খ্রিস্টান ধর্ম গ্রহণের জন্য লাগাতার চাপ-নির্যাতন , সহ্য করতে না পেরে আত্মঘাতী ১৭ বছরের ছাত্রী

আমাদের ভারত, ৩ ফেব্রুয়ারি: জোর করে খ্রিস্টান ধর্মে ধর্মান্তরিত করার জন্য লাগাতার চাপ সহ্য করতে না পেরে তামিলনাড়ুর থাঞ্জাভুরের একাদশ শ্রেণির এক ছাত্রী কীটনাশক খেয়ে আত্মঘাতী হয়েছে বলে অভিযোগ। আশঙ্কাজনক অবস্থায় তাকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। কিন্তু চিকিৎসায় সাড়া দেয়নি বছর ১৭ এর লাবণ্য। এই মামলায় সিবিআই তদন্তের নির্দেশ দিয়েছে মাদ্রাজ হাইকোর্ট। যদিও তামিলনাড়ু সরকার এই মামলার তদন্তভার সিবিআইয়ের বদলে রাজ্য পুলিশের কাছে ফেরানো হোক এই মর্মে সুপ্রিম কোর্টে আপিল করেছে।

১৭ বছরের লাবণ্য থাঞ্জাভুরের একটি খ্রিস্টান মিশনারি স্কুলের বোর্ডিংয়ে থাকতো। সম্প্রতি একটি ভিডিও সামনে আসে সেখানে লাবণ্যকে বলতে শোনা যায় হোস্টেলের ওয়ার্ডেন তাকে ক্রমগত বকাঝকা করতেন তাকে দিয়ে হোস্টেলের সব ঘর ও বাথরুম জোর করে পরিষ্কার করাতেন। তাকে ক্রমাগত খ্রিস্টান ধর্ম গ্রহণের জন্য চাপ দিতেন। দিনের পর দিন তার উপর হওয়া নির্যাতন সে সহ্য করতে পারছিল না, তাই সে নিজের জীবন শেষ করার জন্য কীটনাশক খায়।

লাবণ্যর বাবাকে জানানো হয় তার মেয়েকে বমি করার কারণে হাসপাতালে ভর্তি করা রয়েছে। কিন্তু মেয়ের শারিরীক পরিস্থিতি খারাপ দেখে তার বাবা তাকে তাঞ্জোর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তরিত করেন। সেখানে কিছুক্ষণের জন্য তার জ্ঞান ফেরে এবং চিকিৎসকদের মৌখিকভাবে লাবণ্য তার আত্মহত্যার চেষ্টার কথা জানায়। এরপরই চিকিৎসকরা এই ঘটনা পুলিশকে জানায়। পুলিশ এসে লাবণ্যকে জিজ্ঞাসাবাদ করে। গত ১৯ জানুয়ারি বুধবার রাতে মৃত্যু হয় লাবণ্যর। ঘটনায় পুলিশ সঠিক পদক্ষেপ করছে এই অভিযোগ করে সিবিআই তদন্তের জন্য আর্জি জানিয়ে হাইকোর্টের দ্বারস্থ হন হন মেয়েটির বাবা। মাদ্রাজ হাইকোর্ট সিবিআই তদন্তের নির্দেশ দেয়। কিন্তু তামিলনাড়ু সরকার এই রায়ের বিরুদ্ধে সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ হয়েছে।

এই ঘটনার প্রতিবাদে সোচ্চার হয়েছে বিজেপি সহ হিন্দুত্ববাদী সংগঠনগুলি। এবিভিপি এই ঘটনার প্রতিবাদে রাস্তায় নেমেছে। সোশ্যাল মিডিয়ায় প্রতিবাদে ঝড় উঠেছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *