পার্থ খাঁড়া, আমাদের ভারত, পশ্চিম মেদিনীপুর,
৯ আগস্ট: রবিবার সকালে খড়্গপুরের বোগদা এলাকায় প্রাতঃভ্রমনের পর চা-চক্রে যোগ দেন মন্ত্রী তথা বিজেপি নেতা দিলীপ ঘোষ। সেখানে উপস্থিত বিজেপি কর্মী- সমর্থক এবং সাধারণ মানুষের সঙ্গে দীর্ঘক্ষণ খোলামেলা আলোচনায় অংশ নেন তিনি। পরে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে আর জি কর কাণ্ড, অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের পিএ-কে সিবিআইয়ের জিজ্ঞাসাবাদ, বিজেপিতে তৃণমূলীকরণ, জরুরি অবস্থায় আরএসএস কর্মীদের ভূমিকা, সরকারি বাস পরিষেবা এবং জাতীয় সড়কে টোটো চলাচল- সহ একাধিক বিষয়ে নিজের প্রতিক্রিয়া জানান দিলীপ ঘোষ।
* আর জি কর- কাণ্ড নিয়ে ফের সরব দিলীপ ঘোষ:-আরজি কর-কাণ্ড প্রসঙ্গে দিলীপ ঘোষ বলেন, “আর জি করের কেস রিওপেন হয়েছে। বিশেষ তদন্ত হচ্ছে।” তাঁর কথায়, এই ঘটনা শুধু পশ্চিমবঙ্গ নয়, গোটা দেশকে নাড়িয়ে দিয়েছিল। এমন জঘন্য ঘটনার পুনরাবৃত্তি যাতে না ঘটে, সেই জন্য সমাজকে আরও সচেতন ও জাগ্রত হওয়ার প্রয়োজন রয়েছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি। দিলীপ ঘোষ বলেন, এই ঘটনার সঙ্গে যুক্তদের উপযুক্ত শাস্তি হওয়া দরকার। আর জি করের ঘটনায় নিহত চিকিৎসকের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে সমাজকে এই ধরনের অপরাধের বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বানও জানান তিনি।
* অভিষেকের পিএ-কে সিবিআইয়ের জিজ্ঞাসাবাদ প্রসঙ্গ:- তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের পিএ সুমিত রায়কে সিবিআইয়ের জিজ্ঞাসাবাদ প্রসঙ্গে দিলীপ ঘোষ বলেন, “সিবিআই ডেকেছে, তদন্ত চলছে। দেখা যাক কত দূর কী হয়।” এর পরেই তিনি আরও বলেন, সুমিত রায় তৃণমূলের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। বিভিন্ন অপকর্মের অভিযোগ বা যে সমস্ত ঘটনায় তার নাম উঠে আসছে, সেগুলির তদন্ত হওয়া উচিত বলেও মন্তব্য করেন দিলীপ ঘোষ।
* বিজেপিতে ‘তৃণমূলীকরণ’ নিয়ে দলকে ভাবার পরামর্শ:- বিজেপির মধ্যে তৃণমূল নেতা- কর্মীদের যোগদান এবং দলের ‘তৃণমূলীকরণ’ নিয়ে প্রশ্ন করা হলে দিলীপ ঘোষ বলেন, “যদি সত্যি ঘটনা হয়ে থাকে, পার্টির ভাবা উচিত এটা নিয়ে।” অর্থাৎ দলবদলের মাধ্যমে তৃণমূল থেকে আসা নেতা- কর্মীদের ভূমিকা এবং তার প্রভাব নিয়ে বিজেপির অভ্যন্তরে পর্যালোচনার প্রয়োজন রয়েছে বলেই ইঙ্গিত দেন তিনি।
* জরুরি অবস্থায় লড়াই করা আরএসএস কর্মীদের সম্মান প্রসঙ্গ:- জরুরি অবস্থার সময় আন্দোলনে অংশ নেওয়া এবং জেলে যাওয়া আরএসএস কর্মীদের সম্মান দেওয়া নিয়ে রাজ্য সরকারের উদ্যোগ প্রসঙ্গেও মুখ খোলেন দিলীপ ঘোষ। তিনি বলেন, জরুরি অবস্থার সময় বহু আরএসএস স্বয়ংসেবক আন্দোলনে অংশ নিয়েছিলেন এবং জেলে গিয়েছিলেন। তাঁর দাবি, সারা দেশে প্রায় ৬০ হাজার আরএসএস কর্মী গ্রেফতার হয়েছিলেন এবং অনেকেই প্রায় ২৮ মাস পর্যন্ত জেলে ছিলেন। পরে জনতা সরকার ক্ষমতায় আসার পর তাঁরা মুক্তি পান। দিলীপ ঘোষের বক্তব্য, দীর্ঘদিন ধরে তাঁদের যথাযথ সম্মান দেওয়া হয়নি। বর্তমান রাজ্য সরকার তাঁদের সম্মানিত করার উদ্যোগ নিলে সেটি স্বাগত জানানোর মতো বিষয়। তিনি জানান, তাঁদের মাসে ১০ হাজার টাকা ভাতা দেওয়ার পাশাপাশি এককালীন সম্মান দেওয়ার কথাও রয়েছে।
* সরকারি বাসে ভিড়, বাড়াতে হবে বাসের সংখ্যা:-
সরকারি বাসে যাত্রীদের জায়গা না পাওয়ার অভিযোগ প্রসঙ্গে দিলীপ ঘোষ বলেন, বাসে যদি পর্যাপ্ত জায়গা না থাকে, তাহলে অতিরিক্ত যাত্রী কীভাবে তোলা সম্ভব? তাঁর দাবি, বর্তমানে অনেক মানুষ সরকারি বাসে করে দীঘা, দার্জিলিং-সহ বিভিন্ন পর্যটনকেন্দ্রে যাচ্ছেন। ফলে সাধারণ যাত্রীদের অনেক সময় বাসে জায়গা পেতে সমস্যা হচ্ছে। এই পরিস্থিতি সামাল দিতে রাজ্যে পর্যাপ্ত সংখ্যক সরকারি বাস নেই বলেও মন্তব্য করেন তিনি।দিলীপ ঘোষ বলেন, “বাস যথেষ্ট পরিমাণে নেই, বাস কিনতে হবে।” বিশেষ করে মহিলারা যাতে সরকারি পরিবহণ ব্যবস্থায় সহজে যাতায়াতের সুযোগ পান, সে বিষয়েও গুরুত্ব দেওয়ার কথা বলেন তিনি।
* জাতীয় সড়কে টোটো চলাচল নিয়ে কড়া অবস্থান:-জাতীয় সড়কে টোটো চলাচল নিষিদ্ধ করার সিদ্ধান্ত প্রসঙ্গেও দিলীপ ঘোষ নিজের অবস্থান স্পষ্ট করেন। তিনি জানান, জাতীয় সড়কে টোটো চলাচল বন্ধ করার বিষয়ে তিনি আগেই জেলা প্রশাসন ও পুলিশ প্রশাসনের কাছে দাবি জানিয়েছেন। তাঁর বক্তব্য, জাতীয় সড়কে টোটো চলাচল অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ। টোটোর কারণে দুর্ঘটনার আশঙ্কা যেমন বাড়ছে, তেমনই বিভিন্ন জায়গায় রাস্তার খারাপ অবস্থার কারণে টোটো উল্টে যাওয়ার ঘটনাও ঘটছে।দিলীপ ঘোষ বলেন, “ডিএম, এসপিকে আমিও বলেছি, জাতীয় সড়কে যেন টোটো এন্ট্রি না নেয়। টোটোর জন্য এক্সিডেন্ট বেশি হচ্ছে।” তাঁর মতে, হাইওয়েতে যে কোনও সময় বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটতে পারে। জাতীয় সড়কে টোটো বা সাইকেল চলাচল করলে দ্রুতগতির যানবাহনের স্বাভাবিক চলাচল ব্যাহত হয়। তাই হাইওয়েতে টোটো চলাচল আইনসঙ্গত নয় এবং তা বন্ধ হওয়া উচিত বলেই মত প্রকাশ করেন তিনি।
রবিবারের এই চা-চক্রে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক ও জনস্বার্থের বিষয় নিয়ে দিলীপ ঘোষের মন্তব্য ঘিরে খড়্গপুরের রাজনৈতিক মহলে নতুন করে চর্চা শুরু হয়েছে।

