বৃদ্ধ পাওনাদারকে ব্যাংক কর্তৃপক্ষের লাগাতার হুমকি, হার্টফেল করে মৃত্যু, শান্তিপুরে ব্যাংকের সামনে মৃতদেহ নিয়ে বিক্ষোভ

স্নেহাশীষ মুখার্জি, আমাদের ভারত, নদিয়া, ৩১ মে: তাঁত বুনে একে একে ৫ মেয়ের বিয়ে দিয়েছেন শান্তিপুর ২৩ নম্বর ওয়ার্ডের সাত ভাই পাড়ার কিসমত শেখ। লকডাউনের আগে এক মেয়ের বিয়ে দিতে গিয়ে বন্ধন ব্যাংক থেকে ধার করে বসলেন ৬০ হাজার টাকা, তার বেশ খানিকটা শোধও হয়ে গেছে। কিন্তু কয়েকটি কিস্তি বাকি থাকার কারণে, প্রায়শই বাড়িতে এসে অপমানসূচক কথা বলতেন বন্ধন ব্যাংক কর্তৃপক্ষ‌। অভিযোগ, হুমকির কারণে শেষ পর্যন্ত হার্টফেল করে মৃত্যু হল ওই বৃদ্ধের।

কিসমতবাবুর একমাত্র ছেলে বাপন রাজমিস্ত্রির কাজ করেন। তার দাবি, ব্যাংক কর্তৃপক্ষকে তিনি জানিয়েছিলেন, বাবা অসুস্থ কিছুদিনের মধ্যেই বকেয়া চারটি কিস্তি শোধ করে দেবেন। কিন্তু সোমবার বন্ধন ব্যাংকের লোকেরা প্রথমে দুপুর বারোটা নাগাদ একবার এসে বাবাকে পুলিশের ভয় দেখিয়ে চলে যায়। পরবর্তীতে আবারও বিকেল বেলায় চারজন ব্যাঙ্ক কর্মী একসাথে এসে আমার অবর্তমানে বাবাকে অপমান অপদস্ত করতে থাকে। তখন আমার বাবা অসুস্থ হয়ে পড়েন। এরপর ব্যাংক কর্মীরা ফিরে যায়। অসুস্থ বাবাকে নিয়ে শান্তিপুর স্টেট জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করালে আধঘণ্টার মধ্যে মৃত্যু হয় তার।

এলাকাবাসীর দাবি, লোনের টাকা শোধ করে দেওয়া হবে কিন্তু মৃত ব্যক্তিকে কি জীবিত করতে পারবে ব্যাংক?
পরিবারের দাবি, তারা বুঝেছিলেন অসুস্থ মানুষকে ভয় দেখালে, তিনি আরও অসুস্থ হয়ে পড়বেন। জেনেশুনেই অন্য সদস্যদের সেভাবে কিছু না বলে ওই বৃদ্ধকেই বারংবার অপমান অপদস্ত করতেন ব্যাংক কর্মীরা। মৃতদেহ নিয়ে, এলাকাবাসী পাড়ায় অবস্থিত ওই ব্যাংকের সামনে বিক্ষোভে বসেন। ঘটনা সামাল দিতে উপস্থিত হয় শান্তিপুর থানার পুলিশ। পুলিশের মধ্যস্থতায় আপাতত রেহাই পায় ব্যাংক কর্মীরা। তবে পরিবারের পক্ষ থেকে লিখিত অভিযোগ জানাবে বলে জানা গেছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *