আমাদের ভারত, ৩১ মে: যেখানে সেখানে ময়লার পাহাড়। রাস্তার পাশে আবর্জনার স্তূপ। তার থেকে ছড়াচ্ছে দুর্গন্ধ। পরিষ্কার করার লোক আসে না। এবার এই পরিস্থিতি থেকে মুক্তি মিলতে চলেছে। এই সমস্যার সমাধানে নতুন অ্যাপ চালু করলো রাজ্য সরকার। অ্যাপের নাম স্বচ্ছ অ্যাপ।
আবর্জনার স্তূপের ছবি তুলে ওই অ্যাপে পাঠালেই তা পরিষ্কার করে দেওয়া হবে কয়েক মিনিটের মধ্যে। নিউটাউনে কেন্দ্রীয় আবাসন ও পুরো বিষয়ক মন্ত্রী মনোহর লাল খট্টরের সঙ্গে বৈঠক করেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। বৈঠকের পর এই নতুন অ্যাপের কথা জানান তিনি। আপাতত ১০টি পুরসভায় স্বচ্ছ অ্যাপ চালু হচ্ছে। শুভেন্দু অধিকারী জানান, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর স্বচ্ছ ভারত প্রকল্পের সঙ্গে যুক্ত হয়ে স্বচ্ছতার উপর জোর দেওয়া হচ্ছে এই রাজ্যে।
আপাতত আসানসোল, দুর্গাপুর, বসিরহাট, পূজালী, তুফানগঞ্জ, কাঁথি, কৃষ্ণনগর, বৈদ্যবাটি, মধ্যমগ্রাম পৌরসভায় চালু হচ্ছে এই নতুন অ্যাপ। পরে রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তে এই পরিষেবা পৌঁছে দেওয়া হবে।
পাশাপাশি কেন্দ্রের অন্য প্রকল্পগুলির কথাও বলেন শুভেন্দু অধিকারী। তিনি বলেন, রাজ্যে উন্নয়ন যেভাবে হওয়া উচিত ছিল সেভাবে হয়নি। ফলে এখন অনেক পিছিয়ে গিয়েছি আমরা। পুনরুদ্ধারের প্রয়োজন। রাজ্যে বিদ্যুতের ক্ষেত্রেও জোর দেওয়ার কথা বলেন মুখ্যমন্ত্রী। তাঁর কথায়, আমাদের পাওয়ার সেক্টরে অনেক কাজ করতে হবে। অনেক জায়গায় বেশি বেশি বিদ্যুৎ বিল আসছে। রোধ করতে হবে। তার জন্য কেন্দ্রে সূর্য ঘর প্রকল্পের কাজ হওয়া উচিত। তিনি জানান, দেশের অন্য কুড়িটি রাজ্যের মত পশ্চিমবঙ্গ এখন ডাবল ইঞ্জিনের সুবিধা পেতে শুরু করেছে। পশ্চিমবঙ্গ এতদিন পিছিয়ে ছিল, কোনো উন্নয়ন হয়নি। বিজেপি সরকার আসার পর একে একে পশ্চিমবঙ্গের কেন্দ্রীয় প্রকল্পগুলি চালু করার কাজ শুরু হয়েছে। জল জীবন মিশন, আয়ুষ্মান ভারতের মতো প্রকল্পগুলির জন্য সংশ্লিষ্ট মন্ত্রকের মন্ত্রীর সঙ্গে তাঁর কথা হয়েছে বলেও জানিয়েছেন শুভেন্দু অধিকারী। তাঁর কথায়, আর্থিক সহায়তা মিলতে শুরু করেছে।
ডিভিসি প্রসঙ্গে আগের সরকারকে খোঁচা দিয়ে শুভেন্দু অধিকারী বলেন, অতীতে বন্যায় প্লাবনের জন্য তৎকালীন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বারবার ডিভিসিকে দায়ী করতেন। তাঁর অভিযোগ ছিল, ডিভিসি নিয়মিত পরিষ্কার করে না। রাজ্য সরকারকে না জানিয়ে তারা জল ছাড়ে। আর সেই কারণেই বন্যা পরিস্থিতি তৈরি হয়। এই বিষয়ে উল্লেখ করে শুভেন্দু অধিকারী বলেন, ডিভিসি’কে মিথ্যে অভিযোগ করতো আগের সরকার। আমরা ডিভিসির সঙ্গে মিলে কাজ করবো। ভারত সরকারের প্রত্যেক দফতরের সঙ্গে মিলে কাজ করা হবে বলে জানান শুভেন্দু অধিকারী।

