সুশান্ত ঘোষ, আমাদের ভারত, উত্তর ২৪ পরগণা, ৫ সেপ্টেম্বর: কখনও পূর্ত দফতরের অফিসার, কখনও গোয়েন্দা দফতরের আধিকারিক। আবার কখনও রাজ্যের বিভিন্ন মন্ত্রীদের ঘনিষ্ট বলে পরিচয় দেওয়া। একাধিক ভুয়ো পরিচয়ে বেকার যুবক, যুবতীদের চাকরি দেওয়ার নাম করে তাদের থেকে লক্ষ লক্ষ টাকা প্রতারণার অভিযোগে এক ব্যক্তিকে গ্রেফতার করল পুলিশ। শনিবার রাতে নদিয়ার বগুলা থেকে তাকে গ্রেফতার করা হয়েছে বলে পুলিশ জানিয়েছে।

সূত্রের খবর, ধৃত যুবক সোম দত্ত। গত দু’বছর ধরে বনগাঁ, বাগদা, নদিয়ার হাঁসখালি সহ বিভিন্ন এলাকায় প্রতারণা চক্র চালাচ্ছিল। নিজেকে কখনও পূর্ত দফতরের অফিসার, কখনও গোয়েন্দা দফতরের অফিসার বলে পরিচয় দিত। তার মূল লক্ষ ছিল বেকার যুবক যুবতীরা। চাকরির খোঁজে আসা বেকার যুবকদের চাকরি দেওয়ার প্রলোভন দেখিয়ে তাদের থেকে লক্ষ লক্ষ টাকা হাতিয়ে নিত সে। পুলিশ সূত্রে খবর, ধৃত সোম দত্ত ইতিমধ্যেই ১২ থেকে ১৫ জন যুবকের কাছ থেকে পূর্ত দপ্তরে চাকরি করে দেওয়ার নাম করে প্রায় কয়েক লক্ষ টাকা প্রতারণা করেছে। চাকরির আশায় কেউ জমি বিক্রি করেছেন তো কেউ অনেক ঋণ করে টাকা জোগাড় করেছেন। কিন্তু তাঁরা প্রত্যেকেই প্রতারণার শিকার হয়েছেন।

বছর আঠাশের সোম দত্তের নামে বনগাঁ থানায় অভিযোগ দায়ের করেন প্রতারিত যুবক বনগাঁ স্টেশন রোডের বাসিন্দা শান্তনু সাধু। তিনি জানিয়েছেন যে, তাঁর কাছ থেকে ধৃত দেড় লক্ষ টাকা নিয়েছে। তদন্তে নেমে বনগাঁ থানার পুলিশ নদিয়ার বগুলার সোম দত্তের বাড়ি থেকে গ্রেফতার করে। পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে খবর, সম্প্রতি পুলিশের কাছে গোপনসূত্রে খবর আসে যে, কোনও এক ব্যক্তি নিজেকে বিভিন্ন দফতরের আধিকারিকের পরিচয় দিয়ে লোক ঠকানো শুরু করেছে। প্রতারণার সুবিধার্থে কখনও কৃষ্ণনগর, কখনও রানাঘাট বা চাকদাতে থাকত ধৃত ব্যক্তি। প্রতারণার শিকার হওয়া এক চাকরি প্রার্থীর মা বলছেন, ‘জমি বিক্রি করে ছেলের চাকরির জন্য টাকা দিয়েছি। এখন শুনছি সোম দত্ত একজন প্রতারক। আমরা টাকা ফেরত চাই। তার সঙ্গে চাই অপরাধীর দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি হোক। ধৃতকে রবিবার বনগাঁ মহকুমা আদালতে তোলা হলে, বিচারক ৮ দিনের পুলিশি হেপাজতের নির্দেশ দেয়। ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে বনগাঁ থানার পুলিশ।

