সুশান্ত ঘোষ, আমাদের ভারত, উত্তর ২৪ পরগণা, ১৯ মে: প্রথমে ফেসবুকে বন্ধুত্ব হয় বিশিষ্ট গাইনোকোলজিস্ট হিসাবে। ছেলেটি পরিচয় দেয় ডাক্তার সন্দীপ রায় নামে এবং জানায় সে চিত্তরঞ্জন হাসপাতালে কর্মরত। ফেসবুকে কথা বলতে বলতে বন্ধুত্ব অনেকটা এগিয়ে যায়। ফেসবুক মেসেঞ্জারের মাধ্যমে ফোন নম্বরও আদান প্রদান হয়। প্রমাণ মেলে বিশ্বাসযোগ্যতার। কথা চলতে থাকে দিনের পর দিন। মেয়েটিও দুর্বল হতে থাকে তার বন্ধুত্বের প্রতি। বন্ধুত্ব একটু পুরনো হতেই চলে আসে ছবি আদান-প্রদানের বাহানা।

প্রথমে যদিও বন্ধুর কথা রাখতে কয়েকটি ছবি পাঠিয়েছিল যুবতী। আর সেই নগ্ন ছবি হাতে পাবার পরই শুরু হয় ব্ল্যাক মেইল। দিনে দিনে বাড়তে থাকে চাহিদা। কোনোরকম উপায় না পেয়ে একটি ভিডিও পাঠিয়েছিল। এখানেই শেষ নয়। মেয়েটিকে প্রতিনিয়ত মানসিক ভাবে অত্যাচার করতে থাকে ওই যুবক। এমনকি নতুন করে ভিডিও বানিয়ে না দিলে পরিবারের ওপর আঘাত হানতে পারে এমনই হুমকি আসতে থাকে। এমত অবস্থায় নিজেকে একটু সামলে নিয়ে গাইঘাটা থানার দ্বারস্থ হয় গাইঘাটার ঠাকুরনগর শিমুলপুর এলাকার ২২ বছরের মেয়েটি। পরে যদিও গাইঘাটা থানার পক্ষ থেকে অভিযোগ পত্র সাইবার ক্রাইম থানাতে পাঠিয়ে তদন্তের জন্য সহযোগিতা চায়। সাইবার ক্রাইম থানার আধিকারিক সুদীপ্ত দে অভিযোগের ভিত্তিতে ঘটনাটির তদন্ত করতে শুরু করেন। তদন্তে জানতে পারেন অভিযুক্ত কোনো গাইনোকোলজিস্ট নয়। সে যে নামে ফেসবুক চালায় সেটিও তার ছদ্মনাম। উঠে আসতে থাকে তার সমস্ত কু-কর্মের তথ্য।
পুলিশ সূত্রে খবর, অভিযুক্তের আসল নাম আলোক রায়। বাড়ি রানাঘাটের মাঠ কুমড়া এলাকায়। আলোক রায় হোটেলে রান্নার কাজ করে। বুধবার রাতে অভিযুক্তকে গ্রেফতার করে রানাঘাটের মাঠ কুমড়া এলাকা থেকে। আজ তাকে বনগাঁ মহকুমা আদালতে পাঠানো হয়।

