রাজেন রায়, কলকাতা, ৩ জানুয়ারি: প্রথম দফায় কনটেইনমেন্ট জোনের স্মৃতি এখনো ঝাপসা হয়নি শহরবাসীর। দ্বিতীয় দফায় ফের ফিরে এসেছিল কনটেইনমেন্ট জোন। আর এবার করোনা সংক্রমনের বাড়বাড়ন্ত রুখতে আবারো শহরের ২৫ টি জায়গাকে মাইক্রো কনটেনমেন্ট জ়োন হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছে। সোমবার এমনটাই জানিয়েছেন কলকাতার মহানাগরিক ফিরহাদ হাকিম। এর পাশাপাশি ফিরছে সেফ হোমের ব্যবস্থাও।
প্রাথমিকভাবে পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার জন্য হরেকৃষ্ণ শেঠ লেন, গীতাঞ্জলি স্টেডিয়াম সহ মোট তিনটি সেফ হোম চালু করা হচ্ছে। সোমবার পুরনিগমের বৈঠকের পর ২৫ টি মাইক্রো কনটেনমেন্ট জোনের কথা ঘোষণা করা হয়েছে। পরিবর্তিত পরিস্থিতিতে রাজ্যে কনটেইনমেন্ট জোনের সংজ্ঞা বদলেছে। আগে যেখানে একটি বড় এলাকা বা একটি গোটা পাড়াকে কনটেনমেন্ট জ়োন হিসেবে ঘোষণা করে এলাকার প্রবেশপথ বাঁশ, পুলিশের ব্যারিকেড দিয়ে আটকে দেওয়া হত, এখন পরিস্থিতি তেমন নয়। বর্তমানে ছোট ছোট এলাকা চিহ্নিত করে মাইক্রো কনটেনমেন্ট জ়োন ঘোষণার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এ ক্ষেত্রে এক একটি মাইক্রো কনটেনমেন্ট জোনের মধ্যে একটি বহুতল ফ্ল্যাট বা একটি একক বাড়িও হতে পারে। সোমবার সাংবাদিক বৈঠকে এমনটাই জানিয়েছেন মেয়র ফিরহাদ হাকিম।
ফুলবাগান থানা এলাকার মধ্যে তিনটি কনটেনমেন্ট জোন চিহ্নিত করা হয়েছে। এর মধ্যে দুটি বস্তি এলাকা এবং একটি ফ্ল্যাট। মানিকতলা থানা এলাকার একটি কমপ্লেক্সকে কনটেনমেন্ট জোন করা হয়েছে। বউবাজার থানা এলাকার একটি ফ্ল্যাট রয়েছে তালিকায়। হরিদেবপুর থানা এলাকার ১৪৪ নম্বর ওয়ার্ডে বেশ কয়েকটি হোস্টেলকে কনটেনমেন্ট জোন করা হয়েছে। এই তালিকায় রয়েছে টাটা হল আইসোলেশন হোস্টেল (আইআইএম কলকাতা), রামানুজন হোস্টেল (আইআইএম কলকাতা), লেক ভিউ হোস্টেল এবং নিউ হোস্টেল। এছাড়া প্রগতি ময়দান থানা এলাকায় দুটি, বউবাজার থানা এলাকায় একটি, ট্যাংরা এবং তপসিয়া থানা এলাকায় একটি করে, শেক্সপিয়র সরণি থানা এলাকায় তিনটি, কড়েয়া থানা এলাকায় চারটি, একবালপুর থানা এলাকায় দুটি কনটেনমেন্ট জোন চিহ্নিত করা হয়েছে। এ ছাড়া, আনন্দপুর ও সার্ভে পার্ক থানা এলাকাতেও রয়েছে একটি করে কনটেনমেন্ট জোন।

