চন্দ্রকোনায় ট্রাক্টর উল্টে এক ব্যক্তির মৃত্যুর ঘটনায় আগুন উত্তেজিত জনতার

জে মাহাতো, আমাদের ভারত, মেদিনীপুর, ৪ ফেব্রুয়ারি: চন্দ্রকোনায় ট্রাক্টর চাপা পড়ে এক ব্যক্তির মৃত্যুর ঘটনায় ব্যাপক উত্তেজনা ছড়িয়েছে। উত্তেজিত জনতা আগুন লাগিয়ে একটি জেসিবি মেশিন, ৪টি ট্রাক্টর ও একটি বাইক পুড়িয়ে দিয়েছে।

বৃহস্পতিবার  চন্দ্রকোনা ১ নম্বর ব্লকের মানিককুণ্ডু গ্রাম পঞ্চায়েতের বেলাদন্ড গ্রামে জেসিবি দিয়ে একটি পুকুর খননের কাজ শুরু হয়। রাতে সেখান থেকে ট্রাক্টরে মাটি নিয়ে যাওয়ার সময় গ্রামের ভেতর ট্রাক্টর উল্টে সুকুমার রায় (৩৯) নামে এক বাসিন্দার মৃত্যু হয়। শুক্রবার সকালে সেই খবর ছড়িয়ে পড়তেই ক্ষোভে ফেটে পড়েন এলাকার বাসিন্দারা। একের পর এক গাড়িতে আগুন লাগিয়ে দেন তারা। পুড়ে ছাই হয়ে যায় একটি জেসিবি মেশিন, ৪টি ট্রাক্টর ও একটি বাইক। খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছায় বিশাল পুলিশ বাহিনী ও দমকল কর্মীরা। জনতাকে শান্ত করার চেষ্টা করেন তাঁরা।

স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, বেলাদন্ড গ্রামের বাসিন্দা অরূপ ঘোষ ও নিমাই ঘোষ গ্রাম লাগোয়া জামিরা মৌজায় লোকালয়ের মধ্যে জেসিপি দিয়ে কৃষিজমি খনন করে পুকুর তৈরি করেছিল। পুকুর খননের মাটি রাতের বেলায় গ্রামের ভেতর দিয়ে ট্রাক্টরের করে অন্যত্র নিয়ে যাওয়ার সময় রাস্তার ধারে উল্টে গেলে সুকুমার রায় (৩৯) নামে ওই ব্যক্তির মৃত্যু হয়।  ট্রাক্টর চালকরা ওই ব্যক্তিকে চিকিৎসার ব্যবস্থা না করে তড়িঘড়ি ট্রাক্টর নিয়ে পালিয়ে যায়।

স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, ওই এলাকায় পুকুর খনন করা হলে পার্শ্ববর্তী কৃষিজমিগুলি ক্ষতিগ্রস্ত হবে এবং লোকালয়ে দূষণ বাড়বে বলে তারা দীর্ঘদিন ধরে পুকুর খননে বাধা দিয়েছিলেন। গ্রাম পঞ্চায়েত থেকে শুরু করে বিভিন্ন প্রশাসনিক দপ্তরের লিখিত আবেদন জানানো হয়েছিল। কিন্তু সেসব আপত্তি অমান্য করে পুকুর খনন শুরু করেন ওই ব্যক্তিরা।

“বৃহস্পতিবার রাতে সুকুমার রায়ের মৃত্যুর পরেই ক্ষোভে ফেটে পড়ে এলাকার বাসিন্দারা, উত্তেজিত হয়ে গ্রামের বাসিন্দারা চারটি ট্রাক্টর, একটি জেসিবি মেশিন ও একটি মোটর বাইকে আগুন লাগিয়ে দেয়। ঘটনায় সম্পূর্ণ পুড়ে ভস্মীভূত হয়ে যায় গাড়িগুলি।

মৃত সুকুমারের বাবা নন্দ রায় জানিয়েছেন,  গ্রামের রাস্তার পাশেই বসেছিল ছেলে। রাত ১০টা নাগাদ ট্রাক্টরটি হঠাৎই উল্টে যায়। প্রায় সঙ্গে সঙ্গে তারা জেসিবি এনে ট্র্যাক্টরটি তুলে নিয়ে পালিয়ে যায়।ছেলে যে মাটির তলায় চাপা পড়ে রয়েছে সেদিকে ওদের খেয়ালই ছিল না। আমি চিৎকার চেঁচামেচি করে প্রতিবেশীদের ডাকাডাকি করে ছেলেকে মাটির স্তুপ থেকে টেনে বের করি। কিন্তু ততক্ষণে তার মৃত্যু হয়েছে। ঘটনার পর শুক্রবার সকাল থেকে এলাকা থমথমে।

এলাকাবাসীদের দাবি, ঘটনায় জড়িত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে পুলিশ আইনানুগ ব্যবস্থা নিক এবং মৃত ব্যক্তির পরিবারকে ক্ষতিপূরণ দেওয়ার ব্যবস্থা করুক।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *