সুশান্ত ঘোষ, আমাদের ভারত, উত্তর ২৪ পরগণা, ২৪ এপ্রিল: তৃণমূলের পার্টি অফিসে তালা ঝুলিয়ে টিভি ও আলমারি নিয়ে যাওয়ার অভিযোগ উঠল প্রাক্তন পৌরপ্রধান শংকর আঢ্যের বিরুদ্ধে। এর প্রতিবাদে বনগাঁ- বাগদা রোড অবরোধ করে বিক্ষোভ দেখালো কাউন্সিলর সহ এলাকার কর্মীরা। ঘটনাটি উত্তর ২৪ পরগনার বনগাঁ পৌরসভার ১ নম্বর ওয়ার্ডের কুটিবাড়ি কিষাণ মান্ডি চত্বরের।
অভিযোগ স্বীকার করে শংকর আঢ্য বলেন, আমার ব্যক্তিগত টাকায় কেনা টিভি ও আলমারি। সেই কারণে আমার জিনিস পত্র আমি নিয়ে এসেছি। পাল্টা অভিযোগ করেন ওই কাউন্সিলরের বিরুদ্ধে।
স্থানীয় সূত্রের খবর, সম্প্রতি ওই তৃণমূল কংগ্রেসের পার্টি অফিসে বসেন ১ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর দিপালী বিশ্বাস। তার অভিযোগ, শনিবার রাতে তৃণমূল কংগ্রেসের প্রাক্তন পৌর প্রধান শংকর আঢ্য তৃণমূল কংগ্রেসের পার্টি অফিসের আলমারি ও টিভি বের করে নিয়ে তালা মেরে দিয়ে যায়। এই অভিযোগে সকাল সাড়ে ১০টা থেকে বনগাঁ-বাগদা সড়কের কুঠিবাড়ি কিষাণ মান্ডির সামনে অবরোধ শুরু করে কাউন্সিলর সহ তৃণমূল কংগ্রেসের কর্মী সমর্থকরা। প্রায় দেড় ঘণ্টা অবরোধ চলার পর, সাধারণ মানুষের সমস্যার কথা চিন্তা করে অবরোধ তুলে নেয় তৃণমূল কংগ্রেসের কর্মী সমর্থকরা।
বনগাঁ এক নম্বর ওয়ার্ডের তৃণমূল কংগ্রেসের কাউন্সিলর দিপালী বিশ্বাসের দাবি, যতক্ষণ না তাদের পার্টি অফিস খুলে দেওয়া হচ্ছে ততক্ষণ অবরোধ চলবে। পরবর্তীতে সাধারণ মানুষের কথা ভেবে অবরোধ তুলে নেওয়া হয়।
অবরোধের ফলে বনগাঁজুড়ে যানজটের সৃষ্টি হয়। অফিস যাত্রী থেকে সাধারণ মানুষ সমস্যায় পড়ে। কাউন্সিলর দিপালী বিশ্বাস বলেন, ওই আলমারিতে আমার সই করা প্রচুর কাগজ পত্র আছে। শংকর আঢ্য ও তাঁর দলবল রাতের অন্ধকারে আলমারি ও টিভি নিয়ে কার্যালয়ে তালা দিয়ে দেয়। আমাদের দাবি, যতক্ষণ না আমাদের আলমারি টিভি ও ঘরে চাবি না দেবে ততক্ষণ আমাদের আন্দোলন চলবে।
এই প্রসঙ্গে বনগাঁর প্রাক্তন পৌরপ্রধান শংকর আঢ্য বলেন, আমি ওই ওয়ার্ডের কাউন্সিলার ছিলাম। সেই সময় আমার ভাড়া নেওয়া কাউন্সিলর কার্যালয় ছিল ওটা। যেহেতু আমি এখন কাউন্সিলর নেই, সেই ভাড়ার ঘর ফাঁকা করবার জন্য আমার আসবাব পত্র আমি বের করে নিয়ে আসতে বলে ছিলাম কর্মীদের। কর্মীরা সেই মতো আসবাবপত্র বের করে ঘর মালিকের কাছে চাবি তুলে দিয়েছে। কাউন্সিলর তালা ভেঙ্গে ঘরে কেন ঢুকেছিলেন আগে সেটা বলুন। আমার ওই আলমারিতে প্রচুর সরকারি কাগজ পত্র লোপাট করেছেন। কি উদ্দেশ্যে করেছেন বলতে পারব না।

