আমাদের ভারত, ৪ জুলাই: আপাতত দুর্গাপুজো পর্যন্ত উচ্ছেদ বন্ধ থাকবে। হকার সংগঠনের প্রতিনিধিদের এমনই আশ্বাস দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। যদিও রেলের জমিতে হকার উচ্ছেদে রাজ্য সরকারের কোনো হাত নেই, সেকথা মুখ্যমন্ত্রী স্পষ্ট ভাষাতেই বুঝিয়ে দিয়েছেন।
রেলের জমিতে উচ্ছেদের বিষয়ে তিনি কেন্দ্রের সঙ্গে কথা বলতে পারেন বলে জানান মুখ্যমন্ত্রী। আপাতত হকার উচ্ছেদ বন্ধ রাখার ঘোষণা করেছেন তিনি। দুর্গা পুজো পর্যন্ত রাজ্যে কোথাও কোনো হকার উচ্ছেদ হবে না। শনিবার মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর জনতার দরবারে গিয়ে এমনই আশ্বাস পেয়েছেন হকার সংগঠনগুলি।
সংগঠনগুলির দাবি, আগামী অক্টোবর পর্যন্ত উচ্ছেদ প্রক্রিয়া বন্ধ থাকবে বলে জানিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। হকার্স জয়েন্ট আ্যকশন কমিটির রাজ্য সভাপতির দাবি, তাদের আবেদনে সাড়া দিয়েছেন শুভেন্দু অধিকারী।
রাজ্যে পালা বদলের পর থেকে হকার উচ্ছেদ নিয়ে তুমুল হইচই পড়ে গেছে। রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তে উচ্ছেদ অভিযান নিয়ে অনেকেই প্রশ্ন তুলেছেন। হকাদের অভিযোগ ছিল, আগাম কোনো বার্তা না দিয়ে উচ্ছেদ করা হচ্ছে। বিকল্প ব্যবস্থার দাবিও উঠেছে। জনতার দরবারেও সেই অভিযোগ নিয়ে হাজির হন হকার্স জয়েন্ট আ্যকশন কমিটি।
শুভেন্দু অধিকারীর সঙ্গে বৈঠকের পর আপাতত উচ্ছেদ স্থগিতের আশ্বাস মিলেছে বলে দাবি করেছে সংগঠনের প্রতিনিধিরা। তারা জানান, বৈঠক ইতিবাচক হয়েছে। তাদের কথা মুখ্যমন্ত্রী শুনেছেন। রাজ্য জুড়ে হকার উচ্ছেদ নিয়ে যে আতঙ্ক তৈরি হয়েছিল তা আপাতত কেটেছে। মুখ্যমন্ত্রী স্পষ্ট জানিয়েছেন, মানবিকতার খাতিরে উৎসবের মরশুম শেষ না হওয়া পর্যন্ত কোনো হকারকে সরানো হবে না। এই আশ্বাসের ফলে রাজ্য জুড়ে যে উচ্ছেদ অভিযান শুরু হয়েছিল তাতে সাময়িকভাবে বিরতি হলো।
পালাবদলের পরই একাধিক জায়গায় উচ্ছেদের ছবি দেখা যায়। বিভিন্ন রেল স্টেশনে, বিভিন্ন স্টেশন এলাকায় রেল হকার এবং ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের ওপর চাপ বৃদ্ধি করা হচ্ছে বলে অভিযোগ ওঠে। অন্যায় ভাবে উচ্ছেদ অভিযান চালানো হচ্ছে, এই অভিযোগকে সামনে রেখে পথে নামেন বাম তথা অন্যান্য বিরোধীরা। প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ও প্রতিবাদে সরব হন। তবে তারপরেও হকার উচ্ছেদের ছবি দেখা যায়। অভিযোগ ওঠে, রাতের অন্ধকারে বুলডোজার দিয়ে গুঁড়িয়ে দেওয়া হচ্ছে নির্মাণ। ফলে এর সমাধান খুঁজতে আগেই সরকারের দ্বারস্থ হয়েছিল হকার সংগঠনগুলি।
কিভাবে হকাররা তাদের ব্যবসা চালিয়ে যেতে পারবেন তা আলোচনা হওয়ার কথা পূর্ত দফতরের সঙ্গে। সংগঠনগুলি আশাবাদী যে বৈঠকে সমাধানের রূপরেখা বেরিয়ে আসবে। তারই মধ্যে মুখ্যমন্ত্রীর দরবারে গিয়ে উচ্ছেদ প্রক্রিয়া আপাতত বন্ধ করার আবেদন জানানো হয়। যা শুনে উচ্ছেদ সাময়িক ভাবে বন্ধ রাখার আশ্বাস দেন মুখ্যমন্ত্রী।

