প্রশিক্ষণ ও চাকরি দেওয়ার নাম করে প্রতারণা বালুরঘাটে, বাসস্ট্যান্ড এলাকায় একটি বেসরকারি সংস্থার কর্মীদের গণধোলাই যুবকদের

পিন্টু কুন্ডু, বালুরঘাট, ৭ জানুয়ারি: করোনাকালে মাসিক লক্ষাধিক টাকা মাইনের চাকরি দেবার প্রলোভন দেখিয়ে অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ উঠল এক বেসরকারি সংস্থার বিরুদ্ধে। জালিয়াতি বুঝতে পেরেই শুক্রবার দুপুরে গণধোলাই দেওয়া হল ওই সংস্থার কর্মীদের। দক্ষিণ দিনাজপুর জেলার বালুরঘাট শহরের বাসস্ট্যান্ড সংলগ্ন নারায়ণপুর এলাকার ঘটনা। ঘটনার খবর পেয়েই এলাকায় পৌঁছে বালুরঘাট থানার পুলিশ উত্তেজিত জনতার হাত থেকে ওই সংস্থার ম্যানেজার সহ মোট ৪ জন কর্মীকে উদ্ধার করে থানায় নিয়ে আসে।

বিক্ষোভকারীদের অভিযোগ, নারায়ণপুর এলাকায় ওই বেসরকারি সংস্থার কর্মীরা মোটা মাইনের চাকরির প্রলোভন দেখিয়ে ও কম্পিউটার প্রশিক্ষণের নাম করে ২০ হাজার টাকা করে তোলা আদায় করছিল। শুধু তাই নয়, আরো বেশি সংখ্যক লোকের কাজের সুযোগ রয়েছে এই প্রলোভন দেখিয়ে বেশি বেশি করে শিক্ষিত বেকারদের সেখানে আনার জন্য চাপ দিচ্ছিল সংস্থায় আসা যুবক-যুবতীদের বলে অভিযোগ। যে ঘটনা নিয়েই এদিন ক্ষোভে ফেটে পড়েন বেশ কিছু যুবক। টাকা ফেরতের দাবি জানিয়ে ওই বেসরকারি সংস্থার কর্মীদের চলে মারধর। ঘটনার খবর পেয়েই এলাকায় পৌঁছে ওই বেসরকারি সংস্থার অফিস দেখে কার্যত চক্ষু চড়কগাছ হয় বালুরঘাট থানার পুলিশেরও। সারা রাজ্যে যেখানে করোনার বাড়বাড়ন্ত সেখানে করোনাবিধিকে শিকেয় তুলে ছোট একটি ঘরে গাদাগাদি করে চলছে ছেলেমেয়েদের প্রশিক্ষণ দেবার নাম করে একত্রিত করার কাজ। যার পরেই ওই সংস্থার ম্যানেজার সহ মোট ৪ জনকে আটক করে থানায় নিয়ে যায় বালুরঘাট থানার পুলিশ।

অরূপ মহন্ত নামে এক বিক্ষোভকারী জানান, লক্ষ লক্ষ টাকা রোজগারের প্রলোভন দেখিয়ে তার কাছ থেকে ২০ হাজার টাকা আদায় করে ওই সংস্থার কর্মীরা। এরপরেই আরো বেশি করে ছেলেমেয়েকে সেই কাজে যোগ দেবার জন্য চাপ দিতে থাকে। নিজে প্রতারিত হচ্ছে বুঝতে পেরে সেই টাকা ফেরত চায় অরূপ। এর পরেই কর্মীরা তা দিতে অস্বীকার করে। এতেই ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠে সকলেই।

যদিও ওই সংস্থার কর্মী লীনা দাস জানান, কোভিড কালে ছেলেমেয়েদের এভাবে গাদাগাদি করে একত্রিত করা ঠিক হয়নি। তবে তাদের বিরুদ্ধে যে প্রতারণার অভিযোগ তোলা হচ্ছে, তা সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *