পিন্টু কুন্ডু, বালুরঘাট, ৪ জানুয়ারি: দল নেত্রীর জন্মদিনেও বালুরঘাটে দ্বিধাবিভক্ত তৃণমূল শিবির। পঞ্চায়েতের সরকারি কাজের ভাগ নিয়ে মতপার্থক্যের জেরে মহিলা তৃণমূল পঞ্চায়েত প্রধানের বিরুদ্ধে একজোটে অনাস্থা আনার অভিযোগ খোদ তৃণমূল জেলা সভাপতি, ব্লক সভাপতি ও উপপ্রধানের বিরুদ্ধে। অভিযোগ অস্বীকার তৃণমূল নেতৃত্বদের। বুধবার এই ঘটনাকে ঘিরে তুমুল উত্তেজনা ছড়ায় বালুরঘাটের বোয়ালদাড় এলাকায়। শতাধিক পুলিশের উপস্থিতিতে চলে পঞ্চায়েতের অনাস্থা প্রক্রিয়া। যদিও এই অনাস্থার বিষয় নিয়ে কোনো কথাই বলতে চাননি প্রশাসনিক আধিকারিকরা।
১৬ আসন বিশিষ্ট বালুরঘাট ব্লকের বোয়ালদাড় গ্রাম পঞ্চায়েত। ২০১৮ সালের পঞ্চায়েত নির্বাচনে এখানে তৃণমূল আসন লাভ করে মাত্র ৬ টি, যেখানে বিজেপি আসন লাভ করে ৬ টি এবং চারটি আসন লাভ করে বামফ্রন্ট। যদিও পরবর্তীতে বিজেপির ৩ সদস্য এবং বামফ্রন্টের ২ সদস্য তৃণমূলে যোগ দিয়ে ওই পঞ্চায়েতে ক্ষমতা ধরে রাখে তৃণমূল। বামফ্রন্ট থেকে তৃণমূলে যোগ দিয়ে ওই পঞ্চায়েতের প্রধান হন মৌসুমী রায়। যার বিরুদ্ধেই বুধবার অনাস্থা আনে খোদ তৃণমূল। আর যাকে ঘিরেই জোর চর্চা শুরু হয় গোটা দক্ষিণ দিনাজপুর জেলায়। এদিন সকাল থেকে গোটা রাজ্যজুড়ে যখন দলনেত্রীর জন্মদিন পালনে ব্যস্ত হয়ে ওঠে তৃণমূলের নেতা কর্মীরা। তখন ঠিক যেন তার উলটো চিত্র দেখা যায় বালুরঘাট ব্লকের বোয়ালদাড় এলাকায়। নেত্রীর জন্মদিন কার্যত ভুলে গিয়ে এলাকার নেতারা সকাল থেকেই ব্যস্ত হয়ে ওঠেন নিজেদের ভাগাভাগির লড়াই নিয়ে। আর যাকে ঘিরেই পুলিশের উপস্থিতিতে চলে অনাস্থা প্রক্রিয়া।
বোয়ালদাড়ের মহিলা পঞ্চায়েত প্রধানের অভিযোগ, সরকারি কাজের ৩৫ টি টেন্ডার হয় পঞ্চায়েতে। যার মধ্যে ১০ টির ই-টেন্ডার এবং বাকি ২৫ টি গোপনে একজোট হয়ে নিজেরা আত্মসাৎ করতে চেয়েছিল জেলা তৃণমূল সভাপতি উজ্জ্বল বসাক, ব্লক সভাপতি অরূপ সরকার ও উপপ্রধান পিন্টু বসাক। শুধু তাই নয়, একশো দিনের কাজের টাকা থেকেও বঞ্চিত হয়েছে এলাকার প্রকৃত মানুষরা। উলটে সেই টাকা পকেটে ঢুকছে এলাকার কিছু নেতা ও ব্যবসায়ীদের পকেটে বলে অভিযোগ। অবৈধ সেইসব কাজের প্রতিবাদ করাতেই তার বিরুদ্ধে একজোট হয়ে অনাস্থা এনেছে জেলা তৃণমূল সভাপতি উজ্জ্বল বসাক, ব্লক সভাপতি ও উপপ্রধান। যদিও সেই অভিযোগ অস্বীকার করে তৃণমূল নেতৃত্বের দাবি, দলের কথা না শোনবার পাশাপাশি নানা দুর্নীতিতে যুক্ত হয়েছিলেন ওই পঞ্চায়েত প্রধান। যে কারনেই অনাস্থা ডেকে তাকে সরানোর প্রক্রিয়া শুরু করা হয়েছে। সুত্রের খবর অনুযায়ী প্রধানের বিরুদ্ধে ডাকা যে অনাস্থা প্রক্রিয়ায় এদিন তৃণমূলের ১০ সদস্যর পাশাপাশি বামফ্রন্টের দুই সদস্যও ভোট দিয়েছেন।
বোয়ালদাড়ের মহিলা পঞ্চায়েত প্রধান মৌসুমী রায় বলেন, অন্যায়ের সাথে আপোষ না করায় তার বিরুদ্ধে অনাস্থা আনা হয়েছে। পঞ্চায়েতের কাজের ৫০ শতাংশেরও বেশি দাবি করেছিল তৃণমূল সভাপতি উজ্জ্বল বসাক, ব্লক সভাপতি অরূপ সরকার ও উপপ্রধান পিন্টু বসাকরা। যা দিতে না চাওয়ায় দলেরই একজন অসহায় মহিলার সাথে এমন আচরণ তাদের। বিষয়টি নিয়ে আইনের পথে হাঁটবেন তিনি।
বালুরঘাট ব্লক তৃণমূল সভাপতি অরূপ সরকার ও বোয়ালদাড়ের অঞ্চল সভাপতি শ্যামসুন্দর সরকাররা বলেন, বামফ্রন্ট থেকে তৃণমূলে আসা ওই প্রধান দলের কথা মানছিলেন না। নানা দুর্নীতিতে যুক্ত হয়েছিলেন তিনি। তাই তাকে সরাতে এদিনের অনাস্থা। তাদের বিরুদ্ধে প্রধান যেসব অভিযোগ এনেছে তা সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন।

