নগ্ন করে রাস্তায় ফেলে বেধড়ক মারধর, নিরাপত্তা চেয়ে তৃণমূলের বিরুদ্ধে হাইকোর্টে কংগ্রেস প্রার্থী

আমাদের ভারত, ২২ ডিসেম্বর: কলকাতা পুরভোটের দিন শহর জুড়ে ব্যাপক ভোট লুটের অভিযোগ করেছে বিরোধীরা সকলেই। ভোটের দিন সন্ত্রাসের অভিযোগে পাশাপাশি ভোট পরবর্তী সন্ত্রাসের আশঙ্কাতেও তারা সরব হন। তার মধ্যেই আজ নিরাপত্তা চেয়ে কলকাতা হাইকোর্টের দ্বারস্থ হন কংগ্রেস প্রার্থী রবি সাহা। তার অভিযোগ ভোটের দিন রাতে তাকে রাস্তায় ফেলে নগ্ন করে বেধড়ক মারধর করে তৃণমূলের লোকজন।

বিজেপি, সিপিএম, কংগ্রেস সকলের বক্তব্য ছিল, নির্বাচনে কারচুপির মাধ্যমে তৃণমূল কলকাতা পুরসভার ভোটে সাফল্য অর্জন করেছে। বিজেপি, কংগ্রেস কিংবা বামেরা সকলে এক সুরে কথা বলেছে রাজ্যের শাসকদলের বিরুদ্ধে। ইতিমধ্যেই ভোটের দিন হিংসা ও সন্ত্রাসের অভিযোগে তৃণমূলের বিরুদ্ধে সিপিএম ও বিজেপি হাইকোর্টের দ্বারস্থ হয়েছে। এবার ভোটের দিন এক সাংঘাতিক ঘটনার অভিযোগ নিয়ে হাইকোর্টের দ্বারস্থ হলেন কংগ্রেস প্রার্থী রবি সাহা। ১৬ নম্বর ওয়ার্ডের কংগ্রেস প্রার্থী ছিলেন রবি সাহা। তার অভিযোগ, তাকে রাস্তায় ফেলে ব্যাপক মারধর করেছে তৃণমূলের লোকজন। তার প্যান্ট খুলে নেওয়া হয়েছিল, নগ্ন করে বেধড়ক মারধর করা হয়েছে তাকে। ভোটের দিন এই ঘটনায় বটতলা এলাকায় তুমুল শোরগোল পড়ে ছিল। তৃণমূলের বিরুদ্ধে থানায় অভিযোগ দায়ের করেছিলেন তিনি। এখন রবি সাহা হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।

তার রাস্তায় নগ্ন হয়ে পড়ে থাকার ভিডিও ভাইরাল হয়েছিল সোশ্যাল মিডিয়ায়। ভাইরাল হওয়া ভিডিওতে দেখা গেছে, মার খেতে খেতে বিবস্ত্র অবস্থায় রাস্তায় পড়ে আছেন তিনি। পুলিশের কাছে করা অভিযোগে তিনি লিখেছেন, রাত এগারোটা পনেরো নাগাদ লোহাপট্টি এলাকায় জিনিস কিনতে বেড়িয়েছিলেন তিনি। হঠাৎই তাকে আক্রমণ করে এলাকার কিছু যুবক।

ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন অধীর চৌধুরী। তিনি বলেন, “বাংলায় গণতন্ত্র নয়, চলছে বর্বর দিদিতন্ত্র। একজন মানুষকে জনসমক্ষে নগ্ন করে বেধড়ক পেটানো হলো কলকাতার রাজপথে। কী তাঁর অপরাধ? তার অপরাধ তিনি কংগ্রেসের হয়ে ভোটের দাঁড়িয়েছেন। ছিঃ দিদি ছিঃ ধিক্কার”।

এরপর আজ নিরাপত্তা চেয়ে কলকাতা হাইকোর্টের দ্বারস্থ হলেন কংগ্রেস প্রার্থী রবি সাহা। হাইকোর্টের বিচারপতি তাকে মামলা দায়ের করার অনুমতি দিয়েছেন। বৃহস্পতিবার এই মামলার শুনানি হতে পারে।

বিধানসভা নির্বাচনের পরেও তৃণমূলের বিরুদ্ধে ব্যাপক হিংসার অভিযোগ উঠেছিল। ভোট-পরবর্তী হিংসার ঘটনায় সরব হয়েছিলেন বিরোধীরা। কলকাতা পুরভোটের পড়েও ঠিক একই পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন সকলেই। তাই নিজের নিরাপত্তা চেয়ে আদালতের দ্বারস্থ হলেন কংগ্রেস প্রার্থী।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *