আশিস মণ্ডল, আমাদের ভারত, রামপুরহাট, ১৫ মে: পুরসভার এক মহিলা সাফাই কর্মীর শ্লীলতাহানির অভিযোগ উঠল তৃণমূল কংগ্রেসের প্রাক্তন ভাইস চেয়ারম্যান আব্বাস হোসেনের বিরুদ্ধে। ঘটনার খবর ছড়িয়ে পড়তেই পুরসভার মধ্যেই আব্বাস হোসেনকে হেনস্থা করেন সাফাই কর্মীরা। তাকে গলা ধাক্কা দিয়ে একটি ঘরের মধ্যে ঢুকিয়ে রাখেন। ওই মহিলা সাফাই কর্মী আব্বাসের বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন রামপুরহাট থানায়। আব্বাসকে গ্রেফতারের দাবিতে বিক্ষোভ দেখান সাফাই কর্মীরা। তাঁদের দাবি, আব্বাস হোসেনকে গ্রেফতার না করা পর্যন্ত তারা পৌরসভার সাফাইয়ের কাজে যোগ দেবেন না। পরে অবশ্য নব নির্বাচিত বিধায়ক বিজেপির ধ্রুব সাহার মধ্যস্থতায় বিক্ষোভ কর্মসূচি তুলে নেন সাফাই কর্মীরা।
ঘটনার সূত্রপাত বৃহস্পতিবার। ওইদিন সাফাই কর্মীরা তাদের প্রাপ্য বেতন এবং ৪ নম্বর ওয়ার্ডের প্রাক্তন কাউন্সিলর আব্বাস হোসেনের বিরুদ্ধে কাটমানির অভিযোগ তুলে রামপুরহাট শহরের প্রাণ কেন্দ্র পাঁচমাথা মোড়ে পথ অবরোধ করেন। শুক্রবার সকালে সাফাই কর্মীরা কাজ সেরে বাড়ি ফিরছিলেন। সেই সময় আব্বাস হোসেন এক মহিলা সাফাই কর্মীর শ্লীলতাহানি করে বলে অভিযোগ। ওই মহিলা সাফাই কর্মী বলেন, “আব্বাস হোসেন পাড়ায় তালিবানি শাসন চালায়। আমাদের বেতনের টাকা থেকে কাটমানি নিত। তার প্রতিবাদে পথ অবরোধ করায় আমাকে এদিন অশ্রাব্য ভাষায় গালিগালাজ করে। মারতে উদ্যত হয়। আমার গায়ে হাত দেয়।”
যদিও প্রাক্তন কাউন্সিলর আব্বাস হোসেন সমস্ত অভিযোগ অস্বীকার করে বলেছেন, “এই অভিযোগ ভিত্তিহীন।”
রামপুরহাটের নব নির্বাচিত বিধায়ক ধ্রুব সাহা বলেন, “আব্বাস হোসেন ৪ নম্বর ওয়ার্ডে তালিবানি শাসন চালায়। এতদিন মানুষ ভয়ে মুখ বন্ধ রেখে সব সহ্য করেছে। বিজেপি ক্ষমতায় আসতেই মানুষ এবার পথে নেমেছেন। আমি পুলিশকে বলেছি অভিযোগ অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে। এখনও তৃণমূলের ওই প্রক্তন কাউন্সিলর ভাবছে তিনি তালিবানি শাসন চালিয়ে যাবেন।”
পুলিশ ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে।

