Suvendu, BJP, সোমবার থেকেই রাজ্য জুড়ে লাগু হয়ে যাচ্ছে গুন্ডা দমন আইন, জানিয়ে দিলেন শুভেন্দু অধিকারী

আমাদের ভারত, ১০ জুলাই: রাজ্যের আইন- শৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে ও সমাজ বিরোধী কার্যকলাপ সার্বিক ভাবে দমন করতে বিল এনেছিল নতুন বিজেপি সরকার। যে বিল ইতিমধ্যেই বিধানসভায় পাস হয়েছে। এবার গুন্ডা দমন বিল এবং প্রিভেন্টিভ অ্যারেস্ট সংক্রান্ত বিলে অনুমোদন দিয়ে দিয়েছেন রাজ্যপাল আর এন রবি। বহরমপুরে সে কথা জানিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী।

মুখ্যমন্ত্রী বলেন, এই বিলটিতে রাজভবনের সবুজ সংকেত পাওয়া গেছে। ফলে আগামী সোমবার থেকেই গোটা পশ্চিমবঙ্গে সম্পূর্ণভাবে কার্যকর হতে চলেছে আইএনটি। বিধানসভায় বিলটি পাস হওয়ার পর তা চূড়ান্ত আইনি রূপ দেওয়ার জন্য রাজভবনে পাঠানো হয়েছিল। রাজ্যপাল বিলটিতে সম্মতি দেওয়ায় সোমবার থেকে এটি সরকারিভাবে আইন হিসেবে বলবত হচ্ছে।

এই নতুন আইনের অধীনে রাজ্যে কোনরকম বিশৃঙ্খলা, উস্কানি, বা দাঙ্গা ছড়ানোর চেষ্টা হলে তা প্রতিরোধ করতে পুলিশ প্রিভেন্টিভ অ্যারেস্ট বা অপরাধ ঘটার আগেই সন্দেহভাজনদের গ্রেপ্তার করার বিশেষ এক্তিয়ার পাবে।

আইন নিজের হাতে তুলে নেওয়া, জনজীবন বিপর্যস্ত করা, বা গুন্ডামির মত অপরাধের ক্ষেত্রে প্রশাসন এবার থেকে বিশেষ আইনের কঠোর ধারাগুলি প্রয়োগ করবে। মুখ্যমন্ত্রী জানিয়েছেন, রাজ্যে আইনের শাসন বজায় রাখতে প্রশাসন সম্পূর্ণ আইন সম্মত পদক্ষেপ করবে। কোনো সস্তা ভাষণবাজি বা উস্কানিতে কান না দিয়ে নতুন আইনের সাহায্যে দুষ্কৃতি দমন করা হবে।

গুজরাট, উত্তরপ্রদেশের মতোই পশ্চিমবঙ্গে নতুন গুন্ডা দমন আইন চালু হচ্ছে। সেই লক্ষ্যে বিধানসভায় পেশ করা হয়েছিল দ্যা ওয়েস্ট বেঙ্গল পাবলিক সেফটি এন্ড কন্ট্রোল অ্যান্টি সোশ্যাল অ্যাক্টিভিটিজ বিল। ২০২৬- এর পাশাপাশি আনা হয় ওয়েস্ট বেঙ্গল মেইন্টেনেন্স অফ পাবলিক অর্ডার ১৯৭২ আইনের সংশোধনী বিল।

এই সংশোধনী আইনের মাধ্যমে সরকারি বা বেসরকারি সম্পত্তি ভাঙ্গচুর, অগ্নিসংযোগ বা ধ্বংসের ঘটনায় অভিযুক্তদের কাছ থেকে ক্ষয়ক্ষতির অর্থ আদায়ের আইনি পথ তৈরি করেছে সরকার। জনসম্পত্তি নষ্ট করলে আর্থিক দায় বহন করতে হবে অভিযুক্তদের।

সরকার গঠনের পরেই বিশেষ আইন আনার ইঙ্গিত দিয়েছিলেন শুভেন্দু অধিকারী। সরকারের দাবি, অতীতে প্রতিবাদের আড়ালে বহু ক্ষেত্রে ব্যাপক ভাঙ্গচুর অগ্নি সংযোগের ঘটনা ঘটেছে। বিশেষ করে ২০১৯ সালে নাগরিকত্ব সংশোধনী আইন পাশের সময় মালদা, মুর্শিদাবাদ, উত্তর ২৪ পরগনা, হাওড়া সহ একাধিক জেলায় অশান্তি ছড়িয়ে পড়েছে। সেই সময় ট্রেন, বাস- সহ বিভিন্ন সরকারি সম্পত্তিতে আগুন লাগানো, ভাঙ্গচুরের অভিযোগ উঠেছে। নতুন সরকার ক্ষমতায় আসার পর সেই সমস্ত ঘটনার তদন্ত শুরু হয়েছে।

সামসেরগঞ্জ বা ধুলিয়ানে অতীতে যা হয়েছে ভবিষ্যতে তার পুনরাবৃত্তি হলে কঠোর পদক্ষেপ করা হবে বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। শুভেন্দু অধিকারী জানিয়েছেন, আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়েছে। আগামী সোমবার থেকে গোটা রাজ্যে কার্যকর হবে নতুন গুন্ডা দমন আইন। এই আইনের ফলে রাজনৈতিক হিংসাই কেবল নয়, তোলাবাজি, জমি দখল, সিন্ডিকেট চক্র, বেআইনি খনি, বালি কারবার, সম্পত্তি ভাঙ্গচুর, কিংবা ব্যবসায় বাধা সংগঠিত এই সমস্ত অপরাধের প্রায় সমস্ত ক্ষেত্র নতুন আইনের আওতায় এনেছে রাজ্য সরকার। এই আইনের ফলে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার রাস্তা তৈরি করা সম্ভব হয়েছে বলে মনে করা হচ্ছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *