আমাদের ভারত, ১০ জুলাই: বিজেপি ভোটের প্রচারের সময় বার বার বলেছিল রাজ্যে ডবল ইঞ্জিন সরকার গঠন হলে তীব্র গতিতে উন্নয়নের কাজ হবে। ক্ষমতায় আসার পর সেই প্রতিশ্রুতি কাজে প্রতিফলিত করার চেষ্টা করছেন মুখ্যমন্ত্রী। শুক্রবার শুভেন্দু অধিকারী কেন্দ্রের সঙ্গে ৫০-৫০ পার্টনারশিপে গঙ্গা ভাঙ্গন রোধে ৩৬০০ কোটি টাকার মাস্টার প্ল্যান ঘোষণা করেছেন।
মুখ্যমন্ত্রী মালদা ও মুর্শিদাবাদের মানুষের দীর্ঘদিনের সমস্যা গঙ্গা ভাঙ।গন রোধে এবার এক বড় মাস্টার প্ল্যান তৈরি করছেন, যার মাধ্যমে এই সমস্যার স্থায়ী সমাধান হবে। তার জন্য ৩৬০০ কোটি টাকার এক মেগা প্রস্তাব তৈরি করে অনুমদনের জন্য দিল্লিতে পাঠানো হয়েছে। যার মধ্যে সিংহভাগ অর্থাৎ আড়াই হাজার কোটি টাকাই খরচ করা হবে মুর্শিদাবাদ জেলায়।
শুক্রবার মুর্শিদাবাদের বহরমপুরে এক প্রশাসনিক বৈঠকের পর এই ঘোষণা করেন মুখ্যমন্ত্রী। বহরমপুরে মুশিদাবাদ জেলার প্রশাসনের শীর্ষ আধিকারিকদের নিয়ে একটি গুরুত্বপূর্ণ রিভিউ মিটিং করেন মুখ্যমন্ত্রী। মূলত জেলার সামগ্রিক উন্নয়ন এবং বিভিন্ন সরকারি প্রকল্পের অগ্রগতি খতিয়ে দেখাই ছিল এই বৈঠকের উদ্দেশ্য।
প্রশাসনিক সভা শেষ করে বাইরে বেরিয়ে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে শুভেন্দু অধিকারী জানান, মূলত আমরা এই জেলাতে ডেভেলপমেন্টের বিভিন্ন স্কিম রিভিউ করলাম। বেশ কিছু বিষয়ে আধিকারিকদের নির্দেশ দিলাম। দু’মাস খুব একটা বেশি সময় নয়, এরমধ্যে আমরা গঙ্গা ভাঙ্গন রোধে মালদা ও মুর্শিদাবাদের জন্য ৩৬০০ কোটি টাকার একটি প্রপোজাল তৈরি করে পাঠিয়েছি। এই মেগা প্রকল্পের আর্থিক কাঠামোর বিন্যাস স্পষ্ট করে দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। তিনি জানান, এই প্রকল্পের মোট খরচ ৫০ শতাংশ দেবে ভারত সরকার, বাকি ৫০ শতাংশ দেবে রাজ্য সরকার। এই টাকার সিংহভাগই বরাদ্দ মুর্শিদাবাদের জন্য। ফারাক্কা থেকে শুরু করে ভগবানগোলা, লালগোলার বিস্তীর্ণ স্ট্রেচ অঞ্চল গুলি ক্ষতিগ্রস্ত হয়। প্রতিবছর নদীর করাল গ্রাসে চলে যায় বিঘের পর বিঘে জমি। ঘর বাড়ি তলিয়ে যায়। আর সেখানেই মূলত কাজ হবে।
মুখ্যমন্ত্রী জানিয়েছেন যে, এর ফলে গঙ্গা ভাঙ্গন সমস্যার একটি স্থায়ী সমাধান হবে। কেন্দ্রের সঙ্গে যৌথভাবে আড়াই হাজার কোটি টাকার পরিকল্পনা বাস্তবায়িত হলে গঙ্গা ভাঙ্গন কবলিত লাখ লাখ মানুষের দীর্ঘদিনের দুর্ভোগের অবসান ঘটবে বলে মনে করা হচ্ছে।

