TMC, Bankura, মৃ*ত আশা কর্মীর স্বামীর সঙ্গে সাক্ষাৎ দোলা সেন- কুণাল ঘোষ সহ কালিঘাটের তৃণমূলীদের

আমাদের ভারত, বাঁকুড়া, ৭ আগস্ট: গঙ্গাজলঘাঁটি ব্লকের মৃত আশা কর্মীর বাড়িতে ঢুকতে না পেয়ে বাড়ির বাইরে মৃতার স্বামীর সঙ্গে কথা সারলেন কালিঘাট তৃণমূলের টিম মমতার সদস্যরা। আজ সকাল ১১টা নাগাদ বাঁকুড়া জেলা তৃণমূলের একঝাঁক নেতা- কর্মীদের নিয়ে মৃত আশা কর্মী রুম্পা মন্ডলের গ্রাম ভালুকাথোল যান টিম মমতার অন্যতম সদস্য সাংসদ দোলা সেন ও বিধায়ক কুণাল ঘোষ। তাদের সঙ্গে ছিলেন গঙ্গাজলঘাঁটির তৃণমূল নেতা নিমাই মাজি, শালতোড়ার প্রাক্তন বিধায়ক স্বপন বাউরি বড়জোড়ার দুই প্রাক্তন বিধায়ক আশুতোষ মুখোপাধ্যায় ও অলক মুখোপাধ্যায়। এছাড়াও জেলা নেতৃত্ব সুব্রত দরিপা, সন্তোষ মন্ডল, বঙ্কিম মিশ্র, ধবল সিংহ, পবিত্র মুখার্জি সহ শতাধিক নেতা- কর্মী। তারা গ্রামে ঢুকতে কোনো বাধা না পেলেও মৃত আশা কর্মীর বাড়িতে তাদের যেতে দেওয়া হয়নি। মৃতার স্বামী সুভাষ মন্ডল বাড়ি থেকে বেরিয়ে এসে তাদের সঙ্গে দেখা করে কথা বলেন।

সুভাষ মন্ডল বলেন, তাদের সঙ্গে স্বাস্থ্যমন্ত্রীর কথা হয়েছে। এবিষয়ে তিনি আর কিছু বলতে চাননি। দোলা সেন ও কুণাল ঘোষ সুভাষ মন্ডলকে বলেন, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় নিজে এখানে আসতে চেয়েছিলেন। কিন্তু তাঁকে গৃহবন্দি করে রাখা হয়েছে। তাই তিনি আসতে না পারলেও তাদের পাঠিয়েছেন। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় আপনাদের পাশে আছে বলে, কুণাল বাবু সংবাদ মাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে এখানের বিজেপি বিধায়ক চন্দনা বাউরি ও তৃণমূলের বিধায়ক ও নেতাদের চাঁচাছোলা ভাষায় আক্রমণ করেন।

কুণাল ঘোষ বলেন, যে আশা কর্মীরা আয়ুষ্মান ভারতের ই- কেওয়াসির বিষয়ে দক্ষ নন, তাদের ঘন্টা খানেকের ট্রেনিং দিয়ে জোর জবরদস্তির সঙ্গে কাজ করতে বলা হয়েছে। তারা সেই অতিরিক্ত চাপ নিয়েও কাজ করছেন, আর এখানের বিধায়ক চন্দনা বাউরি তাদের খারাপ ভাষা বলছেন, হুমকি দিয়েছেন। তার সেই হুমকিতে আতঙ্কিত হয়ে রুম্পা মন্ডলের মৃত্যু অনেক কিছুর ইঙ্গিত দিয়ে গেলেন।

দোলা সেন বলেন, যেভাবে বিএলওদের চাপ দিয়ে এসআইআর- এর কাজ করিয়েছে বিজেপি ও নির্বাচন কমিশন তাতে বহু বিএলও আত্মহত্যা করতে বাধ্য হয়েছেন। আশা- কর্মীদেরও সেইভাবে চাপ দিচ্ছে, চন্দনা বাউরিরা তারই পুনরাবৃত্তি করলেন। তিনি বলেন, আমরা রুম্পা মন্ডলের পরিবারের পাশে আছি, সেই বার্তাই পৌঁছে দিতে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় তাঁদের পাঠিয়েছেন। মৃতার একটি ১২ বছরের কন্যা সন্তান রয়েছে। স্বামী প্রান্তিক কৃষক। মৃতার মাসিক ভাতাতেই মেয়ের পড়াশোনা ও টিউশন খরচ চলতো। তারা দাবি করছেন তাদের পরিবারের একজন যাতে চাকরি পান এবং মেয়ের পড়াশোনার দায়িত্ব নেওয়ার। তিনি বলেন, বিধানসভায় কুণাল ঘোষকে কিছু বলতে দেওয়া হচ্ছে না। বলতে গেলে মার্শাল দিয়ে বের করে দেওয়া হয়। তবুও তাঁরা মৃতের পরিবারের দাবি যথাস্থানে পৌঁছে দিতে উদ্যোগ নেবেন। তিনি গঙ্গাজলঘাঁটি ব্লক তৃণমূল নেতা নিমাই মাজিকে এই পরিবারের খোঁজ রাখার দায়িত্ব দেন। অন্যদিকে কুণাল ঘোষ ঋত তৃণমূল নেতাদের একহাত নিয়ে বলেন, যারা বিধানসভায় বিজেপির বি-টিম তারা কেউ একবারর জন্যও খোঁজ নিতে আসেনি। মানুষ ওদের ঠিক সময়ে ঠিক শিক্ষা দিয়ে দেবেন।

উল্লেখ্য, গঙ্গাজলঘাঁটি ব্লকের আশা কর্মীরা বাড়ি বাড়ি গিয়ে আয়ুস্মান প্রকল্পের ই-কেওয়াইসির কাজ না করায় গত রবিবার চন্দনা বাউরি এক আশা কর্মীকে ভর্ৎসনা করে নানা কটুকথা বলেন। সেই ছবি সোস্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হয়। সেই ঘটনার পরে পরেই বাড়িতে হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে মৃত্যু হয় আশা কর্মী রূম্পা মন্ডলের। যার জেরে রাজ্য জুড়ে আশা কর্মীদের ক্ষোভ আছড়ে পড়ে। দাবি ওঠে মৃতের পরিবারকে আর্থিক ক্ষতিপূরণ দেওয়ার পাশাপাশি বিধায়ক চন্দনা বাউরিকে প্রকাশ্যে ক্ষমা চাইতে হবে। মঙ্গলবার স্বাস্থ্য ভবনে চন্দনা বাউরি ও মৃতের আত্মীয় এবং আশাকর্মীদের ডেকে আলোচনা করেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী। তার পরদিন মৃত আশা কর্মীর বাড়িতে গিয়ে সমবেদনা জানিয়ে পাশে থাকার আশ্বাস দেন চন্দনা বাউরি।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *