সোমনাথ বরাট, আমাদের ভারত, বাঁকুড়া, ৩১ মে: গতকাল সোনারপুরে তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক ব্যানার্জির ওপর হামলার প্রতিবাদে আজ বড়জোড়ায় ব্লক তৃণমূল কংগ্রেসের পক্ষ থেকে বিক্ষোভ মিছিলের আয়োজন করা হয়। এই মিছিলে নেতৃত্ব দেন দলের ব্লক সভাপতি কালিদাস মুখার্জি ও সদ্য প্রাক্তন বিধায়ক অলক মুখার্জি।এছাড়া উপস্থিত ছিলেন জেলা পরিষদের কৃষি কর্মাধ্যক্ষ সুখেন বিদ।
গত নির্বাচনের আগে কালিদাস মুখার্জি বা অলক মুখার্জি ডাকলে যেভাবে শয়ে শয়ে লোক এসে তৃণমূলের মিটিং মিছিলে যোগ দিতেন এদিন সেই সমাগম চোখে পড়েনি। বড়জোড়ায় প্রাক্তন বিধায়কের কার্যালয় থেকে মিছিল শুরু হয়ে বড়জোড়া বাজার পরিক্রমা করার পর চৌমাথা মোড়ে প্রতিবাদ সভা অনুষ্ঠিত হয়। তৃণমূল ব্লক সভাপতি কালিদাস মুখার্জি ক্ষোভের সঙ্গে বলেন, আজকের এই মিছিল যাতে করতে না পারি সেজন্য আমাদেরকে থ্রেট করা হয়েছে। কর্মীদের ভয় দেখানো হয়েছে। এই ২৬ দিনের সরকারের রক্তচক্ষু উপেক্ষা করে কর্মীরা মিছিলে হেঁটেছেন।
কালিদাস মুখার্জি বলেন, বিজেপি গণতন্ত্রের কন্ঠরোধ করে সরকার চালাতে চাইছে। সেই কারণে বিরোধী দলের নেতা, একজন সাংসদকে যেভাবে মারধর করা হয়েছে তা গণতন্ত্রের লজ্জা। ধিক্কার জানানোর ভাষা নেই। প্রাক্তন বিধায়ক অলক মুখার্জি বলেন, সোনারপুরে একজন দলীয় কর্মী খুন হয়েছেন। তার বাড়িতে তার পরিবারের লোকজনকে সান্ত্বনা ও সমবেদনা জানাতে গিয়েছিলেন তৃণমূলের সর্ব ভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। বিজেপি পরিকল্পিত ভাবে তার উপর আক্রমণ করেছে। তিনি বলেন, জেলায় জেলায় তৃণমূল কর্মীদের গ্রেফতার করা হচ্ছে। তিনি বলেন, বিজেপি ভাবছে এই ভাবে গ্রেফতারের ভয় দেখিয়ে তৃণমূলকে দমিয়ে রাখবে। কিন্তু আমরা কিভাবে আন্দোলন করি তা সিপিএম জানে। এবার বিজেপি দেখবে তৃণমূলের আন্দোলন কাকে বলে।
এপ্রসঙ্গে বিষ্ণুপুরের সাংসদ সৌমিত্র খাঁ বলেন, অলক বাবুদের সেনাপতি তার কৃতকর্মের ফল ভোগ করেছেন। উনিতো পিসির কোলে চেপে রাজনীতিতে এসেছেন। এবার বুঝুন বিরোধী রাজনীতি করা কত কঠিন। বড়জোড়ার তৃণমূল নেতাদের উদ্দেশে সৌমিত্র খাঁ বলেন, আপনারা আন্দোলন করুন। আমরা চাই আপনারা পথে নেমে আমাদের ভুলগুলো ধরিয়ে দিন। আপনাদের আন্দোলন আমাদের সঠিক দিশা যেমন দেখাবে তেমনি আমরা তা উপভোগও করবো।

