সোমনাথ বরাট, আমাদের ভারত, বাঁকুড়া, ৪ জুন: মেজিয়া তারাপুর ঝিলের লিজ সাংসদ অরূপ চক্রবর্তীর ভাইকে পাইয়ে দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ এনে এই বেআইনি লিজ বাতিলের দাবিতে মৎস্যজীবীদের বিক্ষোভে উত্তাল মেজিয়া।
তাদের অভিযোগ, তৃণমূলের বাঁকুড়ার সাংসদ অরূপ চক্রবর্তীর ভাইকে অবৈধ ভাবে জেলা পরিষদ থেকে ঝিলের লিজ দেওয়া হয়েছে। এই লিজ বাতিল করতে হবে। এই লিজ দেওয়ার বিষয়টি তদন্ত করে দেখারও দাবি জানায় তারা। বৃহস্পতিবার তপ্ত গরমের মধ্যেই মৎস্যজীবী সমিতি ও মৎস্যজীবি শ্রমিক ফেডারেশনের মেজিয়া ব্লক কমিটির উদ্যোগে প্রতিবাদ মিছিল করে স্থানীয় বিডিও’র কাছে গণ ডেপুটেশন দেওয়া হয়।স্থানীয় বিডিও ও ফিশারি অফিসারের কাছে ১৬ দফা দাবি নিয়ে গণ ডেপুটেশন দেওয়া হয়।
মেজিয়ার সিপিআইএম কার্যালয় থেকে মিছিল শুরু হয়, তারপর বাজার ঘুরে বিডিও অফিস চত্বরে আসে। সেখানে বিক্ষোভ সভায় বক্তব্য রাখেন সারা ভারত কৃষক সভার জেলা নেতা সুজয় চৌধুরী, শ্রমিক নেতা শেখ ইলিয়াস, কৃষক সভার ব্লক সম্পাদক বিপ্রয় দাস, খেতমজুর ইউনিয়নের ব্লক সম্পাদক সুভাষ বাউরি প্রমুখ। মৎস্যজীবী সমিতির ব্লক সম্পাদক স্বপন ধীবরের নেতৃত্বে ৫ জনের এক প্রতিনিধি দল স্মারকলিপি দেন।
তাদের অভিযোগ, মেজিয়ার তারাপুর ঝিলের লিজ স্বজন পোষণ করে তৃণমূল সাংসদের ভাইকে বাঁকুড়া জেলা পরিষদ থেকে দেওয়া হয়েছে। দুর্নীতি করে দেওয়া সেই লিজ বাতিল করে, ঝিল কেড়ে নিয়ে, মাছ চাষিদের তুলে দেওয়ার দাবি করেন তারা। তারাপুর ঝিল দখল মুক্ত করা ছাড়াও পুকুর ভরাট করা ও ভরাটকারিদের কঠোর শাস্তি, সরকারি উদ্যোগে নতুন পুকুর ও ডোবা খনন করা এবং পুরাতন জলাশয়গুলি মৎস্যজীবীদের কাছে মাছ চাষ করার জন্য তুলে দেওয়ার দাবি করা হয়।
এছাড়া ১০০ দিনের কাজ চালু, পঞ্চায়েত এলাকায় উন্নয়ন, পানীয় জল সরবরাহ সুনিশ্চিত করা, কারখানা স্থাপন করে বেকারদের কাজ দেওয়া, অন্নপূর্ণা যোজনা সহ বিভিন্ন ভাতাগুলি ঘোষণা মত কার্যকরী করা, জমির রেকর্ড করা, বিদ্যুতের ২০০ ইউনিট মাশুল ছাড়, গ্যাসের দাম ৪৫০ টাকা করার দাবি করেন তারা। বিডিও বিষয়গুলি উচ্চ স্তরে জানাবেন ও কার্যকরী ব্যবস্থা নেবেন বলে আশ্বাস দেন।
এই কর্মসূচিতে উপস্থিত ছিলেন মৎস্যজীবী আন্দোলনের রাজ্য নেতা শরৎ পাল, প্রবীণ নেতা জিতেন ভান্ডারী। স্থানীয় সাংসদ ও দাপুটে তৃণমূল নেতার বিরুদ্ধে অসংখ্য মানুষ আন্দোলনে নামায় রাস্তার পাশে কৌতুহলী মানুষ ভিড় জমায়।

