আমাদের ভারত, উত্তর ২৪ পরগণা, ১৭ জুন: গ্রেফতার উত্তর ২৪ পরগনা জেলা পরিষদের খাদ্য সরবরাহ দফতরের কর্মাধ্যক্ষ তথা বসিরহাটের দাপুটে তৃণমূল নেতা শাহানুর মণ্ডল।
জমি দখল, হুমকি ও নির্বাচন পরবর্তী হিংসা ছড়ানোর মতো একাধিক গুরুতর অভিযোগে ফের গ্রেফতার হলো অভিষেক ঘনিষ্ঠ নেতা। বুধবার ভোররাতে পুলিশের জালে ধরা পড়ে উত্তর ২৪ পরগনা জেলা পরিষদের খাদ্য কর্মাধ্যক্ষ তথা বসিরহাট দক্ষিণ বিধানসভা কেন্দ্রের প্রভাবশালী তৃণমূল নেতা শাহানুর মণ্ডল। গ্রেফতার হতেই বসিরহাটজুড়ে উৎসবের মেজাজ৷ লাড্ডু বিতরণ করলেন বিজেপি নেতা, কর্মী ও সমর্থকরা৷ রাজনৈতিক মহলে তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক তথা সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ ও প্রভাবশালী হিসেবে পরিচিত এই নেতাকে আজ ভোররাতে রাজ্য পুলিশের বিশেষ তদন্তকারী দল (এসওজি) টাকি রোডের সাকচুড়ো বাজার এলাকা থেকে গ্রেফতার করে।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, শাহানুর মণ্ডলের বিরুদ্ধে দীর্ঘদিন ধরেই এলাকায় ক্ষমতার অপব্যবহার ও দাপট খাটানোর একাধিক অভিযোগ উঠছিল। বিশেষ করে টাকির ঐতিহ্যবাহী জমিদার বাড়িগুলোর পক্ষ থেকে তাঁর বিরুদ্ধে বেআইনিভাবে এবং জোরপূর্বক জমি দখল করার একাধিক লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়েছিল। বিঘার পর বিঘা জমি দখল এবং প্রতিবাদ করলে বাসিন্দাদের ভয় দেখানোর অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এর পাশাপাশি, তার বিরুদ্ধে রাজনৈতিক হিংসার ছক কষারও অভিযোগ রয়েছে।
২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচন এবং ২০২২ সালের পুরসভা নির্বাচনের পরবর্তী সময়ে বসিরহাট ও টাকি সংলগ্ন বিস্তীর্ণ এলাকায় ব্যাপক সন্ত্রাস, ভয় এবং আতঙ্কের পরিবেশ তৈরি করার পিছনে শাহানুরের সরাসরি হাত ছিল বলে পুলিশের কাছে লিখিত ডায়েরি জমা পড়েছিল। এরপর ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনের আগে এলাকায় নিজেদের আধিপত্য বজায় রাখতে বিরোধীদের ভোট প্রচারে লাগাতার বাধা দেওয়া এবং বিরোধী নেতা- কর্মীদের হুমকি দেওয়ার পেছনেও এই প্রভাবশালী নেতার হাত ছিল বলে অভিযোগ। এই সমস্ত অভিযোগের ভিত্তিতে দীর্ঘদিন ধরেই পুলিশ তার গতিবিধির ওপর নজর রাখছিল। অবশেষে আজ বুধবার ভোরবেলা সূত্র মারফত খবর পেয়ে বেঙ্গল পুলিশের এসওজি টিম সাকচুড়ো বাজার এলাকায় অভিযান চালায়। সেই সময় তার বাড়ি থেকে মাত্র একশো মিটার দূরে টাকি রোডের ধার থেকে শাহানুরকে হাতেনাতে গ্রেফতার করার পর হাসনাবাদ থানায় নিয়ে যাওয়া হয়।
তৃণমূলের এই প্রভাবশালী নেতার গ্রেফতারি প্রসঙ্গে বিজেপি নেতা শৌর্য বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, “দীর্ঘদিন ধরে বসিরহাটে ত্রাস সৃষ্টি করে রেখেছিল এই শাহানুর মণ্ডল। ও আসলে একজন অবৈধ চোরাচালানকারী, মাফিয়া এবং গুন্ডা। এক দশকেরও বেশি সময় ধরে চলা এই ত্রাসের কারণে এলাকার মা- বোনেদের চোখে জল পড়েছে। শাহানুর এলাকার মানুষের ঘরবাড়ি এবং জমিজমা লুট করেছে। শুধু তাই নয়, পঞ্চায়েত ও বিধানসভা নির্বাচনে সাধারণ মানুষকে ভোট দিতে না দিয়ে অবৈধভাবে ভোট পর্যন্ত লুট করেছে।” শাহানুরের এই গ্রেফতারিতে স্বস্তি প্রকাশ করে শৌর্য আরও বলেন, “আজ ও গ্রেফতার হওয়ায় আমরা এবং গোটা বসিরহাটের মানুষ অত্যন্ত খুশি। দুর্নীতি মুক্ত সমাজ গড়ার লক্ষ্যে মাননীয়া মুখ্যমন্ত্রী যে প্রয়াস চালাচ্ছেন, তার জন্য তাঁকে ধন্যবাদ ও সাধুবাদ জানাই।”
অন্যদিকে, এই প্রভাবশালী তৃণমূল নেতার গ্রেফতারির খবর চাউর হতেই বসিরহাট মহকুমাজুড়ে তীব্র রাজনৈতিক উত্তেজনা সৃষ্টি হয়েছে। ঘটনার পুঙ্খানুপুঙ্খ তদন্ত জারি রেখেছে পুলিশ।

