এবার আইকোর মামলায় ১৩ এপ্রিল ইডির তলব অনুকূল মাইতির স্ত্রী কণিকাকে

রাজেন রায়, কলকাতা, ১১ এপ্রিল: ভোটের মুখে একের পর এক বেআইনি অর্থলগ্নি মামলার তদন্ত ফের শুরু করছে এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট। কয়লা পাচারকাণ্ডের পর এবার আইকোর মামলা। এই মামলায় চিটফান্ডের কর্তা অনুকূল মাইতির স্ত্রী কণিকা মাইতিকে তলব করল কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট বা ইডি৷ আইকোরের কর্ণধার অনুকূল মাইতির ইতিমধ্যেই মৃত্যু হয়েছে। আরও একাধিক কর্মকর্তাকে গ্রেফতার করেছিল সিবিআই৷ পরে অবশ্য একে একে অন্যেরা সকলেই মুক্তি পেয়ে যান৷

কণিকাদেবীও মুক্তি পেয়েছেন গতবছরের মাঝামাঝি৷ এবার সেই আইকোর চিটফান্ড কেলেঙ্কারি সংক্রান্ত মমলার ফাইল খুলল ইডি৷ ১৩ এপ্রিল অর্থাৎ আগামী পরশুদিন কলকাতাস্থিত সিজিও কমপ্লেক্সে ইডি-র দফতরে তলব করা হয়েছে কণিকাকে৷

উল্লেখ্য, গতবছর নভেম্বরে ওড়িশার এক জেলে বন্দি থাকা অবস্থায় হার্ট অ্যটাকে মারা যান অনুকূল মাইতি৷ ২০১৭ সালে বেআইনি অর্থলগ্নি সংস্থা আইকোরের মাধ্যমে খোলাবাজার থেকে বহু কোটি টাকা তুলে আত্মসাতের অভিযোগ ছিল তাঁর নামে৷ সেই অভিযোগের ভিত্তিতেই চারবছর আগে তাঁকে গ্রেফতার করেছিল সিবিআই৷ অবশ্য তারও দু-বছর আগে ২০১৫ সালে সিআইডি-র হাতে গ্রেফতার হন তিনি৷ পূর্ব মেদিনীপুর জেলা থেকে আবির্ভাব হলেও বাংলা, বিহার, অসম, ত্রিপুরা, ঝাড়খণ্ড থেকে কয়েক লক্ষ মানুষের থেকে প্রায় ৩ হাজার কোটি টাকা তুলেছিল আইকোর কোম্পানি৷ এমনটাই অভিযোগ ওঠে এই চিটফান্ড কোম্পানির বিরুদ্ধে৷

৪ বছর আগেই সস্ত্রীক অনুকূলবাবুকে গ্রেফতার করে ওড়িশার জেলে রেখেছিল সিবিআই৷ কারাগারে থাকাকালে অনেকবার অসুস্থ হয়ে পড়লে তাঁকে হাসপাতালেও ভর্তি করা হয়েছিল৷ মেদিনীপুরের মাইতি পরিবার সূত্রে খবর, ওড়িশার কটক হাইকোর্ট থেকে জামিন পেয়েছিলেন অনুকূল মাইতি৷ কিন্তু জামিনের শর্ত হিসেবে বন্ডের টাকা জোগাড় করতে না পারলে শেষমেশ তাঁর মুক্তি আটকে যায়৷ খুব সম্ভবত সেই দুশ্চিন্তাতেই গতবছর ৭ নভেম্বর হার্ট অ্যাটাকে মারা যান৷

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *