FIR, Birbhum, অবৈধ বালি মজুত রাখার অভিযোগ, এফআইআর ব্যবসায়ী টুলু মণ্ডলের বিরুদ্ধে

আশিস মণ্ডল, আমাদের ভারত, ৫ জুলাই: অবৈধভাবে বালি মজুত রাখার দায়ে বিতর্কিত ব্যবসায়ী নিজামউদ্দিন মণ্ডল ওরফে টুলু মণ্ডলের বিরুদ্ধে এফ আই আর করার আবেদন জানালো মহম্মদ বাজার ব্লক ভূমি ও ভূমি সংস্কার দফতর। শনিবার বিকেলে তদন্তে বেড়িয়ে পাহাড় সমান বালির স্তুপ দেখে চক্ষু চড়ক গাছ ভূমি সংস্কার আধিকারিকদের। এরপরেই তারা এফআইআর করার সিদ্ধান্ত নেন। সেই মতো মহম্মদ বাজার থানায় অভিযোগ দায়ের করে ভূমি সংস্কার দফতর।

জানা গিয়েছে, এক সময় বীরভূমের মহম্মদ বাজার এলাকার দোর্দণ্ড প্রতাপ ব্যবসায়ী ছিলেন নিজামউদ্দিন মণ্ডল ওরফে টুলু মণ্ডল। নিজস্ব পাথর ব্যবসা ছাড়াও বীরভূমের ছয়টি পাথর শিল্পাঞ্চলের সরকারি রাজস্ব আদায়ের দায়িত্ব ছিল তার কাঁধে। ফলে সরকারি রাজস্ব ফাঁকি দিয়ে প্রতিমাসে কোটি কোটি টাকা উপার্জন করে তিনি ফুলে ফেঁপে উঠেছেন বলে অভিযোগ। এক সময় তার ইশারাতেই চলত রাজনৈতিক দলের নেতা- মন্ত্রী থেকে পুলিশ প্রশাসন। বিজেপি ক্ষমতায় আসার আগে একাধিকবার এই টুলু মণ্ডলকে গ্রেফতারের দাবি তুলেছিলেন। ক্ষমতায় এসে টুলুর হাত থেকে পাথর শিল্পাঞ্চলের রাজস্ব আদায়ের দায়িত্ব কেড়ে ভূমি ও ভূমি সংস্কার দফতরের হাতে দেয় সরকার। এরপরেই মাসে রাজস্ব আদায় কয়েকগুণ বেড়ে যায়।

বিজেপির দাবি, বর্তমানে জেলার পাথর শিল্পাঞ্চল থেকেই মাসে একশো কোটি টাকা আদায় হয়। সেখানে টুলু মণ্ডল বিদায়ী সরকারের আমলে ১৫-২০ কোটি টাকা মাসে জমা করত। সেই সঙ্গে একাধিক ঘাট থেকে বালি তুলে পাচার করত জেলা ছাড়িয়ে ভিন জেলায়। সেই সময় এক শ্রেণির পুলিশের মদতেই অবৈধ ব্যবসায় চালিয়ে এসেছিল টুলু মণ্ডল। এমনকি টুলু মণ্ডলের নজর এড়িয়ে যাওয়া বালি বোঝাই লরি ট্রাক্টর ধরে পুলিশ ওই দোর্দণ্ড প্রতাপ ব্যবসায়ীর পার্কিং জোনেই মজুত করত। সেই বালি শনিবার বাজেয়াপ্ত করে ভূমি সংস্কার দফতর। যার পরিমাণ ৩,১২৯০৬ সিএফটি। কিন্তু এই পাহাড় প্রমাণ বালি একদিনে মজুত করা সম্ভব নয় বলে মনে করছেন অনেকে।

মহম্মদ বাজার ভূমি ও ভূমি সংস্কার আধিকারিক আনন্দ বিশ্বাস বলেন, “উনার বালি তোলার সরকারি অনুমতি ছিল। সেই বালি সরকারি কাজে ব্যবহার করার কথা ছিল। কিন্তু তিনি সেই বালি সরকারি কাজে ব্যবহার না করে রাতের অন্ধকারে নিজের পার্কিং-এ মজুত করে রেখেছিলেন। আমি পুলিশের কাছে এফ আই আর করার আবেদন জানিয়েছি। এরপর আইন মোতাবেক ব্যবস্থা নেওয়া হবে”।

ব্যবসায়ী টুলু মণ্ডল বলেন, “আমি সরকারি ঠিকাদার। এখনও পর্যন্ত ১৫০ কোটি টাকা ব্যয়ে ৫০-৬০ টি রাস্তার কাজ চলছে। সেই কারণে ওখানে বালি মজুত করা হয়েছিল। তবে সবটাই বালি নয়, মাটি– বালি– কাঁকড় রয়েছে। ওই সমস্ত মাটি ও বালি রাস্তার কাজে ব্যবহার করা হয়। সব কিছু বৈধ থাকার পরও প্রশাসন আমার পার্কিং জোনে তালা ঝুলিয়ে দিয়েছে। সেখানে সিমেন্ট, লরি, জেসিবি মেশিন, রাস্তা নির্মাণের সরঞ্জাম রয়েছে। প্রশাসন পার্কিং জোনে তালা ঝুলিয়ে দেওয়ায় রাস্তার কাজ বন্ধ। এখন আমি আইনি লড়াই চালিয়ে যাব।”

বিজেপির বীরভূম সাংগঠনিক জেলা সভাপতি উদয় শঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, “ওই ব্যক্তি পূর্বতন সরকারের আমলে অনৈতিক ভাবে ব্যবসা চালিয়ে ফুলে ফেঁপে উঠেছেন। ওই সকারের আমলে অবৈধভাবে বালি মজুত করেছিলেন। পুলিশ প্রশাসন সব জেনেও চোখ বন্ধ করে ছিল। এখন আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা হয়েছে। ফলে ব্যবসা করতে গেলে সরকারি নিয়ম মেনেই করতে হবে।”

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *