সোমনাথ বরাট, আমাদের ভারত, বাঁকুড়া, ১০ আগস্ট: শ্রাবণ মাস শেষ হতে চললেও আমন চাষ বন্ধের মুখে। এ বছর পর্যাপ্ত বৃষ্টি না হওয়ায় এই অবস্থা। এই সময়ে নিম্ন চাপের খবরে আশায় বুক বেঁধেছে চাষিরা। নিম্নচাপের প্রভাবে যদি দু’ তিন দিন বৃষ্টি হয় তবে কিছুটা হলেও রক্ষা হবে। তাই চাষিরা এখন আকাশ পানে চেয়ে।
বাঁকুড়া জেলায় চাষ আবাদের বেশিরভাগ নির্ভরশীল বৃষ্টির জলের উপর। জেলায় সেচ সেবিত চাষ যোগ্য জমির পরিমাণ কম, বর্তমানে বেশ কিছু এলাকায় স্যালোর সাহায্যে জমিতে জলের যোগান দিয়ে চাষাবাদ হলেও বেশ কিছু পরিমাণ জমি বৃষ্টির জলের উপর নির্ভর।এবছর বৃষ্টি না হওয়ায় চাষিরা বেশ হতাশ হয়ে পড়েন। কিছু জমিতে স্যালোর সাহায্যে চাষ হলেও জ্বালানি তেলের দাম বেড়ে যাওয়ার চাষিদের পক্ষে সামাল দেওয়া ক্রমশ দুঃসাধ্য হয়ে পড়ছে।
ওন্দার কালীসেনের বাসিন্দা বরেন ঘোষ জানান, শ্রাবণ শেষ হতে চলল বৃষ্টি সেরকম হলো না, আমার মত অনেকেরই বীজতলা শুকিয়ে যাওয়ার উপক্রম। স্যালোর সাহায্য কিছুটা চাষ হয়েছে সেটাও কি করে রক্ষা হবে সেটাই চিন্তার। নিম্ন চাপের জেরে যদি বৃষ্টি হয় সেই আশাতেই আছি।
সদর থানার অন্তর্গত সেন্দড়ার বাসিন্দা বলরাম সরকার জানান, নীচু জমিতে জলের ব্যবস্থা করে চাষ করা গেছে, কিন্তু যে সব জমিতে জলের যোগান দেওয়া যাচ্ছে না সেই সব জমিতে চাষ হবে কি করে, বৃষ্টি হলেই তবে চাষ হবে।
জেলার বিশিষ্ট এক বীজ ব্যবসায়ী জানান, এ বছর যা অবস্থা পঞ্চাশ শতাংশ চাষ হয় কি না সন্দেহ।এখনও পর্যন্ত সে রকম বৃষ্টি নেই, যদি বৃষ্টি হয় তবে হয়ত তা সত্তর শতাংশ দাঁড়াবে। যদি সম্পূর্ণ চাষ না হয় তবে জেলার অর্থনীতি’তে প্রভাব পড়বে। কেননা বাঁকুড়া জেলা কৃষি নির্ভর। জেলা কৃষি দপ্তরের মতে বৃষ্টি ঠিকমত না হওয়ায় চাষাবাদে প্রভাব পড়বেই, তবে যদি ঠিকমত বৃষ্টি হয় তবে তা অনেকটাই পূরণ করবে।

