সুশান্ত ঘোষ, আমাদের ভারত, উত্তর ২৪ পরগণা, ২৪ মে: উত্তর ২৪ পরগনার বনগাঁর নীলদর্পণে আয়োজিত মতুয়া সম্মিলনী অনুষ্ঠান ঘিরে রবিবার তৈরি হয় এক আবেগঘন পরিবেশ। অনুষ্ঠানে উপস্থিত হয়ে রাজ্যের খাদ্যমন্ত্রী তথা সমবায় দফতরের দায়িত্বপ্রাপ্ত মন্ত্রী অশোক কীর্তনীয়া মতুয়া ভক্তদের ভালোবাসা ও সম্মান পেয়ে আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন। একসময় তাকে চোখের জল মুছতেও দেখা যায়।
এদিন সকাল সাড়ে ১১টা নাগাদ বনগাঁর নীলদর্পণে পৌঁছান মন্ত্রী। সেখানে মতুয়া সম্প্রদায়ের পক্ষ থেকে তাকে ফুলের মালা পরিয়ে সংবর্ধনা জানানো হয়। মতুয়া সাধু ও ভক্তদের সঙ্গে আলিঙ্গন করে শুভেচ্ছা বিনিময় করেন তিনি। উপস্থিত ভক্তদের আন্তরিক আপ্যায়নে আপ্লুত হয়ে পড়েন অশোক কীর্তনীয়া। ওই মঞ্চে মতুয়া ভক্ত সাধুদের গামছা, ফুলের মালা পরিয়ে আশির্বাদ নেয় মন্ত্রী।

অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে তিনি বলেন, “আজ মতুয়ারা না থাকলে আমি এই জায়গায় পৌঁছতে পারতাম না।” পাশাপাশি তিনি দাবি করেন, মতুয়া সম্প্রদায়ের মানুষের নাম যাতে ভোটার তালিকা থেকে বাদ না যায়, সেই কাজ ইতিমধ্যেই শুরু হয়েছে। কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের নির্দেশ অনুযায়ী খুব শীঘ্রই সকলের নাম তালিকাভুক্ত হবে বলেও আশ্বাস দেন তিনি। এদিন মন্ত্রী আরও অভিযোগ করেন, দীর্ঘদিন ধরে তৃণমূল সরকার মতুয়াদের শুধুমাত্র ভোটব্যাঙ্ক হিসেবে ব্যবহার করেছে এবং তাদের প্রতি অবহেলা দেখিয়েছে। তিনি বলেন, “বিজেপি সরকার মতুয়াদের নিয়ে আর কোনও রাজনীতি হতে দেবে না।” সেই সঙ্গে হরিচাঁদ ঠাকুর ও গুরুচাঁদ ঠাকুর-এর নামে মন্দির, কলেজ ও হাসপাতাল তৈরির আশ্বাসও দেন খাদ্যমন্ত্রী।
মতুয়া সম্প্রদায়ের এক ভক্ত বলেন, আগের খাদ্যমন্ত্রী ছিলেন চোরদের মন্ত্রী, অশোক কীর্তনীয়া মানুষের মন্ত্রী। জাতধর্ম বিচার করেন না। মানুষকে যে ভাবে আপন করে নিয়েছেন তা এখন মানুষের কাছে ভগবানের রূপ। অনুষ্ঠানে বহু মতুয়া ভক্ত ও সাধু উপস্থিত ছিলেন। গোটা অনুষ্ঠানজুড়ে ছিল উৎসবের আবহ।

