সুশান্ত ঘোষ, আমাদের ভারত, উত্তর ২৪ পরগণা, ২২ জুলাই: টাকার বিনিময়ে চাকরি করে দিতেন। সেই রঞ্জনের আসল পরিচয় প্রকাশ্যে এসেছে। তিনি আর কেউ নন, উত্তর ২৪ পরগনার বাগদা থানার মামা -ভাগিনা গ্রামের বাসিন্দা চন্দন মণ্ডল। শুক্রবার চার ঘন্টা ধরে তার বাড়ির মধ্যেই ছিল তদন্তকারী দল। শিক্ষক নিয়োগ নিয়ে দুর্নীতির অভিযোগ সামনে আসার পর চন্দনের কীর্তি বাগদার বাসিন্দাদের মুখে মুখে ঘুরছে। সম্প্রতি সিবিআই তদন্তের পর রঞ্জন ওরফে চন্দন মণ্ডলের বাড়িতে তল্লাশি চালতে এল ইডি।
বাগদার সেই রঞ্জন ওরফে চন্দন মণ্ডলের বাড়িতেও শুক্রবার সকালে পৌঁছল এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট (ইডি)। এদিন পাঁচ জনের একটি তদন্তকারী দল বাগদার মামা-ভাগিনা গ্রামে পৌঁছয়। ওই দলের সঙ্গে কেন্দ্রীয় বাহিনীও ছিল। শুক্রবার সকাল ৯টা নাগাদ চন্দনের বাড়িতে পৌঁছন ইডির প্রতিনিধিরা। প্রাথমিক ভাবে বাড়ির গেট বন্ধ থাকায় ভিতরে ঢুকতে পারেননি তাঁরা। এরপর বেলা সাড়ে বারোটা নাগাদ চন্দনের মেয়ে ও স্ত্রী এসে গেটের তালা খুলে দেন। তারপর ইডির দল বাড়ির ভিতরে ঢোকে। প্রাথমিক শিক্ষক নিয়োগ দুর্নীতি মামলায় চন্দনের বিরুদ্ধে একাধিক অভিযোগ উঠেছে। বছরখানেক আগে রাজ্যের প্রাক্তন মন্ত্রী তথা সিবিআইয়ের অবসরপ্রাপ্ত কর্তা উপেন বিশ্বাস একটি ভিডিয়ো প্রকাশ করেন। সেখানে রঞ্জন নামে এক ব্যক্তির কথা সামনে আনেন তিনি। নিয়োগ দুর্নীতিতে রঞ্জনের ঘনিষ্ঠ যোগের কথা বললেও তাঁর আসল নাম জানাননি উপেনবাবু। পরে কলকাতা হাইকোর্টে প্রাথমিক শিক্ষক নিয়োগ দুর্নীতি মামলার আবেদকারীরা জানান, বাগদার মামা-ভাগিনা গ্রামের চন্দনই আসলে সেই ‘রঞ্জন’।

পরে এ বিষয়ে মুখ খোলেন বাগদার প্রাক্তন বিধায়ক দুলাল বর। তাঁর দাবি,২০১২ সালের পর থেকে বাগদায় যত চাকরি হয়েছে, তার ৯৯ শতাংশ টাকা দিয়ে হয়েছে। প্রাথমিক শিক্ষক নিয়োগের মামলায় নাম জড়িয়ে যেতেই চন্দন ‘উধাও’ হয়ে গিয়েছিলেন। সিবিআইও তার খোঁজ পায়নি বলে জানা যায়। প্রাথমিক শিক্ষক নিয়োগে দুর্নীতির অভিযোগে সিবিআই তদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন বিচারপতি অভিজিৎ গঙ্গোপাধ্যায়।

