আমাদের ভারত, হুগলী, ২ ডিসেম্বর: পারিবারিক অশান্তির জেরে খুন হলেন একই পরিবারের চারজন। বৃহস্পতিবার সকালে ঘটনাটি ঘটেছে সিঙ্গুর থানার নান্দা এলাকায়। মৃত ব্যাক্তিদের নাম দীনেশ প্যাটেল (৫০), অনুসুয়া প্যাটেল (৪৫), মাভজী প্যাটেল (৭৬) ও ভাবিক প্যাটেল (২৩)। তাদের সকলের বাড়ি সিঙ্গুর থানার নান্দা এলাকায়।
প্যাটেল পরিবার সিঙ্গুরের নান্দা এলাকায় কাঠের ব্যাবসা করতেন। পাশপাশি তাদের একটি কাঠের গোলাও ছিল। কাঠের গোলা লাগোয়া তাদের বাড়ি।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, মূলত প্যাটেল পরিবার গুজরাটের বাসিন্দা। বছর ত্রিশ আগেই তারা সিঙ্গুরের নান্দা এলাকায় কাঠের ব্যাবসা শুরু করেন। বছর তিনেক আগে প্যাটেল পরিবার তার মামাতো ভাই যোগেশ ধাওয়ানীকে সিঙ্গুরে নিয়ে আসে। যোগেশ সেখানে প্যাটেলদের কাঠের ব্যাবসায় কাজ করতেন। সিঙ্গুরে যোগেশের দুই ভাইও চলে আসে। সম্প্রতি যোগশ বিয়ে করেন। তারপর থেকেই প্যাটেল পরিবারের সঙ্গে তার মনমালিন্য শুরু হয়। সূত্রের খবর, ঘটনার দিন ভোরে যোগেশ দীনেশের নাম ধরে ডাকে। দরজা খুলে বাইরে বের হতেই যোগেশ প্রথমে দীনেশকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কোপায়। এরপর অনুসুয়াকে মারে। শেষে দরজা দিয়ে সটাং ভেতরে ঢুকে যায়। সেখানে দীনেশের বাবা মাভজী প্যাটেল ও ভাই ভাবিক প্যাটেলকে কোপায়। এরপর যোগেশ সেখান থেকে বেড়িয়ে যায় বলে অভিযোগ। খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে হাজির হয় সিঙ্গুর থানার পুলিশ। গুরুত্বর আহত অবস্থায় চারজনকেই সিঙ্গুর গ্রামীণ হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে চিকিৎকরা দীনেশ ও তার স্ত্রীকে মৃত বলে ঘোষণা করেন। গুরুত্বর আহত অবস্থায় দুইজনকে কলকাতার এসএসকেএম হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। বেলায় সেখানে ওই দুইজনও মৃত্যু হয়।
অন্যদিকে ঘটনা ঘটার পর থেকেই যোগেশ ধাওয়ানী বাড়িতে তালা দিয়ে সবাইকে নিয়ে পালিয়ে যায়। সম্প্রতি সে সিঙ্গুরের পুরুসত্তমপুরে থাকছিলেন। এই ঘটনায় পুলিশের সন্দেহের তীর যোগেনের দিকে। পুলিশ যোগেনের সন্ধান পাওয়ার চেষ্টা চালাচ্ছে। এই ঘটনার পর প্যাটেলদের প্রতিবেশীরা হতবাক হয়ে গিয়েছেন। তারা দাবি করে বলেন, এমন ঘটনা সম্প্রতি তাদের এলাকায় ঘটেনি।
হুগলী গ্রামীণ পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার শিবপ্রসাদ পাত্র সাংবাদিকদের বলেন, প্রাথমিক তদন্তের পর মনে হয়েছে ব্যবসা বা সম্পত্তিগত কোনও বিষয়ে এই খুন হয়ে থাকতে পারে। সিসিটিভি ফুটেজ ও অন্য তথ্য খতিয়ে দেখা হচ্ছে। খুব তাড়াতাড়ি অপরাধীদের ধরে ফেলা যাবে।

