Ashok Kirtaniya, BJP, বনগাঁর পৌরপ্রধানকে কড়া বার্তা খাদ্যমন্ত্রী অশোক কীর্তনীয়ার, ২৪ ঘণ্টার মধ্যে সমস্যা সমাধানের নির্দেশ

সুশান্ত ঘোষ, আমাদের ভারত, উত্তর ২৪ পরগণা, ৩১ মে: “বনগাঁয় কোনো দাদাগিরি চলবে না। ব্যবসায়ীরা স্বাধীনভাবে ব্যবসা করবেন, সাধারণ মানুষ স্বাধীন দেশের নাগরিক হিসেবে স্বাধীনভাবে বাঁচবেন। কোনো নেতা বা দাদার ইশারায় প্রশাসন চলবে না।” বনগাঁ শহরে পরিদর্শনে এসে এমনই কড়া বার্তা দিলেন পশ্চিমবঙ্গের খাদ্যমন্ত্রী অশোক কীর্তনীয়া।

শহরের বিভিন্ন সমস্যা ও ব্যবসায়ীদের অভিযোগ খতিয়ে দেখতে এদিন বনগাঁর বাজার এলাকায় যান খাদ্যমন্ত্রী। সেখানে স্থানীয় ব্যবসায়ী ও সাধারণ মানুষের কাছ থেকে অভিযোগ পান যে বাজারের একটি গুরুত্বপূর্ণ বাথরুম কারোর কোন অনুমতি ছাড়াই বনগাঁর চেয়ারম্যান ভেঙ্গে দেয়। অভিযোগ, কিছু অসাধু ব্যবসায়ী নিজেদের স্বার্থে ওই জায়গা দখল করে নির্মাণকাজ করেছেন, যার ফলে সাধারণ মানুষের চরম অসুবিধা হচ্ছে। অভিযোগ পাওয়ার পরেই ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি খতিয়ে দেখেন মন্ত্রী। সেখানে উপস্থিত ছিলেন বনগাঁ পৌরসভার চেয়ারম্যান দিলীপ মজুমদার। ঘটনাস্থলেই চেয়ারম্যানকে কড়া ভর্ৎসনা করে খাদ্যমন্ত্রী জানান, আগামী ২৪ ঘণ্টার মধ্যে সমস্যার সমাধান করতে হবে।

তিনি স্পষ্ট ভাষায় বলেন, জনসাধারণের জন্য নির্ধারিত জায়গা দখল করে কোনোভাবেই অবৈধ নির্মাণ মেনে নেওয়া হবে না। মন্ত্রী আরও অভিযোগ করেন, দীর্ঘদিন ধরে তৃণমূল কংগ্রেসের আমলে কিছু ব্যক্তি বিশেষ প্রশাসনিক ও রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে নানা ধরনের সুযোগ-সুবিধা ভোগ করেছেন। এখন রাজনৈতিক পালাবদলের পর সেই একই ব্যক্তিরা নতুন করে বিজেপির নাম ব্যবহার করে সুবিধা নেওয়ার চেষ্টা করছেন। এ বিষয়ে তিনি স্পষ্ট জানিয়ে দেন, বিজেপি সরকারের আমলে কোনো অসাধু ব্যক্তি বা গোষ্ঠীকে প্রশ্রয় দেওয়া হবে না।

অশোক কীর্তনীয়া বলেন, “যারা এতদিন রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে সাধারণ মানুষের অধিকার কেড়ে নিয়েছে, তাদের বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে। ব্যবসা করার অধিকার সকলের আছে, কিন্তু বেআইনি দখলদারি বা জবরদস্তি কোনোভাবেই বরদাস্ত করা হবে না।” এদিন মন্ত্রীর এই কড়া অবস্থানের ফলে বাজার এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়। বহু ব্যবসায়ী ও সাধারণ মানুষ মন্ত্রীর বক্তব্যকে স্বাগত জানান। তাঁদের দাবি, দীর্ঘদিন ধরে কিছু প্রভাবশালী ব্যক্তি বাজার এলাকার বিভিন্ন জায়গা দখল করে নিজেদের স্বার্থসিদ্ধি করেছেন, যার ফলে সাধারণ ব্যবসায়ীরা সমস্যার মুখে পড়েছেন।

খাদ্যমন্ত্রী জানান, বনগাঁ শহরে স্বচ্ছ প্রশাসন ও আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা করাই সরকারের লক্ষ্য। সাধারণ মানুষের স্বার্থবিরোধী কোনো কাজ হলে প্রশাসন দ্রুত ব্যবস্থা নেবে বলেও তিনি আশ্বাস দেন। রাজনৈতিক মহলের মতে, বনগাঁ শহরে অবৈধ দখলদারি ও প্রভাবশালী গোষ্ঠীর বিরুদ্ধে খাদ্যমন্ত্রীর এই প্রকাশ্য কড়া বার্তা আগামী দিনে শহরের প্রশাসনিক ব্যবস্থায় গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলতে পারে।

বনগাঁর পৌরপ্রধান দিলীপ মজুমদার বলেন, বিধায়ক অশোকবাবুর কথা মতোই কাজ ২৪ ঘন্টার মধ্যে হবে। একইসঙ্গে ব্যবসায়ী মহলও আশা করছে, বাজার এলাকার দীর্ঘদিনের বিভিন্ন সমস্যার দ্রুত সমাধান হবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *