আমাদের ভারত, ১৫ মে: রাস্তায় নমাজ পাঠ নিয়ে রণক্ষেত্র হলো রাজাবাজার। শুক্রবার নমাজ পাঠ নিয়ে পুলিশের দিকে তেড়ে আসেন মুসলিম যুবকরা। তারা বলতে থাকেন রাস্তাতেই নমাজ পাঠ করবেন, পুলিশ যতই বাধা দিক। তারা সেসব কথা শুনবে না। পুলিশ কর্মীরা জানান, কয়েকজন যুবক রীতিমতো তেড়ে এসে বলতে থাকে আমরা কিছু জানি না, আমরা কোন কিছু মানবো না, রাস্তাতেই নমাজ পড়বো। ধীরে ধীরে সেখানে বহু মুসলিম মানুষ জমায়েত হতে থাকে। পরিস্থিতি উত্তপ্ত হতে শুরু করে।
এরপর ঘটনাস্থলে আধা সেনা মোতায়েন করা হয়। পরিস্থিতির উপর নজর রাখা হচ্ছে। এখনো পর্যন্ত কোনো অপ্রীতিকর ঘটনার খবর পাওয়া যায়নি। তবে এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে আরও বড় অশান্তির আশঙ্কা করা হচ্ছে। মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী জানিয়েছেন, রাস্তায় নমাজ পড়া আর কোনভাবেই মেনে নেওয়া হবে না। পাশাপাশি ধর্মীয় স্থানে লাউড স্পিকারের শব্দ নিয়েও কড়া অবস্থানের কথা জানিয়েছেন তিনি। রাজ্য সরকারের শপথ গ্রহণের পর আজ ছিল প্রথম শুক্রবার।
রাস্তা আটকে নমাজ পাঠ নিয়ে অভিযোগ আগেও উঠেছে। ব্যস্ত সময়ে রাস্তা বন্ধ হয়ে যাওয়ায় অসুবিধা হয় সাধারণ মানুষের। তাই রাস্তা আটকে নমাজ পড়তে নিষেধ করেছিলেন মুখ্যমন্ত্রী। মসজিদের ভিতরেই নমাজ পাঠ করার আবেদন জানিয়েছিলেন তিনি। স্পষ্ট ভাষায় স্থানীয়দের রাস্তা আটকে নমাজ পড়তে বারণ করেন শুভেন্দু অধিকারী। কিন্তু রাজাবাজারে মুসলিমদের একটা অংশ পুলিশের উপর চড়াও হয়। পরিস্থিতি ক্রমশ উত্তপ্ত হতে শুরু করে। এরপরই মুসলিম অধ্যুষিত রাজাবাজারে মোতায়েন করা হয় আধা সেনা। পরিস্থিতি এখনো থমথমে। বিক্ষোভে অংশ নেওয়া কয়েকজন যুবককে সেখান থেকে জোর করে সরিয়ে দেওয়া হয়।
শুক্রবার জুম্মাবারের দিনে মুসলিম সম্প্রদায়ের মানুষ বিশেষ নমাজ পড়েন। সেই অনুযায়ী রাজাবাজার এলাকার বহু মানুষ নমাজ পাঠের প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন রাস্তার ওপর। তবে রাস্তার ওপর নমাজ পড়া ঘিরে আপত্তি করে পুলিশ। কিন্তু তাতে চড়াও হয় উন্মত কয়েকজন মানুষ বলে অভিযোগ।

