TMC, Chhatna, বাঁকুড়ায় কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের বাড়ি- জমি দখল করে ব্যবসা, গ্রেপ্তার ছাতনার প্রাক্তন কৃষি কর্মাধ্যক্ষ

সোমনাথ বরাট, আমাদের ভারত, বাঁকুড়া, ৫ জুন: সরকারি কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের ২৯ একর জমি দখল করে নিজস্ব বাগানবাড়ি তৈরি ও ব্যবসার অভিযোগে গ্রেফতার তৃণমূলের দাপুটে নেতা তথা পঞ্চায়েত সমিতির প্রাক্তন কৃষি কর্মাধ্যক্ষকে ২ দিনের পুলিশি হেফাজতের নির্দেশ দিয়েছেন বাঁকুড়া আদালত।আজ তাকে আদালতে পেশ করা হলে বিচারপতি এই নির্দেশ দেন।

ছাতনার দাপুটে তৃণমূল নেতা হিসাবে পরিচিত নাম শঙ্কর চক্রবর্তী বৃহস্পতিবার কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের ওই বাগানবাড়ি থেকে সরকারি সামগ্রী পাচারের সময় হাতেনাতে ধরা পড়ে। স্থানীয় বিজেপি কর্মীরা তাকে হাতেনাতে ধরে ছাতনা থানার পুলিশের হাতে তুলে দেয়। আজ তাকে বাঁকুড়া জেলা আদালতে পেশ করা হয়। কৃষি মহাবিদ্যালয়ের জায়গা ও ক্লাসরুম দখল করে একাধিক অনৈতিক কার্যকলাপের অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। বাঁকুড়া জেলা আদালতের বিচারক ২ দিনের পুলিশ হেফাজতের নির্দেশ দিয়েছেন।

শঙ্কর চক্রবর্তী জেলার ছাতনা পঞ্চায়েত সমিতির প্রাক্তন কৃষি কর্মাধ্যক্ষ। উল্লেখ্য, গত ​২০১৪ সালে ছাতনায় বিধানচন্দ্র কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের একটি ক্যাম্পাস তৈরি হয়। ২০১৯ সালে সেই ক্যাম্পাসটি শুশুনিয়ায় স্থানান্তর করা হয়। সেই সময় থেকে বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিত্যক্ত ক্যাম্পাসটি দখল করেন তৎকালীন তৃণমূল কৃষক সেলের জেলা সভাপতি শঙ্কর চক্রবর্তী। সেই সরকারি জমিতে তিনি নিজস্ব ফলের বাগান, মাছ চাষ ও হাঁস-মুরগির খামার বানিয়ে ব্যবসা শুরু করেন। গত ৭ বছর ধরে এই ব্যবসা চালাচ্ছিলেন বলে স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ। ​বৃহস্পতিবার বিকেলের দিকে ওই ক্যাম্পাস থেকে ট্রাকে করে কাঠ ও অন্যান্য সরকারি সামগ্রী পাচার করছিলেন শঙ্কর চক্রবর্তী। সেই খবর পেয়ে ছাতনার বিজেপি বিধায়ক সত্যনারায়ণ মুখোপাধ্যায়ের নেতৃত্বে কর্মীরা সেখানে হানা দিয়ে তাকে ধরে ফেলে।

এবিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের ডিন দিলীপ কুমার মিশ্র জানান, জমি দখলের বিষয়টি তারা আগে প্রশাসনকে জানালেও কোনও ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। তবে শঙ্করবাবুর দাবি, তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের অনুমতি নিয়েই নিজের কৃষি যন্ত্রপাতি সরিয়ে নিয়ে যাচ্ছিলেন। ছাতনাবাসীদের বক্তব্য, এই শঙ্করবাবুর উত্থান শুভাশিস বটব্যালের আমলে। গত ২০১১ সালে শুভাশিস বটব্যাল ছাতনা বিধানসভার বিধায়ক হন।এই শঙ্কর চক্রবর্তী তখন শুভাশিস বাবুর কান্ডারী ছিল। পরবর্তীতে দলের বাঁকুড়া জেলা সভাপতি ও বাঁকুড়া জেলা পরিষদের সহকারি সভাধিপতির দায়িত্ব পান। এতে শঙ্করবাবুর দাপট আরও বেড়ে যায়।

ছাতনাবাসীদের বক্তব্য, শুভাশিস বাবু তৃণমূল নেত্রীর অত্যন্ত ঘনিষ্ট বলে এলাকায় পরিচিত। তাছাড়া তিনি রাজ্য বীজ নিগমের দায়িত্বে ছিলেন। তাছাড়া তিনি রাজ্য প্রাণী ও মৎস্য বিশ্ববিদ্যালয়ের সদস্য ছিলেন। এতে শঙ্কর বাবুর কৃষি ও পশুপালন দপ্তরে অবাধ প্রভাব ছিল। তার ওপর শঙ্কর বাবু নিজে ছাতনা পঞ্চায়েত সমিতির প্রাক্তন কৃষি কর্মাধ্যক্ষ ছিলেন। তাই এসব কাজকর্ম দেখেও এলাকাবাসী ভয়ে মুখ খোলেননি।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *