জয় লাহা, দুর্গাপুর, ৬ অক্টোবর: মোটা টাকা বিনিময়ে অন্য জেলার ইউআরএল কোড ব্যবহার করে ভুঁয়ো স্বাস্থ্যসাথীর কার্ড তৈরী। এমনই অভিযোগে জালিয়াতি চক্রে এক ব্যবসায়ীকে গ্রেফতার করল আসানসোল-দুর্গাপুর কমিশনারেট পুলিশ। ধৃতের নাম দিলীপ বার্নওয়াল, অন্ডালের উখড়ার বাসিন্দা। বুধবার তাকে দুর্গাপুর মহকুমা আদালতে তোলা হলে বিচারক তার জামিন খারিজ করে দেন। এদিকে প্রশ্ন উঠেছে, সরকারি কোড ব্যবহার করে কিভাবে চলছিল স্বাস্থ্যসাথীকার্ডের জালিয়াতি চক্র?
ঘটনায় জানা গেছে, অভিযোগকারি রীতা বার্নওয়াল অন্ডালের উখড়ার বাসিন্দা। কয়েকদিন আগে স্থানীয় দিলীপ বার্নওয়াল নামে এক ব্যবসায়ীর দোকানে স্বাস্থ্য সাথী কার্ড তৈরি করেন। রীতাদেবীর স্বামী প্রদীপ বার্নওয়াল জানান, “স্বাস্থ্যসাথীর কার্ডটি তৈরী করতে ২৬০০ টাকা নিয়েছিল। বৈধতা যাচাই করতে ওই কার্ড নিয়ে বিডিও অফিসে গেলে, সেখানে ওই কার্ডের কোড মোতাবেক কোনও বৈধতা দেখায়নি। তারপর বিডিও অফিসের লোকজন পুলিশকে সঙ্গে নিয়ে তদন্ত শুরু করে।” তিনি আরও বলেন, “পুলিশ ও প্রশাসনকে সঙ্গে নিয়ে যখন তাঁর কাছে যাওয়া হয়। দিলীপ বার্নওয়াল আমাদের চিনতে অস্বীকার করে। তখন আরও যাদের স্বাস্থ্যসাথী কার্ড তৈরী করেছিল, তাদের ডাকা হয়।

অন্ডাল বিডিও সুদীপ্ত বিশ্বাস জানান, “বিষয়টি নজরে আসতেই তদন্ত শুরু করা হয়। ওই কার্ডটি ভুয়ো ছিল। কার্ডের ইউআরএল নং টি অন্য জেলার। তাতেই সন্দেহ ছিল। কিভাবে কোথা থেকে ইউআরএল নং পেয়েছে পুলিশকে তদন্ত করতে বলা হয়েছে।” পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, দিলীপ বার্নওয়াল যে ইউআরএল নং ব্যবহার করছিল, সেটি বীরভুম জেলার। প্রশ্ন, অন্য জেলার
ইউআরএল নং নিয়ে কিভাবে মোটা টাকার বিনিময়ে স্বাস্থ্যসাথী কার্ডের নামে জালিয়াতি চক্র চলত? এদিকে ব্লক প্রশাসনের অভিযোগ পেয়ে ঘটনার তদন্ত শুরু করে অন্ডাল থানার পুলিশ। মঙ্গলবার রাতে দীলিপ বার্নওয়াল নামে ওই অভিযুক্ত ব্যাবসায়ীকে গ্রেফতার করে পুলিশ। বুধবার ধৃত দীলিপ বার্নওয়ালকে দুর্গাপুর মহকুমা আদালতে তোলা হলে বিচারক তার জামিন খারিজ করে দেন। পুলিশ জানিয়েছে, ধৃতকে আদালতে রিমান্ডে চাওয়া হয়েছে। ঘটনার তদন্ত চলছে।

