পার্থ খাঁড়া, আমাদের ভারত, ২৩ সেপ্টেম্বর: পশ্চিমবঙ্গ সরকারের নির্দেশে ঋষি রাজনারায়ণ বসুর দ্বিশত জন্মবার্ষিকী উদযাপন উপলক্ষে বিদ্যাসাগর বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাস বিভাগের উদ্যোগে ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬ একটি আলোচনা চক্রের আয়োজন করা হয়। অনুষ্ঠানের উদ্বোধন করেন বিদ্যাসাগর বিশ্ববিদ্যালয়ের মাননীয় উপাচার্য শ্রী দীপক কুমার কর। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন কলা ও বাণিজ্য অনুষদের অধ্যক্ষ অধ্যাপক অরিন্দম গুপ্ত। অনুষ্ঠানে ছাত্র- ছাত্রী, গবেষক এবং বিভিন্ন মহাবিদ্যালয় থেকে আগত অধ্যাপক- অধ্যাপিকাবৃন্দ অংশগ্রহণ করেন। ইতিহাস বিভাগের অধ্যাপক ও অধ্যাপিকাবৃন্দের সক্রিয় উদ্যোগ ও সহযোগিতায় অনুষ্ঠানটি সাফল্যমণ্ডিত হয়ে ওঠে।

উদ্বোধনী পর্বে মাননীয় উপাচার্য শ্রী দীপক কুমার কর তাঁর বক্তব্যে ঋষি রাজনারায়ণ বসুর জীবনের নানাবিধ কর্মকাণ্ডের উল্লেখ করেন। উনিশ শতকের বাংলার নবজাগরণের অন্যতম পুরোধা পুরুষ হিসেবে ঋষি রাজনারায়ণ বসুর অবদানের কথা তুলে ধরার পাশাপাশি তাঁর শিক্ষা-ভাবনা সম্পর্কেও উপাচার্য মহাশয় আলোচনা করেন। তিনি উল্লেখ করেন যে, বর্তমান New Education Policy- র নানা উপাদান ঋষি রাজনারায়ণ বসুর চিন্তাভাবনার মধ্যে খুঁজে পাওয়া যায়।
কলা ও বাণিজ্য অনুষদের অধ্যক্ষ অধ্যাপক অরিন্দম গুপ্ত তাঁর বক্তব্যে ঋষি রাজনারায়ণ বসুর ধর্মচিন্তার সঙ্গে বিজ্ঞানের সম্পর্কের বিষয়টি তুলে ধরেন।
কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাক্তন অধ্যাপক ভাস্কর চক্রবর্তী তাঁর সূচক বক্তৃতায় উনিশ শতকের বাংলার নবজাগরণের সময়কালে ঋষি রাজনারায়ণ বসুর নানা দিক, তাঁর চিন্তা এবং সেই চিন্তার জটিলতার বিভিন্ন দিক তুলে ধরেন। পাশাপাশি তিনি ঋষি রাজনারায়ণ বসুর জাতীয়তাবাদী চেতনার কথাও উল্লেখ করেন।
অনুষ্ঠানের প্রথম পর্বে আমন্ত্রিত বক্তা হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিশ্বভারতী, শান্তিনিকেতনের অধ্যাপক বিশ্বজিৎ রায় এবং রায়গঞ্জ বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক অনিরুদ্ধ দাস। অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন ইতিহাস বিভাগের বিভাগীয় প্রধান শ্রী গৌতম চন্দ রায়।

অধ্যাপক বিশ্বজিৎ রায় তাঁর বক্তব্যে ঋষি রাজনারায়ণ বসুর কালের মাত্রা-সংক্রান্ত ভাবনা এবং তাঁর ইতিহাসবোধ বিষয়ে আলোচনা করেন। অন্যদিকে অধ্যাপক অনিরুদ্ধ দাস তাঁর বক্তৃতায় বাংলার নবজাগরণে ঋষি রাজনারায়ণ বসুর ভূমিকার মূল্যায়ন করেন এবং জাতীয়তাবাদী চিন্তার জাগরণে তাঁর ভূমিকার কথাও উল্লেখ করেন।
অনুষ্ঠানের দ্বিতীয় পর্বে বক্তা ছিলেন অধ্যাপিকা কৌশিকী দাশগুপ্ত এবং এই পর্বটি সভাপতিত্ব করেন অধ্যাপিকা সুজয়া সরকার। অধ্যাপিকা কৌশিকী দাশগুপ্ত তাঁর বক্তৃতায় ঋষি রাজনারায়ণ বসুর ভক্তি ও অদ্বৈতবাদের সমন্বয়-এর বিষয়টি উল্লেখ করেন।
অনুষ্ঠানের একটি উল্লেখযোগ্য দিক ছিল ঋষি রাজনারায়ণ বসুর বিভিন্ন নথিপত্র সংরক্ষণ ও উপস্থাপনের উদ্যোগ। ইতিহাস বিভাগের প্রাক্তন ছাত্র সাগ্নিক দণ্ডপাট ‘চেতনা’ নামে একটি ওয়েবসাইট তৈরি করেছেন, যেখানে ঋষি রাজনারায়ণ বসুর নানা নথিপত্র সংরক্ষিত হয়েছে। এটি একপ্রকার আন্তর্জালিক অভিলেখাগার হিসেবে কাজ করছে। ধন্যবাদ জানান অধ্যাপক সৌরভ নস্কর। অধ্যাপকদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন অধ্যাপক শ্যামাপ্রসাদ দে, দেবযানী দাস এবং নির্মল কুমার মাহাতো।

