Tarapith, Birbhum, দেড় বছর পরে তারাপীঠ মন্দির কমিটির অ্যাকাউন্টে জমা পড়ল আড়াই কোটি টাকা

আশিস মণ্ডল, আমাদের, ৫ জুলাই: প্রায় দেড় বছর পর তারাপীঠ মন্দিরের আড়াই কোটি টাকা জমা হলো মন্দির কমিটির অ্যাকাউন্টে। ইতিমধ্যে প্রায় দুই কোটি টাকা খরচ করে দেওয়া হয়ে জীবিতকুণ্ড সংস্কারের নামে। সেটা নিয়েও তদন্ত শুরু করেছে জেলা প্রশাসন। নতুন কমিটি জানিয়েছে, দায়িত্বভার গ্রহণ করার পরেই সমস্ত আয় ব্যয়ের হিসাব হবে।

প্রসঙ্গত, তারাপীঠ মন্দিরের নিয়মকানুন নিয়ে পূর্বতন জেলা শাসক বিধান রায় কিছু শর্ত আরোপ করেছিলেন। কিছুদিন সেই নিয়াম মেনে চলার পর ফের মন্দিরের সেবাইতদের নিয়মই প্রতিষ্ঠা পায়। ২০২৪ সালের ১৭ ডিসেম্বর একটি অস্থায়ী কমিটি গঠন করে দেন বিধান রায়। সেই কমিটির প্রধান করা হয় বামাপদ মুখোপাধ্যায় ওরফে রবিকে। তাকে সহযোগিতার নির্দেশ দেওয়া হয় মন্দির কমিটিকে। দায়িত্ব পাওয়ার পর মন্দিরের নিত্যদিনের মোটা অঙ্কের আয়ের টাকা নিজের কাছে গচ্ছিত রেখেছিলেন রবিবাবু। এনিয়ে মন্দিরের সেবাইতদের মধ্যে অসন্তোষের সৃষ্টি হয়। তবে পূর্বতন শাসক দলের ভয়ে প্রকাশ্যে কেউ মুখ খুলতে চাননি। সরকার পরিবর্তন হতেই মন্দির কমিটি নিয়ে কথা উঠতে শুরু করে। তারাপীঠ- রামপুরহাট উন্নয়ন পর্ষদের বৈঠকে মন্দিরের অনিয়ম নিয়ে তদন্তের আবেদন জানান রামপুরহাটের বিজেপি বিধায়ক ধ্রুব সাহা। এরপরেই জেলা শাসকের তত্ত্বাবধানে তদন্ত শুরু হয়। এরই মাঝে ১ জুলাই পুরনো কমিটি ভেঙে দিয়ে নিখিল বন্দ্যোপাধ্যায়কে সভাপতি এবং পুলক চট্টোপাধ্যায়কে সম্পাদক করে ১৫ জনের নতুন কমিটি গড়া হয়। শনিবার ফের তারাপীঠ- রামপুরহাট উন্নয়ন পর্ষদের বৈঠক ডাকা হয়। সেখানেই অতিরিক্ত জেলা শাসক মন্দিরের টাকা ব্যাঙ্কের অ্যাকাউন্টে জমা দেওয়ার নির্দেশ দেন। তারপরেই ২ কোটি ৫০ লক্ষ টাকা মন্দিরের একটি অ্যাকাউন্টে জমা করা হয়।

বামাপদ মুখোপাধ্যায় বলেন, “আগে আমার সঙ্গে অনেক সেবাইত ছিলেন। কিন্তু এখন কাউকে পাচ্ছি না। আমি প্রথম থেকে চেয়েছিলাম টাকা অ্যাকাউন্টে রাখব। কিন্তু মন্দির কমিটির নামে ৫টি অ্যাকাউন্ট রয়েছে। যার অপারেটর ভিন্ন। তাই গণ্ডগোলের আশঙ্কায় ব্যাঙ্কে টাকা রাখা সম্ভব হয়নি। তাছাড়া সেই সময় সমস্ত পাসবই আমাকে দেওয়া হয়নি। বিভিন্ন কারণে টাকা আমার কাছে গচ্ছিত ছিল। শনিবার জেলা প্রশাসনের নির্দেশে আড়াই কোটি টাকা মন্দির কমিটির একটি অ্যাকাউন্টে জমা করা হয়েছে। তিন আরও জানান, গচ্ছিত টাকা থেকে ১ কোটি ৯৫ লক্ষ টাকা জীবিতকুণ্ড সংস্কারে খরচ করা হয়েছে”।

মন্দিরের সম্পাদক পুলক চট্টোপাধ্যায় বলেন, “আমরা প্রশাসনের নিয়ম মেনেই মন্দির পরিচালনা করছি। পুরনো কমিটি এখন দায়িত্ব বুঝিয়ে দেয়নি। আমরা মন্দিরের আয়ের টাকা ব্যক্তিগতভাবে গচ্ছিত রাখার বিরোধিতা করে এসেছিলাম। এতদিন তার ফল মিলল। আমরা ১ জুলাই থেকে নতুন কমিটি কাজ করছি। সমস্ত হিসাব বুঝে অ্যাকাউন্ট হাতে পেলে নিয়মিত মন্দিরের টাকা ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে জমা রাখব।”

মন্দিরে মায়ের বেদি বেশ কিছুটা নামানোর বিষয়ে পুলকবাবু বলেন, “আমরা পুন্যার্থীদের কথা মাথায় রেখে মা তারা যেখানে বসেন সেই বেদি কিছুটা নামানোর মনস্থির করে প্রশাসনকে জানিয়েছি। কিন্তু পুরনো মন্দির, সেই বেদি ভেঙে মায়ের মূর্তি আদৌ নামানো যাবে কিনা সে বিষয়ে যাদবপুর এবং খড়্গপুর আইআইটির অনুমোদনের অপেক্ষায় রয়েছি। তারা অনুমোদন দিলে তবে মায়ের মূর্তি কিছুটা নিচে নামানো যাবে। মূর্তি কিছুটা নিচে নামালে বাইরে থেকে পুন্যার্থীরা মায়ের মুখমণ্ডল দর্শন করতে পারবে।”

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *