সুশান্ত ঘোষ, আমাদের ভারত, উত্তর ২৪ পরগণা, ১৩ জুলাই: রেশন বন্টনে দীর্ঘদিনের অনিয়ম ও গ্রাহকদের বঞ্চনার অভিযোগের জেরে উত্তর ২৪ পরগনা জেলার অশোকনগরের গুমায় আচমকাই অভিযানে নামলেন রাজ্যের খাদ্যমন্ত্রী অশোক কীর্তনীয়া। সোমবার খাদ্য দফতরের আধিকারিকদের সঙ্গে নিয়ে তিনি সরাসরি পৌঁছে যান অভিযুক্ত রেশন ডিলার শ্যামল সাহার দোকান ও গোডাউনে। মন্ত্রীর এই আকস্মিক অভিযানে এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়।
স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে তাঁদের বায়োমেট্রিক বা আঙুলের ছাপ নেওয়া হলেও রেশনের চাল দেওয়া হচ্ছিল না। একাধিকবার অভিযোগ জানানো হলেও সমস্যার কোনও স্থায়ী সমাধান হয়নি। অভিযোগ পাওয়ার পর বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে খতিয়ে দেখতে নিজেই ঘটনাস্থলে পৌঁছন খাদ্যমন্ত্রী। ডিলারের দোকান ও গোডাউন পরিদর্শনের সময় খাদ্যমন্ত্রী শ্যামল সাহাকে একের পর এক প্রশ্ন করেন। নথিপত্র, স্টক রেজিস্টার এবং বন্টনের হিসাব খতিয়ে দেখে একাধিক অসঙ্গতি ধরা পড়ে বলে প্রশাসন সূত্রে জানা যায়। জিজ্ঞাসাবাদের সময় ডিলারের বক্তব্যেও বেশ কিছু অসামঞ্জস্য ধরা পড়ে, যা রেশন বন্টনে অনিয়মের অভিযোগকে আরও জোরালো করে। তদন্তে এমন প্রমাণও সামনে আসে যে, বহু গ্রাহকের বায়োমেট্রিক নেওয়া হলেও তাঁদের নির্ধারিত রেশন দেওয়া হয়নি। এই অভিযোগের সত্যতা প্রাথমিকভাবে মেলায় খাদ্যমন্ত্রী ক্ষোভ প্রকাশ করেন এবং অভিযুক্ত ডিলারের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেন।

মন্ত্রীর নির্দেশের সঙ্গে সঙ্গেই ডিলার শ্যামল সাহাকে পুলিশ আটক করে। পাশাপাশি রেশন সামগ্রীর গোডাউন সিল করে দেওয়া হয়, যাতে তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত কোনও রকম কারচুপি বা প্রমাণ নষ্ট করার সুযোগ না থাকে। খাদ্য দফতরের পক্ষ থেকে গোটা ঘটনার বিস্তারিত তদন্ত শুরু হয়েছে বলেও জানা গিয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে রেশন থেকে বঞ্চিত হওয়া স্থানীয় বাসিন্দারা খাদ্যমন্ত্রীর এই সরাসরি হস্তক্ষেপে স্বস্তি প্রকাশ করেছেন। তাঁদের বক্তব্য, বহুবার অভিযোগ জানিয়েও কোনও ফল না মেলায় তাঁরা হতাশ হয়ে পড়েছিলেন। কিন্তু এবার মন্ত্রী নিজে এসে তদন্ত করে তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নেওয়ায় প্রশাসনের প্রতি তাঁদের আস্থা অনেকটাই ফিরে এসেছে।
গ্রামবাসীদের একাংশের দাবি, শুধু এই একটি ডিলারের বিরুদ্ধেই নয়, যেখানে যেখানে রেশন বন্টনে দুর্নীতির অভিযোগ রয়েছে, সেখানেও একইভাবে অভিযান চালানো উচিত। তাঁদের আশা, এই ঘটনার পর রেশন ব্যবস্থায় স্বচ্ছতা ফিরবে এবং প্রকৃত উপভোক্তারা তাঁদের প্রাপ্য খাদ্য সামগ্রী নিয়মিতভাবে পাবেন। খাদ্যমন্ত্রীর এই অভিযানের পর এলাকায় দুর্নীতির বিরুদ্ধে প্রশাসনের কড়া অবস্থানের বার্তা স্পষ্ট হয়েছে বলে মনে করছেন স্থানীয়রা। রেশন ব্যবস্থাকে স্বচ্ছ ও দুর্নীতিমুক্ত করতে প্রশাসনের এই পদক্ষেপ আগামী দিনে আরও কঠোর নজরদারির ইঙ্গিত বলেই মনে করা হচ্ছে।

