শ্যামনগরের শান্তিগড়ে বধূ খুনের নেপথ্যে ত্রিকোণ প্রেম ও শ্বশুর বাড়ির সম্পত্তি নেবার চেষ্টা, দাবি মৃতার পরিজনদের

আমাদের ভারত, ব্যারাকপুর, ২ ডিসেম্বর: জগদ্দল থানার শ্যামনগরের শান্তিগড়ে গৃহবধূকে বালিশ চাপা দিয়ে শ্বাসরোধ করে খুনের ঘটনায় পুলিশের জালে স্বামী আবীর পুরকাইত ও শাশুড়ি সবিতা পুরকাইত। ত্রিকোণ প্রেমের জেরে খুন বলে মনে করছেন মৃতের আত্মীয়রা। মৃতার পরিবারের দাবি, তার শ্বশুর বাড়ির লোকজন এবং তার স্বামী জড়িত আছেন এই ঘটনার সাথে। মৃত স্ত্রীর নাম প্রিয়াঙ্কা পুরকাইত। মৃতার স্বামী আবীর পুরকাইতের বিরুদ্ধে তাকে বালিশ চাপা দিয়ে শ্বাসরোধ করে খুন করার অভিযোগ উঠেছে। শান্তিগড় স্ট্রিটের বাসিন্দা ইছাপুর মেটাল ফ্যাক্টরির কর্মচারী আবীর পুরকাইতের সঙ্গে ২০১৬ সালে বিয়ে হয়েছিল বাঁকুড়ার বাসিন্দা প্রিয়াঙ্কার। মৃতার পরিজনদের দাবি, প্রিয়াঙ্কা পাঁচ মাসের আন্তঃস্বত্তা ছিল।

মৃতা প্রিয়াঙ্কা দেবীর বাপের বাড়ির আত্মীয়দের অভিযোগ, বিয়ের পর থেকেই শারীরিক ভাবে অত্যাচার ও মারধর করত তার স্বামী ও শ্বশুর বাড়ির লোকজন। তাদের দাবি, প্রিয়াঙ্কার শ্বশুর বাড়ির লোকেরা বুধবার দুপুরে তাকে খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না বলে তার বাপের বাড়িতে ফোন করে জানায়। এরপর তার বাপের বাড়ির লোকেরা এসে তাকে খোঁজাখুঁজি শুরু করে। সারা বাড়ি এমন কি বাড়ির আশপাশে খোঁজ শুরু করে। দীর্ঘক্ষণ খোঁজার পর অবশেষে প্রিয়াঙ্কার স্বামী আবিরবাবু তার স্ত্রীর মৃতদেহ দেখতে পান তার বাড়ির শিরির নীচের জলের ট্যাংকের মধ্যে। এরপর চিৎকার ও গণ্ডগোল শুরু হয়। প্রতিবেশীরাও ছুটে আসেন। খবর দেওয়া হয় পুলিশকে। জগদ্দল থানার পুলিশ ঘটনাস্থলে এসে তদন্ত শুরু করে। মৃতার স্বামীকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

অভিযুক্ত আবীর ইছাপুর মেটাল অ্যান্ড স্টিল কারখানার কর্মী। মৃতার পরিজনরা অভিযোগ করে বলেন,
“অফিস কলিক এক মহিলার সঙ্গে আবীরের প্রণয়ের সম্পর্ক আছে। তাই মারধর করত আমাদের মেয়েকে। তাই ডিভোর্সও দিতে চেয়েছিল প্রিয়াঙ্কা। তাছাড়া শ্বশুরবাড়ির সম্পত্তি নেবার জন্য পিউয়ের ওপর চাপ সৃষ্টি করতো ওর স্বামী আবীর। তাই সম্পূর্ণ ছক কষে বুধবার দুপুরে প্রিয়াঙ্কা পুরকাইত ওরফে পিউকে খুন করে জলের ট্যাঙ্কের রিজারভারের মধ্যে ঢুকিয়ে দেয় তাঁর স্বামী আবীর। আর আমাদের মেয়ে নিখোঁজ হয়ে গেছে বলে আমাদের জানায়।”

অপর দিকে জগদ্দল থানার পুলিশ গোটা বিষয়ে তদন্ত শুরু করলে মৃতার অভিযুক্ত স্বামীকে প্রথমে জিজ্ঞেসাবাদ শুরু করেন। তখন মৃতার স্বামী দাবি করেন, তিনি কিছু জানেন না, তার ঘরে টাকা রাখা ছিল সেগুলিও পাওয়া যাচ্ছে না। কোনও দুষ্কৃতী এই ঘটনা ঘটিয়েছে। বুধবার মৃতদেহ উদ্ধার হওয়ার পর গণ্ডগোল শুরু হলে প্রতিবেশীরা গন্ডগোলের সময় দেখেন অভিযুক্ত আবীর পুরকাইতের সাথে ঘরে উপস্থিত রয়েছেন তার পরিচিত এক আইনজীবী। এই সমস্ত কারণে প্রতিবেশী ও মৃতার বাপের বাড়ির লোকেদের সন্দেহ হয় আবীর পুরকাইতের বিরুদ্ধে। পুলিশের জেরার মুখে অভিযুক্ত আবীর বাবুর কথায় অসংলগ্নতা লক্ষ্য করেন পুলিশ তাই তাকে গ্রেপ্তার করে। সেই সঙ্গে মৃতার বাপের বাড়ির আত্মীয়দের অভিযোগের ভিত্তিতে মৃতার শাশুড়ি ৬৫ বছরের সবিতা
পুরকাইতকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। আজ তাদের ব্যারাকপুর আদালতে তোলা হবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *