আমাদের ভারত, মালদা, ২৬ এপ্রিল: সময় যেন থমকে গিয়েছে মালদহের হরিশ্চন্দ্রপুরের ৩৩ বছর বয়সী এক যুবকের ঘরে। সময়কে মুদ্রায় ধরে ইতিহাসের সঙ্গে ফিসফিসিয়ে কথা বলেন প্রবীণ কেডিয়া।
পেশায় চার্টার্ড অ্যাকাউন্টেন্ট। সঙ্গে কোম্পানির সেক্রেটারিও। কোনো কোম্পানির অধীনে কাজ না করে ব্যবসায়ী হওয়ার ইচ্ছে ছিল। তবে আজ তিনি প্রতিষ্ঠিত ব্যবসায়ী হিসাবে পরিচিত। পাশাপাশি কিন্তু তাঁর নেশায় মিশে রয়েছে ইতিহাস। প্রাচীন থেকে বর্তমান, সময়কে তিনি নিজের কাছে ধরে রেখেছেন মুদ্রায়।

শুধু দেশ নয়, নানা সময়ের বিদেশি মুদ্রার ভাণ্ডারও রয়েছে তাঁর ঝুলিতে। মালদা জেলার এক প্রত্যন্ত জায়গায় থেকেও প্রবীণের এই সংগ্রহকে কুর্নিশ না জানিয়ে উপায় নেই।
স্কুল জীবন থেকেই মুদ্রার সঙ্গে প্রেম প্রবীণের। তাঁর কথায়, ‘ছোট বেলায় বাবা আর আত্মীয়-স্বজনদের কাছ থেকে মুদ্রা সংগ্রহ করতাম। বন্ধুবান্ধবরাও আমার কাছ থেকে ছাড় পেত না। পরবর্তী সময়ে হস্টেল জীবন শুরু হয়। তখন অনেককেই দেখতাম, বাইরে যেত। তাদের বলতাম, তোমরা বাইরে যাচ্ছ যাও। কিন্তু যেখানে যাচ্ছ, সেখান থেকে আমার জন্য মুদ্রা আর কারেন্সি নিয়ে এসো। এভাবেই আমার সংগ্রহের ভাণ্ডার বেড়েছে। আর প্রাচীন ভারতীয় মুদ্রা মূলত সংগ্রহ করেছি রাজস্থান থেকে। সেখানে আমার পূর্বপুরুষের বাস। বাবা-জ্যাঠা, কিংবা আমি নিজেও যখন সেখানে যেতাম, প্রাচীন ভারতীয় মুদ্রা সংগ্রহ করে নিয়ে আসতাম। আমি চাই, আমার মতো এই নেশা ছোটদের মধ্যেও ছড়িয়ে পড়ুক। তারাও জানুক, দেশের প্রাচীন মুদ্রার গুরুত্ব কতটা। সুযোগ পেলে আমি নিজের সংগ্রহ নিয়ে একটা প্রদর্শনী করতে চাই।’

