সুশান্ত ঘোষ, আমাদের ভারত, উত্তর ২৪ পরগণা, ৮ ফেব্রুয়ারি: দল ছেড়ে নির্দল হয়ে দাঁড়ালেও মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় আমার অন্তরেই থাকবেন। বারাসত জেলা শাসক দপ্তরে নির্দল হয়ে মনোনয়ন পত্র জমা দিতে এসে এমনই জানালেন গোবরডাঙ্গা পৌরসভার প্রাক্তন চেয়ারম্যান সুভাষ দত্ত।
গত পৌরসভা নির্বাচনে গোবরডাঙ্গা ৬ নম্বর ওয়ার্ড থেকে তিনি ১০১৩ ভোটে জয়ী হয়েছিলেন। সর্বপরি ভোট পেয়ে তিনি গোবরডাঙ্গার চেয়ারম্যান হয়েছিলেন। অথচ এবছরে তাঁকে প্রার্থী করেনি তৃণমূল।পৌর নির্বাচনে তৃণমূলের টিকিট না পেয়ে নির্দলে দাঁড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছেন সুভাষ দত্ত। মঙ্গলবার দুপুরে বারাসত জেলা শাসকের দপ্তরে নির্দল প্রার্থী হিসেবে মনোনয়নপত্র জমা দিতে এসে সুভাষ দত্ত বললেন, ১৯৬৭ সাল থেকে ছাত্র পরিষদের সঙ্গে যুক্ত। সেই সূত্রে কলেজের জিএস, ভিপি হয়েছেন। তৃণমূল গঠিত হওয়ার পর, শুরু থেকেই এই দলের সঙ্গে যুক্ত হন। ২০১০ সাল থেকে তিনি গোবরডাঙার তৃণমূল পুরপ্রধান এবং প্রায় দেড় বছর পুর প্রশাসকের দায়িত্ব সামলেছেন। গত লোকসভা এবং বিধানসভা নির্বাচনে গোটা গোবরডাঙা পুরসভায় তৃণমূলের হার হলেও সুভাষ দত্ত, তার ভাই শঙ্কর দত্ত এবং ভাতৃবধূ বুলি সানা দত্তর ওয়ার্ডে তৃণমূলের জয় হয়।

এতোকিছুর পরেও এবারে তৃণমূলের টিকিট দেওয়া হল না সুভাষ দত্তকে। তাঁর বদলে ৬ নম্বর ওয়ার্ডে প্রার্থী হয়েছেন কেবল ব্যবসায়ী দেবাশীষ চক্রবর্তী। দলের এই বিচার মেনে নিতে পারছেন না এলাকার তৃণমূল নেতা, কর্মী থেকে শুরু করে সাধারণ সমর্থকরা। আর তাঁদেরই আহ্বানে আজ ৬ নম্বর ওয়ার্ডের আশুতোষ বয়েজ ক্লাবের মাঠে একটি সভা অনুষ্ঠিত হয়। সেখানেই দলত্যাগের সিদ্ধান্ত ঘোষণা করেন সুভাষ দত্ত। তিনি বলেন,’দলের কর্মী, সমর্থক, সাধারণ ভোটারদের দাবি মেনে নির্দলে দাঁড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছি।’ দীর্ঘদিন ধরে তিনি তৃণমূল দল করে এসেছিলেন। দল তাঁকে এবার টিকিট না দেওয়ায় জেলার উচ্চ নেতৃত্বের প্রতি ক্ষোভ প্রকাশ করলেন। পাশাপাশি এদিন তিনি মাতৃ আসনে মমতা বন্দ্যপাধ্যায়কে বসিয়ে দুঃখ প্রকাশ করলেন এবং নির্দলে প্রার্থী হয়ে দাঁড়ালেও তার অন্তরে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় থাকবেন বলে এদিন জানালেন নির্দল প্রার্থী সুভাষ দত্ত।

