নিজস্ব সংবাদদাতা, আমাদের ভারত, পূর্ব মেদিনীপুর, ২ জুন: করোনা আক্রান্ত হয়ে মারা গেলেন রাজ্যের প্রাক্তন
যুগ্ম স্বাস্থ্য আধিকারিক প্রশান্ত প্রামাণিক। মৃত্যু কালে তাঁর বয়স হয়েছিল ৭৮ বছর। কলকাতার একটি বেসরকারি হাসপাতালে তিনি চিকিৎসাধীন ছিলেন। আজ ভোরে মারা যান প্রশান্তবাবু। তিনি রাজ্য স্বাস্থ্য দপ্তরে যুগ্ম সচিব হওয়ার পর অবসর নিয়েছিলেন। তার আগে রাজ্য শিল্প উন্নয়ন নিগমের ম্যানেজার ছিলেন। প্রশাসনিক কাজের পাশাপাশি সাহিত্য চর্চাও করতেন। দর্শন ও বিজ্ঞান ধর্মী ৫০ টির বেশি বই লিখেছেন। পেয়েছেন পুরস্কারও। ছবি তোলার নেশা ছিল তাঁর। ভ্রমণ কাহিনীতে লিখতেন। সমাজ সেবাতেও তিনি নিজেকে জড়িয়ে রেখেছিলেন।
১৯৪৫ সালের ২৪ এপ্রিল বর্তমান পূর্ব মেদিনীপুর জেলার নন্দকুমার ব্লকের, ব্যবত্তারহাট পশ্চিম গ্রাম পঞ্চায়েতের আলাশুলী গ্রামে তিনি জন্ম গ্রহণ করেন। তিনি ব্যবত্তারহাট আদর্শ হাই স্কুলের ছাত্র ছিলেন।
কাঁথি শহরের বড় পুকুরপাড় এলাকায় পরে তিনি বাড়ি করেন। তিনি বিডিও, স্বাস্থ্য দপ্তরের যুগ্ম সচিব সহ একাধিক সারাকারি উচ্চ পদে সুনামের সাথে কাজ করেছেন। সরকারি কাজ কর্মের ঝক্কি ঝামেলার সাথে সাথে সমান তালে লেখালেখিও করতেন। নিবন্ধকার হিসাবে তিনি সমধিক পরিচিত ও পারদর্শী ছিলেন।
১৯৬৯ সালে দক্ষিণ ২৪ পরগনার সাগরের বিডিও হিসেবে তিনি তাঁর কর্মজীবন শুরু করেন। পরবর্তী সময়ে পশ্চিমবঙ্গ সরকারের স্বাস্থ্য বিভাগের যুগ্ম সচিব ছিলেন।সরকারি সমস্ত রকম উচ্চপদে সুনামের সঙ্গে কাজ করে জেলার এবং এই এলাকার মান বাড়িয়েছেন। ২০১১ সালে স্বাস্থ্য দফতরের যুগ্ম সচিব থাকা অবস্থাতে তিনি অবসর গ্রহণ করেন। অবসরের পরে পুরাে সময়টাই লেখক ও সমাজকর্মী হিসেবে সকলের কাছে সমাদ্রিত হন।
গত তিরিশ-বত্রিশ বছর ধরে তিনি নিয়মিত লেখালেখি করেছেন। তিনি বিজ্ঞান, দর্শন, সাহিত্য, ইতিহাস ও ভ্রমণ বিষয়ক গ্রন্থ রচনা করেছেন। তিনি মূলত নিবন্ধকার ছিলেন। লেখার বেশির ভাগ জুড়েই দর্শন, ধর্ম, বিজ্ঞান, ভ্রমনই মুখ্য বিষয় ছিল। তিনি সব মিলিয়ে ৫২টির উপর বই লিখেছেন। শুধুমাত্র বিজ্ঞানভিত্তিক বই ২৫ টিরো বেশি রয়েছে। বিজ্ঞান আধুনিক বিজ্ঞান। ইতিহাস এবং ভ্রমণ দুই’ই আছে সমান তালে। তাঁর অধিকাংশ বই যথেষ্ট জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে।

