BJP, Bangaon Municipality, বনগাঁ পৌরসভার অনিয়মে কড়া বার্তা খাদ্যমন্ত্রী অশোক কীর্তনীয়ার, সামনে এল ৪ কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগ

সুশান্ত ঘোষ, আমাদের ভারত, উত্তর ২৪ পরগণা, ২৯ মে: বনগাঁ পৌরসভাকে ঘিরে দুর্নীতি ও আর্থিক অনিয়মের অভিযোগে ফের উত্তাল রাজনৈতিক মহল। পৌরসভার জমিতে অবৈধভাবে মার্কেট নির্মাণ এবং প্রায় চার কোটি টাকা আত্মসাতের গুরুতর অভিযোগ সামনে আসতেই কড়া অবস্থান নিলেন খাদ্যমন্ত্রী তথা বনগাঁর বিধায়ক অশোক কীর্তনীয়া। তিনি স্পষ্ট ভাষায় জানান, “বনগাঁ পৌরসভায় কোনও রকম দুর্নীতি বরদাস্ত করা হবে না। গত ১৫ বছরে মানুষের টাকার কী হিসাব হয়েছে, সব সামনে আনতে হবে।”

অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দু বনগাঁ নিউ মার্কেট এলাকা। তৃণমূল পরিচালিত পৌরসভার ভাইস চেয়ারম্যান জ্যোৎস্না আঢ্য বিস্ফোরক অভিযোগ তুলে দাবি করেছেন, পৌরসভার অনুমতি ছাড়াই নিউ মার্কেট এলাকায় অবৈধভাবে মার্কেট নির্মাণ করা হয়েছে। তাঁর অভিযোগ, ওই এলাকার কাউন্সিলর ও নিউ মার্কেট বাজার কমিটির সভাপতি নিত্যগোপাল দাস ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে প্রায় চার কোটি টাকা তুলেছেন। অথচ সেই বিপুল পরিমাণ অর্থের এক টাকাও পৌরসভার তহবিলে জমা পড়েনি। ভাইস চেয়ারম্যানের দাবি, গোটা টাকা আত্মসাৎ করা হয়েছে। বিষয়টি নিয়ে তৎকালীন চেয়ারম্যান, জেলা পুলিশ সুপার ও মহকুমা শাসকের কাছে লিখিতভাবে তদন্তের দাবিও জানানো হয়েছিল। কিন্তু এতদিনেও তদন্তের কোনও অগ্রগতি হয়নি বলে অভিযোগ।

এই প্রসঙ্গে বনগাঁ পৌরসভার তৎকালীন চেয়ারম্যান দিলীপ মজুমদার-এর সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি ফোন কেটে দেন বলে অভিযোগ। ঘটনাকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক চাপানউতর শুরু হয়েছে। অশোকবাবুর দাবি, দীর্ঘদিন ধরেই বনগাঁ পৌরসভায় দুর্নীতি, কাটমানি এবং আর্থিক অনিয়ম চলছিল। এবার সেই সমস্ত তথ্য একে একে সামনে আসছে।

এদিন খাদ্যমন্ত্রী অশোক কীর্তনীয়া সরাসরি বনগাঁ মহকুমা শাসকের কাছে নির্দেশ দিয়ে বলেন, পৌরসভার সমস্ত ফাইল খুলে খতিয়ে দেখতে হবে। কোথায় কত টাকা খরচ হয়েছে, কোন প্রকল্পে কত বরাদ্দ এসেছে, সব কিছুর পূর্ণাঙ্গ তদন্ত করতে হবে। তিনি আরও বলেন, “মানুষের করের টাকা লুট হয়েছে কি না, তা খুঁজে বের করতেই হবে। কেউ দোষী হলে আইন আইনের পথেই চলবে।

এই ঘটনায় বনগাঁ শহর জুড়ে ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। ব্যবসায়ী মহল থেকে সাধারণ মানুষ, সকলের মধ্যেই এখন একটাই প্রশ্ন, সত্যিই কি কোটি কোটি টাকার দুর্নীতি হয়েছে? আর যদি হয়ে থাকে, তবে সেই টাকার হিসাব কোথায়? রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, পৌরসভার অভ্যন্তর থেকেই যখন দুর্নীতির অভিযোগ উঠছে, তখন আগামী দিনে এই ইস্যু আরও বড় রাজনৈতিক বিতর্কের রূপ নিতে পারে। এখন নজর প্রশাসনের তদন্তে কী উঠে আসে সেদিকেই।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *