নন্দ সামন্ত ও তাঁর স্ত্রী শ্যামলী এবং নন্দর ভাই স্বদেশ ও স্বদেশের স্ত্রী নমিতার বিরুদ্ধে অভিযোগ দায়ের করেন রতনের স্ত্রী বিভা সামন্ত। ওই অভিযোগের ভিত্তিতে পুলিশ খুন, ষড়যন্ত্র ইত্যাদি ধারায় মামলা রুজু করে। গ্রেপ্তার হয় অভিযুক্ত ওই চারজন। মামলা চলাকালীন জামিনও পেয়ে যান তাঁরা।দীর্ঘদিন মামলা চলার পর শনিবার ঘাটাল মহকুমা আদালতের অতিরিক্ত জেলা দায়রা বিচারক সঞ্জয় কুমার শর্মা তাদের দোষী সাব্যস্ত করেন। বুধবার সেই মামলায় সাজা ঘোষণা হয়। শর্মা নন্দ এবং শ্যামলীকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড ও ২০হাজার টাকা জরিমানা অনাদায়ে আরও ১০বছর সশ্রম কারাদন্ড এবং অন্যদিকে স্বদেশ ও তাঁর স্ত্রী নমিতাকে ৫ বছরের কারাদণ্ড ও ৫ হাজার টাকা জরিমানা অনাদায়ে আরও ৫ বছরের কারাদণ্ডের নির্দেশ দেন বিচারক।

সাজাপ্রাপ্ত নন্দ সামন্ত বলেছেন, এই রায়ের বিরুদ্ধে উচ্চ আদালতে আবেদন করব আমরা।

 

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *