Environment Day, Awareness Program, বিশ্ব পরিবেশ দিবস সংবেদনশীলতা কর্মসূচি

পার্থ খাঁড়া, আমাদের ভারত, পশ্চিম মেদিনীপুর, ৪ জুন: বিশ্ব পরিবেশ দিবস উপলক্ষে বিদ্যাসাগর বিশ্ববিদ্যালয়ের নেচার ক্লাব ও বিদ্যাসাগর শিশু নিকেতন মেদিনীপুর- এর যৌথ উদ্যোগে ৪ঠা জুন, বৃহস্পতিবার “বিশ্ব পরিবেশ দিবস সংবেদনশীলতা কর্মসূচি” সফলভাবে আয়োজিত হয়। এই কর্মসূচির মূল উদ্দেশ্য ছিল কচিকাঁচা’দের মধ্যে পরিবেশ সংরক্ষণ, প্রকৃতিপ্রেম এবং পরিবেশ সচেতনতা গড়ে তোলা।

সকাল ৭:৩০ মিনিটে বিদ্যাসাগর শিশু নিকেতন বিদ্যালয় প্রাঙ্গণ থেকে পরিবেশ সচেতনতা বিষয়ক স্লোগান ও শিশুদের নিজে হাতে তৈরি প্ল্যাকার্ডসহ একটি বর্ণাঢ্য সচেতনতা র‌্যালি অনুষ্ঠানের সূচনা হয়। র‌্যালিটি বিদ্যাসাগর বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে পৌঁছায় এবং পরবর্তীতে সকাল ১০টা পর্যন্ত বিভিন্ন কার্যক্রমের মাধ্যমে অনুষ্ঠান পরিচালিত হয়। পুরো কর্মসূচির সমন্বয় করেন বিদ্যাসাগর বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ও নেচার ক্লাবের সক্রিয় সদস্য ড: প্রিয়াঙ্কা হালদার মল্লিক।

শিক্ষার্থীরা অত্যন্ত উৎসাহের সঙ্গে বিভিন্ন পরিবেশভিত্তিক ও অভিজ্ঞতামূলক কার্যক্রমে অংশগ্রহণ করে, যা তাদের মধ্যে পরিবেশগত সংবেদনশীলতা ও দায়িত্ববোধ গড়ে তুলতে সহায়ক হয়। কর্মসূচির উল্লেখযোগ্য আকর্ষণের মধ্যে ছিল বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি, বিশ্ববিদ্যালয়ের অভ্যন্তরীণ বৃষ্টির জল সংরক্ষণ ব্যবস্থা (Rainwater Harvesting System) ও ড্রোন ক্যামেরার প্রদর্শনী, প্রত্নতাত্ত্বিক জাদুঘর ও আবহাওয়া উদ্যান পরিদর্শন, জীববৈচিত্র্য নথিভুক্তকরণের উদ্দেশ্যে প্রকৃতি পরিভ্রমণ, এবং জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ বিষয়ক সচেতনতামূলক আলোচনা।

বিদ্যাসাগর শিশু নিকেতনের গ্রিন ওয়ারিয়র ক্লাবের শিশু ও বিদ্যালয়ের কর্মীদের পাশাপাশি এই কর্মসূচিকে সফল করে তুলতে বিদ্যাসাগর বিশ্ববিদ্যালয়ের একাধিক বিভাগ ও ব্যক্তিবর্গ সক্রিয় সহযোগিতা করেন। উল্লেখযোগ্য – নেচার ক্লাবের আহ্বায়ক ও সদস্যরা সেন্টার ফর এনভায়রনমেন্টাল স্টাডিজ-এর অধিকর্তা, আইকিউএসি’র অধিকর্তা, নৃ- বিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষক, ‘ওয়াইল্ডলাইফ ম্যানেজমেন্ট অ্যান্ড ইকোট্যুরিজম’ কোর্সের শিক্ষার্থীরা এবং প্রাণীবিদ্যা বিভাগের স্বেচ্ছাসেবকরা। আয়োজকরা সার্বিকভাবে অংশগ্রহণকারীদের দিকনির্দেশনা করে একটি প্রাণবন্ত ও শিক্ষামূলক পরিবেশ তৈরি করেন। আয়োজকরা ছোটবেলা থেকেই পরিবেশ সচেতনতা গড়ে তোলার প্রয়োজনীয়তার উপর গুরুত্ব আরোপ করেন এবং উল্লেখ করেন যে, একটি টেকসই ভবিষ্যৎ নির্মাণে নবীন প্রজন্মের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। অনুষ্ঠানের সমাপ্তিতে সকল অংশগ্রহণকারীকে দায়িত্বশীল “ইকো-ওয়ারিয়র” হিসেবে পরিবেশ সংরক্ষণে সক্রিয় ভূমিকা পালনের আহ্বান জানানো হয়।

প্রচণ্ড গরম আবহাওয়া সত্ত্বেও অনুষ্ঠানে সকলের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ ও প্রশংসা বিশেষভাবে লক্ষ্য করা যায়। বিশেষত, বৃক্ষরোপণ এবং ফলের বীজ বিতরণ কর্মসূচি শিক্ষার্থীদের মধ্যে বিশেষ আগ্রহ সৃষ্টি করে, যা একটি সবুজ ও সুস্থ ভবিষ্যতের প্রতি তাদের অঙ্গীকারের প্রতীক হয়ে ওঠে। ফলে, বিশ্ব পরিবেশ দিবস উদযাপনটি হয়ে ওঠে অর্থবহ, শিক্ষণীয় এবং অত্যন্ত সফল।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *