আমাদের ভারত, ৭ আগস্ট: বাইরে থেকে দেখলে মনে হবে কয়েক জন ফুটবল অনুরাগীর গ্রুপ। কিন্তু সেই গ্রুপেই দেশের অন্যতম বড় প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষা নিট ইউজি’র প্রশ্নপত্র ফাঁসের ছক কষা হয়েছিল বলে সিবিআই এর জমা দেওয়া কুড়ি হাজার পাতার চার্জশিটে উল্লেখ করা হয়েছে।
তদন্তকারী সিবিআই কর্তাদের মতে ফিফা ওয়ার্ল্ড কাপ ২০২৬ নামের একটি ৮ সদস্যের হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপের সূত্র ধরেই পুরো জালিয়াতির জালে পৌঁছানো সম্ভব হয়েছে। এনটিএ-র চুক্তিভিত্তিক বিশেষজ্ঞ পি ভি কুলকার্নি ও মণীষা মান্ধারের মতো প্রধান অভিযুক্তদের নাম এই গ্রুপের কারণে সামনে আসে। এখানে আলোচনা হতো স্পেশাল বায়োলজি ক্লাসের সিডিউল, নিটের পরের পেপার ইভালিশন এবং নম্বর ক্যালকুলেশন নিয়ে।
সিবিআই সূত্রে খবর, পুরো ষড়যন্ত্রের প্রধান সংযোগকারী হিসেবে কাজ করেছিলেন পুনের মণীষা ওয়াঘমারে। তিনি এনটিএ’র অনুমোদিত অনুবাদক প্রুফফিডার। মণীষা মান্ধার ও পিভি কুলকার্নির সঙ্গে পরীক্ষার্থীদের যোগাযোগ করিয়ে দেওয়ার দায়িত্বে ছিলেন মণীষা ওয়াঘমারে।
মণীষা দাবি করেছিলেন, এই বিশেষজ্ঞরা যে ক্লাস নেবেন সেখান থেকেই নিট পরীক্ষার হুবহু প্রশ্ন পাওয়া যাবে। তদন্তে জানাগেছে, মণীষা ওয়াঘমারের স্বামী পুনের ডেন্টাল ক্লিনিকটি হয়ে উঠেছিল প্রশ্নপত্র ফাঁস ও তার টাইপ করার মূল ঘাঁটি। সেখান থেকে ফিজিক্স, কেমিস্ট্রি ও বায়োলজির ফাঁস হওয়া প্রশ্নের ডিজিটাল কপি, বাজেয়াপ্ত করেছে সিবিআই।
গত বছরের নভেম্বর থেকে ডিসেম্বর এবং চলতি বছরের মার্চ থেকে এপ্রিল, দুটি ধাপে মণীষা নিজের ফ্ল্যাটে বিশেষ অফলাইন ক্লাস পরিচালনা করতেন। সেখানেই তিনি শিক্ষার্থীদের নতুন এনসিইআরটি একাদশ ও দ্বাদশ শ্রেণির পাঠ্য বইয়ের নির্দিষ্ট কিছু প্যারাগ্রাফ লাল কালিতে চিহ্নিত করতে বলতেন এবং মার্জিনে বিশেষ প্রশ্ন লিখিয়ে দিতেন। এরপর একটা আলাদা খাতায় প্রশ্নগুলোর উত্তর লিখিয়ে তা নিজে কারেকশন করে দিতেন। একই কায়দায় এনটিএ-র রসায়ণ বিশেষজ্ঞ পি ভি কুলকার্নি পুনের নান্দর সিটিতে নিজের বাড়িতে ৯জন ছাত্রের দুটি ব্যাচে কেমেস্ট্রির ফাঁস হওয়া প্রশ্ন দিয়ে স্পেশাল ক্লাস করিয়েছিলেন।
পরীক্ষার পর ছাত্র- ছাত্রীদের তৈরি ওই বিশেষ নোট বইয়ের সাথে আসল নিট ইউজি পরীক্ষার প্রশ্ন মেলাতেই চমকে যান। তদন্তকারীরা দেখেন, প্রায় সব প্রশ্নই হুবহু মিলে গেছে।
এই গ্রুপটির পাশাপাশি নিট ২০২৬ নামে আরেকটি গোপন হোয়াটস অ্যাপ গ্রুপের সন্ধান মিলেছে। যেখানে ক্লাস ও লিংকের সময়সূচি পাঠানো হতো। বায়োলজি ও কেমিস্ট্রি বিশেষজ্ঞদের পাশাপাশি ফিজিক্সের বিশেষজ্ঞ মণীষা হাওয়ালদারকেউ গ্রেফতার করেছে সিবিআই। অভিযোগ, টাকার বিনিময়ে তিনি ৬৬টি হাতে লেখা ফিজিক্সের প্রশ্ন ফাঁস করেছিলেন।
তথ্য প্রমাণ ও সাক্ষ্য গ্রহণের পর গত ১৫-১৬ মে সিবিআই অভিযুক্তদের গ্রেফতার করে। এনটিএর গোপনীয়তা রক্ষার নিয়ম ভেঙ্গে কিভাবে সরকারি পদের অপব্যবহার করে এই রমরমা কারবার চলছিল তা এখন সিবিআই- এর পেশ করা চার্জসিটে স্পষ্ট হয়ে গেছে।

