জয় লাহা, দুর্গাপুর, ২২ জুলাই: কয়লাকাণ্ডে বিনয় মিশ্র ও বিকাশ মিশ্রের কয়েক কোটি টাকার সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করল ইডি। বৃহস্পতিবার ওই বিপুল সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করেছে বলে এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট বা ইডি জানিয়েছে।
ইডি সূত্রে জানা গেছে, পূর্ব বর্ধমানের গোপীনাথপুরে ইন্দো আমিরিকান ইলেক্ট্রিক্যালস লিমিটেড নামে একটি সংস্থার ১৩.৬৩ কোটি টাকার সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করা হয়। যার উপভোক্তা মালিকানা রয়েছে এলটিবি ইনফ্রা কনসালট্যান্ট প্রাইভেট লিমিটেড নামে একটি সংস্থা। আর ওই কনসালট্যান্ট সংস্থার ডিরেক্টর তথা অংশীদার অবৈধ কয়লাপাচার চক্রে যুক্ত বিনয় মিশ্র ও বিকাশ মিশ্র। ২০০২ সালের বেআইনি লেনদেন প্রতিরোধ আইন মোতাবেক ওই সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে বলে ইডি জানিয়েছে।
প্রসঙ্গত, অবৈধ কয়লাপাচার কান্ডের তদন্তে সক্রিয় কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থাগুলি। একদিকে সিবিআই যখন কয়লাকাণ্ডে ঘটনার মূল অভিযুক্ত অনুপ মাজি ওরফে লালাকে দফায় দফায় জিজ্ঞাসাবাদ করে একের পর এক তথ্য তুলে আনছে। অন্যদিকে ইডি তখন ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে একাধিক অভিযুক্তের বিপুল সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করছে। কয়লা পাচার কাণ্ডে প্রথম থেকেই কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থাগুলির স্ক্যানারে রয়েছে বিনয় মিশ্র ও বিকাশ মিশ্রের নাম। এই ঘটনায় মূল অভিযুক্ত অনুপ মাজি ওরফে লালার ডান হাত হিসাবে বিনয়ের নাম উঠে আসে। এরপর ঘটনার তদন্তে নেমে আরও কয়েকটি নাম পায় তদন্তকারীরা। এর মধ্যে বিনয় মিশ্রের ভাই বিকাশ মিশ্রের নামও পাওয়া যায়।
কয়লাকাণ্ডে গত কয়েকদিন আগে ৪১ জনের নামে চার্জশিট দিয়েছে সিবিআই। এছাড়াও ইসিএলের আটজন আধিকারিককে গ্রেফতার করেছে সিবিআই। তারমধ্যে প্রাক্তন জেনারেল ম্যানেজাররাও রয়েছেন। এই দুর্নীতির শিকড় যে বহু দূর পর্যন্ত গিয়েছে, কার্যত সেটা প্রথম থেকেই আঁচ করছিল সিবিআই। তবে তদন্ত যতই এগোচ্ছে কেঁচো খুঁড়তে কেউটে বেরিয়ে আসছে।
ইডি সূত্রে জানা গেছে, ইতিমধ্যেই অবৈধ কয়লা পাচার মামলায় আগে ৫৬ টি জায়গায় অভিযান চালিয়ে ২০৪ কোটি ৬৪ লক্ষ টাকার সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করেছে ইডি। বিনয় এবং বিকাশের আরও কোথায় কোথায় সম্পত্তি রয়েছে তা জানার চেষ্টা করছে কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা। এখনও পর্যন্ত কয়লা পাচার কান্ডে বিনয় এবং বিকাশ মিশ্রের মাধ্যমে মূল অভিযুক্ত অনুপ মাজি ওরফে লালা ৭৩১ কোটি টাকা লেনদেন করেছে। কয়লাকান্ডে অভিযুক্ত বিনয় মিশ্র দীর্ঘদিন ধরেই ফেরার। এই পরিস্থিতিতে তাঁর বিরুদ্ধে ২০০২ সালের বেআইনি লেনদেন প্রতিরোধ আইন প্রয়োগ করেছে ইডি। দেশ ও বিদেশে থাকা তাঁর সমস্ত বিষয় সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করার কাজও শুরু করেছে। ইডি ওই প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে জানিয়েছে, তদন্ত এখনও চলছে।

