আমাদের ভারত, ৫ সেপ্টেম্বর: ১৩০ কোটি দেশবাসীর প্রায় ৫৫ শতাংশ মানুষকে কোভিড টিকার প্রথম ডোজ দেওয়া হয়েছে। অধিকাংশ রাজ্য জনসংখ্যার ৫০ শতাংশই টিকাকরণে প্রথম ডোজ পেয়েছেন। কিন্তু পশ্চিমবঙ্গে সেখানে কেবল ৪১ শতাংশের সামান্য কিছু বেশি সংখ্যক মানুষকে টিকার প্রথম ডোজ দেওয়া গেছে। অথচ রাজ্যে ক্রমাগত বাড়তে থাকা করোনা সংক্রমণের সাথে টিকাকরণের এই অনুপাত যথেষ্ট উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
দেশজুড়ে সংক্রমণে বৃদ্ধি নতুন করে চিন্তা বাড়িয়েছে। অক্টোবরে তৃতীয় ঢেউয়ের আশঙ্কাকে কার্যত সত্যি হওয়ার সংকেত দিচ্ছে এই ঊর্ধমুখী গ্রাফ। কিন্তু তারই মাঝে দেশে টিকাকরণের রেকর্ড তৈরী হচ্ছে রোজ। কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্য মন্ত্রকের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী দেশে এখনও পর্যন্ত ৬৭ কোটি ৭২ লক্ষ ১১ হাজার ২০৫ টি ডোজ দেওয়া হয়েছে। হিমাচল প্রদেশ, সিকিম, উত্তরাখন্ডের মতো ছোট রাজ্যগুলি প্রায় ১০০ শতাংশ মানুষই প্রথম ডোজ পেয়েছে। বড় জনসংখ্যার রাজ্য কেরলা ৮০ শতাংশ, মধ্যপ্রদেশ ৭০ শতাংশ এবং গুজরাত ৭১ শতাংশ প্রথম ডোজ দিয়েছে। সেখানে পশ্চিমবঙ্গের টিকা করণের পরিসংখ্যান মুখ্যমন্ত্রীর অঙ্গীকারকে ক্ষুন্ন করছে।
এক সময় মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় নিজেই দাবি করেছিলেন টিকাকরণে পশ্চিমবঙ্গ প্রথম স্থানে। আর এই সফলতার জন্য তিনি কেন্দ্রের টিকা সরবরাহকে নয় বরং নিজের টিকা আমদানি করাকে সাধুবাদ দিয়েছিলেন। কেন্দ্রকে তিনি বারবার কম টিকা সরবরাহের জন্য দোষারোপ করেছেন। রাজ্য সরকার জানিয়েছিল, মে মাসে তাঁরা প্রায় ১৮ লক্ষ্য টিকা কিনেছে এবং জুন মাসে এই সংখ্যা আরও বেড়েছে। তার জন্য সরকারে ১১৮ কোটি টাকাও খরচও হয়েছে। তাহলে প্রশ্ন ওঠে, এর পরেও প্রথম ডোজের পরিসংখ্যান এত কম হল কেন!
চলতি বছরের ডিসেম্বরে প্রায় ৯৪ কোটি মানুষকে টিকাকরণের আওতায় নিয়ে আসার পরিকল্পনা করেছে কেন্দ্র। টিকার জোগান আগের থেকে অনেকাংশে বেড়েছে তা রাজ্য সরকারও স্বীকার করেছে। আগস্টে প্রায় ১ কোটির কাছাকাছি ডোজ সরবরাহ হয়েছে এবং সেপ্টেম্বরে তা বাড়িয়ে ১.২ কোটি করা হবে বলে কেন্দ্রীয় সূত্রে জানা গেছে। তার পরেও টিকাকরণে শিথিলতায় দায়ী রাজ্য সরকারই বলে অভিযোগ বিরোধীদের। টিকা নিয়ে জালিয়াতিতে সরকার পক্ষের লোক যুক্ত ছিল বলেই টিকাকরণের এই অবস্থা বলে বিরোধীদের অভিযোগ।
বর্তমানে রাজ্যে প্রথম ডোজ দেওয়া হয়েছে ৩ কোটি ৭ লক্ষ্য ৪৪ হাজার ৩১৬ টি এবং দুটি ডোজ দেওয়া হয়েছে ১ কোটি ২০ লক্ষ ৪৪ হাজার ২৭৩ জনকে। তবে সদর্থক দিক হল, এই রাজ্যে দুটি ডোজ দেওয়ার ক্ষেত্রে অন্যান্য রাজ্যের তুলনায় অনুপাতে বেশি।

