স্নেহাশীষ মুখার্জি, আমাদের ভারত, নদিয়া, ১২ জানুয়ারি: নিজের মহানুভবতার পরিচয় দিয়ে রানাঘাট মাঠ কুমড়োর এক অবসরপ্রাপ্ত চাকুরিজীবীর অভিনব বাড়ি ঘিরে এখন আলোচনা জেলাজুড়ে। যেখানে উন্নয়নের নামে চলছে সবুজ ধ্বংস, সবাই শহরমুখী নতুন ফ্ল্যাটে উঠতে আগ্রহী আর তাতেই বন জঙ্গল কেটে সাফ করে দেওয়া হচ্ছে। নিজেদের জীবনের প্রাণ বায়ু অক্সিজেনের কথা তোয়াক্কা না করেই পশু পাখি ও বনের জন্তু জানোয়ারদের থাকার জায়গা মানুষ কেড়ে নিচ্ছে নিজেদের স্বার্থ সিদ্ধির জন্য। কিন্তু হঠাৎ চোখে পড়ল এমন একজন প্রকৃতিপ্রেমী ও গাছপ্রেমী মানুষকে যিনি নিজের বাড়ি করার জন্য গাছ না কেটে, গাছের মধ্যেই তৈরী করেছেন বাড়ি। যাকে বলে ট্রি হাউস। সেখানে রয়েছে খাওয়া থেকে ঘুমানো সব ধরনের ব্যবস্থা।

রানাঘাটের ২ নম্বর ব্লকের মাঠকুমরা গ্রামে তৈরী হয়েছে গাছের ওপরেই বাড়ি। রানাঘাটের একজন অবসরপ্রাপ্ত চাকুরীজীবী দিব্যেন্দু বিশ্বাস। তিনি তার স্বপ্নের বাড়ি তৈরী করেছেন গাছের ওপরেই। এমন নতুন অভিনব পদ্ধতিতে বাড়ি করা এর আগে চোখে পড়েনি জেলায়। তার এই গাছের প্রতি ভালোবাসা দেখে মুগ্ধ সবাই। সত্যি এমন ধরনের মানুষের সংখ্যা যদি বৃদ্ধি পায় তাহলে প্রকৃতির শোভা আরও ফুলেফেঁপে উঠবে। শুধু কি বাড়ি? সাত বিঘা জমি পুরোটাই নানান ফুল ফল আনাজে ভরপুর। রয়েছে দেশি-বিদেশি একশোরও বেশি বৃক্ষ। যা ওই অভিনব ঘর থেকে পুরোটাই দৃশ্যমান। চোখ তো বটেই মনের স্বাস্থ্য বৃদ্ধি হবে বলে দিব্যেন্দু বাবু আশাবাদী। তিনি জানান, একটি পরিবার ছুটি কাটাতে অনায়াসে আসতে পারেন এখানে, রাসায়নিক সার ছাড়াই নানান খাবারের ব্যবস্থা রয়েছে।

এক প্রশ্নের উত্তরে দিব্যেন্দুবাবু জানান, ছোটবেলা তার গ্রামেই কেটেছে। তারপর থেকে চাকরির সুবাদে ইট-কাঠ শহুরে কর্মজীবন, তাই চাকরি শেষ হতেই আবারো গ্রামে প্রত্যাবর্তন। ব্যবসায়ীক উদ্দেশ্যে না হলেও, আগামীতে তার গড়া এই ঘরের মাধ্যমে যেমন পরিবেশের বার্তা যাবে ঠিক তেমনই বেশকিছু কর্মসংস্থান সৃষ্টি হবে বলে তিনি আশাবাদী।

