Gas, India, BJP, “ভারতে গ্যাসের দাম অনেক কম, দেশের মানুষকে বাঁচাতে লোকসানের ভার বইছে সরকার,” মূল্যবৃদ্ধির সমালোচনায় জবাব কেন্দ্রের

আমাদের ভারত, ৭ জুন: মধ্যবিত্তের পকেটে ছ্যাঁকা দিয়ে আরো এক বার দাম বেড়েছে রান্নার গ্যাসের। এক ধাক্কায় ২৯ টাকা বেড়েছে গ্যাসের দাম। গত তিন মাসে এই নিয়ে দুবার দাম বাড়ায় স্বাভাবিক ভাবেই কপালে ভাঁজ পড়েছে আমজনতার। দাম বাড়তেই ময়দানে নেমে পড়েছে বিরোধীরা। কিন্তু কেন্দ্র সরকার তাদের সমালোচনার পাল্টা জবাব দিয়ে বলেছে, বিশ্বজুড়ে যুদ্ধের মেঘ আর আন্তর্জাতিক বাজারে গ্যাসের আকাশ ছোঁয়া দামের তুলনায় ভারতীয়দের অনেক কম টাকাই গুনতে হচ্ছে গ্যাসের জন্য।

পশ্চিম এশিয়ার সঙ্কট এবং হরমুজ প্রণালীতে তৈরি হওয়া উত্তেজনার কারণে বিশ্ব বাজারে এলপিজির দাম হু হু করে বেড়েছে। ভারত তার প্রয়োজনের প্রায় ৬০% গ্যাস বিদেশ থেকে আমদানি করে, ফলে আন্তর্জাতিক বাজারের দাম ওঠা পড়ার উপর আমাদের দেশের দামও নির্ভর করে। সরকারি হিসাব অনুযায়ী গত ফেব্রুয়ারিতে যে সৌদি বেঞ্চমার্ক- এর দাম ছিল টন প্রতি ৫৪২.৫ মার্কিন ডলার, জুনে তা ৪৬ শতাংশ বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৭৯০ ডলার। এই চরম পরিস্থিতির জেরে বর্তমানে ভারতে একটি ১৪.২ কেজির সিলিন্ডার সরবরাহ করতে সরকারের খরচ হচ্ছে ১ হাজার ৬০০ টাকারও বেশি।

কিন্তু সাধারণ গ্রাহকদের সেই পুরো বোঝা বইতে হচ্ছে না। নতুন দাম বাড়ার পর দিল্লিতে সাধারণ মানুষকে দিতে হচ্ছে ৯৪২ টাকা। প্রধানমন্ত্রীর উজ্জ্বলা যোজনার আওতায় থাকা উপভোক্তারা সিলিন্ডার পাচ্ছেন ৬৪২ টাকা প্রতি সিলিন্ডার। সরকার এখনো প্রায় ৭০০ টাকা করে লোকসান বা আন্ডার রিকভারি নিজের ঘাড়ে রাখছে। কেন্দ্রের দাবি, প্রতিবেশী দেশ তো বটেই, এমনকি বিশ্বের বড় বড় উন্নত দেশের তুলনায় ভারতে রান্নার গ্যাস অনেক সস্তা। পাকিস্তানের মানুষ যেখানে সিলিন্ডার পিছু ১০৪৬ টাকা দিচ্ছেন সেখানে বাংলাদেশ ও শ্রীলঙ্কা যথাক্রমে ১২২৫ এবং ১২৪১ টাকা দিচ্ছে। উন্নত দেশগুলির অবস্থা আরো কঠিন। আমেরিকায় গ্যাসের দাম ১৭৫৫ টাকা, কানাডায় ২৪১১ টাকা।

আমদানি ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হলেও সরকার জানিয়েছে, হরমুজ প্রণালীর সঙ্কটের মধ্যেও ভারত দক্ষতার সঙ্গে সরবরাহ স্বাভাবিক রেখেছে। ঘরোয়া উৎপাদন ৩১ টিএনটি থেকে বাড়িয়ে ৫২ টিএনটি করা হয়েছে এবং আমেরিকা, কানাডা ও আলজেরিয়ার মতো নতুন দেশ থেকে গ্যাস আমদানি করা হচ্ছে। বিশ্ব বাজারে এই টাকা সামলাতে গিয়ে রাষ্ট্রায়ত্ত্ব তেল সংস্থা গুলির ওপর প্রায় সাত হাজার কোটি টাকার আর্থিক বোঝা চেপেছে। পরিস্থিতি সামাল দিতে কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভায় ইতিমধ্যেই ৩০ হাজার কোটি টাকার ক্ষতি পূরণ অনুমোদন করেছে। সব মিলিয়ে সরকার স্পষ্ট করেই জানিয়েছে, বিশ্ব বাজারের আগুন দামের তাপ থেকে দেশের মানুষকে বাঁচাতে হলে সরকার কয়েক হাজার টাকার বোঝা নিজের কাঁধে তুলে নিয়েছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *