জয় লাহা, দুর্গাপুর, ৪ সেপ্টম্বর: ভ্যাকসিন নিতে গিয়ে গলাধাক্কা দিয়ে বের করে দেওয়ার অভিযোগ। অভিযোগের আঙুল তৃণমূলের এক মহিলা কাউন্সিলারের বিরুদ্ধে। আর সেই অপমানে দুর্গাপুর ব্যারেজে ঝাঁপ দিয়ে আত্মহত্যার চেষ্টা করলেন এক মহিলা বিজেপিকর্মী, এমনই দাবি পরিবারের। ঝর্না দাস নামে গুরুতর জখম ওই বিজেপিকর্মী আশঙ্কাজনক অবস্থায় দুর্গাপুরে এক বেসরকারী হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। ঘটনাকে ঘিরে বিস্তর চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে দুর্গাপুরে। প্রশ্ন উঠেছে কাউন্সিলারের অমানবিক আচরণের।শনিবার ওই মহিলার স্বামী দুর্গাপুর কোকওভেন থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। অভিযোগ অস্বীকার করেছে, তৃণমূলের ওই কাউন্সিলার।
ঘটনার সুত্রপাত, গত ২ সেপ্টম্বর দুর্গাপুর ৪২ নং ওয়ার্ড সুকুমার নগর প্রাথমিক স্বাস্থ্যকেন্দ্রে কোভিড-১৯ টিকাকরণ চলছিল। ওইদিন টিকা নিতে সেখানে যান ওই এলাকার বাসিন্দা তথা বিজেপিকর্মী ঝর্না দাস। অভিযোগ, টিকা নিতে যাওয়ায় তাঁকে হেনস্থা করা হয়। টিকা না দিয়ে অপমান করে, ধাক্কা দিয়ে বের করে দেওয়া হয় বলে অভিযোগ। ঘটনার প্রতিবাদে শনিবার দুর্গাপুর কোকওভেন থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন ঝর্না দাসের স্বামী সুজিত দাস। অভিযোগে তিনি জানান, “এলাকার কাউন্সিলার প্রিয়াঙ্কি পাঁজা ও তার কয়েকজন অনুগামী চরম অপমান করে। ধাক্কাধাক্কি করে। টিকা না দিয়ে বের করে দেয়।” তিনি আরও জানান, “জন সমক্ষে এধরনের অপমান মেনে নিতে পারেনি। পরদিন দুর্গাপুর ব্যারেজের জলে ঝাঁপ দিয়ে দেয়। বড়জোড়া থানার পুলিশ উদ্ধার করে তাকে হাসপাতালে ভর্তি করে। পরে অবস্থার অবনতি হওয়ায় দুর্গাপুরে এক বেসরকারী হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।”
স্থানীয় বিজেপি নেতা চন্দ্রশেখর চট্টোপাধ্যায় জানান, “রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রীকে প্রতীকি দুর্গার রূপ দিয়েছে তাঁর দলের নেতা কর্মীরা। আর সেই দলের মহিলা কাউন্সিলারের ন্যূনতম মুল্যবোধ, মানবিকতাটুকু নেই। তীব্র প্রতিবাদ জানাচ্ছি।”
এদিকে প্রশ্ন উঠেছে কাউন্সিলারের ভুমিকায়। যদি কাউন্সিলার প্রিয়াঙ্কা পাঁজা সমস্ত অভিযোগ অস্বীকার করে জানান, “সম্পুর্ন মিথ্যা অভিযোগ। উদ্দেশ্যপ্রনোদিতভাবে আমাকে ও আমার দলকে বদনাম করার চেষ্টা করছে।” ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ।

