সোমনাথ বরাট, আমাদের ভারত, বাঁকুড়া, ১০ জুলাই: জঙ্গি কার্যকলাপের অভিযোগে ধৃত মীর আসিফ আলির বাঁকুড়ার খাতড়া খড়বন মোড়ের বাড়িতে গতকাল রাতে হানা দেয় এনআইএ। আইএসআইএস (ইসলামিক স্টেট অফ ইরাক এন্ড সিরিয়া) আল কায়েদা যোগের তদন্ত নেমে তল্লাশির জন্য এনআইএ-র এই হানা বলে মনে করা হচ্ছে। এই ঘটনায় এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়িয়ে পড়ে।
বাঁকুড়ায় বসে জঙ্গি কার্যকলাপ চালানোর অভিযোগে আসিফ আলিকে গত মার্চ মাসে ২০২৬ অন্ধ্রপ্রদেশ পুলিশ গ্রেপ্তার করে তদন্তে নামে। বাঁকুড়ায় বসে রাজ্যে জঙ্গি মডিউল তৈরি ও সোশ্যাল নেটওয়ার্কে জঙ্গি কার্যকলাপ ছড়ানোর অভিযোগ রয়েছে আসিফের বিরুদ্ধে। বিভিন্ন তদন্তের রিপোর্টে দেখা যায়, সে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে সংগঠনের নেটওয়ার্ক সম্প্রসারণের কাজ করছিল। এনআইএ আধিকারিকরা আসিফ আলির বাড়ির লোকের সঙ্গে কথা বলেন ও তল্লাশি চালান। এই তল্লাশির সময় বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ নথি পাওয়া গেছে বলে জানাগেছে।

উল্লেখ্য, বৃহস্পতিবার গভীর রাতে বাঁকুড়ার খাতড়া ছাড়া ও পশ্চিমবঙ্গ, অন্ধ্রপ্রদেশ, তেলঙ্গানা, কর্ণাটক, বিহার, উত্তরপ্রদেশ, মহারাষ্ট্র, গুজরাত, রাজস্থান ও দিল্লির ২০টি জায়গায় এনআইএ আধিকারিকরা তল্লাশি চালিয়েছে। আইএসআইএস ও আল কায়েদার জেহাদি মতাদর্শ প্রচারের অভিযোগে বাঁকুড়ার খাতড়ায় মির আসিফ আলির বাড়িতে তল্লাশি চালানো হয়েছে। এই ঘটনায় আগে মির আসিফ আলি এনআইএ’র জালে বিশাখাপত্তনমে অন্ধ্রপ্রদেশ পুলিশের হাতে গ্রেফতার হয়। বৃহস্পতিবার গভীর রাতে তার বাড়িতে যে তল্লাশি চালানো হয়েছে তাতে বেশ কিছু নথি ও ডিজিটাল ডিভাইস বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে। এই সব তথ্য খতিয়ে দেখা হচ্ছে বলে এনআইএ সূত্রে জানা গিয়েছে। এদের মাধ্যমে বিদেশে বসে জঙ্গি হ্যান্ডলরা অনলাইনে দেশের যুব সমাজকে জেহাদি পাঠ দানে টার্গেট করছে বলে জানতে পেরেছেন এনআইএ-র তদন্তকারী আধিকারিকরা। ভুয়ো তথ্য দিয়ে এদের সাহায্যে দেশ বিরোধী মনোভাবে উদ্বুদ্ধ করা ও দেশের যুব সম্প্রদায়ের মধ্যে আল কায়েদা ও আইএসআইএস- এর জঙ্গি মতাদর্শ ছড়িয়ে দেওয়ার চেষ্টা চালানো হচ্ছে। বিভিন্ন জঙ্গি হ্যান্ডলারদের মাধ্যমে ও পুরো অনলাইনে দেশ বিরোধী কার্যকলাপে যুব সম্প্রদায়কে উৎসাহ দেওয়া হচ্ছে। বাঁকুড়ায় বসে মির আসিফ আলি একাজ করছিল বলে তদন্তে নেমে প্রাথমিক ভাবে এমনটাই জানতে পেরেছেন এনআইএ- র তদন্তকারী আধিকারিকরা। আর সেই সূত্র ধরেই খাতড়া সহ ভারতের ২০টি জায়গায় এনআইএ- র তল্লাশি চালানো হয়েছে।
বিশাখাপত্তনম এনআইএ-র তরফে মির আসিফ আলির বিরুদ্ধে প্রথমে মামলা রুজু করা হয়। সেই মামলার পরিপ্রেক্ষিতে এই তল্লাশি চালানো হয়েছে। অন্ধ্রপ্রদেশ পুলিশের থেকে তদন্তভার হাতে নেয় এনআইএ। সেই সময় এক নাবালক সহ গ্রেফতার হয়েছিল ১১ জন। এদের হেফাজতে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। সেই জিজ্ঞাসাবাদের সময় প্রাথমিক ভাবে এনআইএ- আধিকারিকরা জানতে পারেন যে, বিদেশে বসে জঙ্গি সংগঠনের নেতারা অনলাইনে দেশের যুব সম্প্রদায়কে ক্রমাগত ভুল বুঝিয়ে তাদের দলে নেওয়ার চেষ্টা করছে। একাজে যুক্ত এক হ্যান্ডলার আল হাকিম সুকুর সূত্র ধরে মহম্মদ রহমতুল্লা শরিফকে আইএসআইএস জঙ্গি হিসেবে গ্রেফতার করা হয়েছিল। এই ২ জঙ্গি যুব সমাজের মগজ ধোলাই করার চেষ্টা চালাচ্ছিল বিদেশে বসে অনলাইনে মির আসিফ আলিদের সাহায্যে। এবিষয়ে এনআইএ তদন্ত চালাচ্ছে।
এই ঘটনার পর খাতড়া খড়বন মোড়ে দেখা যায় কৌতুহলী গ্রামবাসীদের ভিড়। তারা হতবাক। তাদের বক্তব্য, গত মার্চে যখন মির আসিফ আলিকে গ্রেপ্তার করা হয় তখন তারা বুঝে উঠতে পারছিলেন না একজন গ্রামের ছেলে কিভাবে দেশ বিরোধী জঙ্গি হতে পারে। খড়বনের মত জায়গায় থেকে কিভাবে জেহাদি কাজ চালাত। তবে বৃহস্পতিবার গভীর রাতে এনআইএ যেভাবে তল্লাশি চালিয়ে বিভিন্ন নথি উদ্ধার করেছে তা তাদের চিন্তার বাইরে।

