পার্থ খাঁড়া, আমাদের ভারত, পশ্চিম মেদিনীপুর, ৯ আগস্ট: স্বাধীনতা দিবসের প্রাক্কালে দেশজুড়ে পালিত হচ্ছে ‘হর ঘর তিরঙ্গা’ কর্মসূচি। জাতীয় পতাকার প্রতি শ্রদ্ধা, দেশপ্রেম ও জাতীয়তাবোধের বার্তা সাধারণ মানুষের মধ্যে ছড়িয়ে দিতে এই কর্মসূচিকে ঘিরে বিভিন্ন প্রান্তে নানা অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হচ্ছে। সেই কর্মসূচিরই অঙ্গ হিসেবে রবিবার সকালে পশ্চিম মেদিনীপুরের খড়্গপুরে অনুষ্ঠিত হলো বর্ণাঢ্য তিরঙ্গা যাত্রা। জাতীয় পতাকা হাতে এই শোভাযাত্রায় সামিল হলেন পড়ুয়া থেকে শুরু করে প্রশাসনিক আধিকারিক, জনপ্রতিনিধি এবং সাধারণ মানুষ। গোটা যাত্রাপথে ‘বন্দেমাতরম’ ও দেশাত্মবোধক স্লোগানে মুখর হয়ে ওঠে খড়্গপুর শহর।

খড়্গপুর মহকুমা প্রশাসনের উদ্যোগে এদিন সকালে খড়্গপুরের এসডিও অফিস চত্বর থেকে তিরঙ্গা যাত্রার সূচনা হয়। শুরু থেকেই শোভাযাত্রাকে ঘিরে সাধারণ মানুষের মধ্যে ব্যাপক উৎসাহ ও উদ্দীপনা লক্ষ্য করা যায়। বিভিন্ন বিদ্যালয়ের পড়ুয়ারা হাতে ছোট ছোট জাতীয় পতাকা নিয়ে শোভাযাত্রায় অংশ নেয়। তাঁদের সঙ্গে পা মেলান প্রশাসনিক আধিকারিক, বিভিন্ন স্তরের মানুষ এবং অন্যান্য অংশগ্রহণকারীরাও।
শোভাযাত্রার গোটা পথজুড়েই ছিল দেশাত্মবোধের আবহ। অংশগ্রহণকারীদের হাতে উড়তে দেখা যায় তিরঙ্গা পতাকা। একের পর এক ‘বন্দেমাতরম’ এবং দেশাত্মবোধক স্লোগানে মুখরিত হয়ে ওঠে চারপাশ। স্বাধীনতা দিবসের আগে নতুন প্রজন্মের মধ্যে দেশপ্রেম ও জাতীয়তাবোধ জাগিয়ে তোলা এবং সাধারণ মানুষের মধ্যে জাতীয় পতাকার প্রতি শ্রদ্ধার বার্তা পৌঁছে দেওয়াই এই কর্মসূচির মূল উদ্দেশ্য বলে প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়।
এসডিও অফিস চত্বর থেকে শুরু হওয়া এই তিরঙ্গা যাত্রা খড়্গপুর ট্রাফিক মোড় পর্যন্ত যায়। শোভাযাত্রায় অংশ নেন মন্ত্রী দিলীপ ঘোষও। হাতে জাতীয় পতাকা নিয়ে অন্যান্য অংশগ্রহণকারীদের সঙ্গে পায়ে হেঁটে যাত্রায় সামিল হন তিনি। তাঁর উপস্থিতিতে কর্মসূচিতে বাড়তি উৎসাহ দেখা যায়।

বিশেষ করে পড়ুয়াদের উৎসাহ ছিল চোখে পড়ার মতো। কারও হাতে ছিল ছোট আকারের তিরঙ্গা, আবার কেউ দেশাত্মবোধক স্লোগান দিতে দিতে শোভাযাত্রায় এগিয়ে চলে। বিভিন্ন বয়সের মানুষকে একসঙ্গে জাতীয় পতাকা হাতে পথ চলতে দেখে তৈরি হয় উৎসবের আবহ।
এদিনের কর্মসূচি প্রসঙ্গে মন্ত্রী দিলীপ ঘোষ বলেন, স্বাধীনতা দিবসকে সামনে রেখে রাজ্যজুড়ে ‘হর ঘর তিরঙ্গা’ কর্মসূচি পালিত হচ্ছে। তারই অংশ হিসেবে খড়্গপুরে এই তিরঙ্গা যাত্রার আয়োজন করা হয়েছে। জাতীয় পতাকা ও স্বাধীনতার মূল্যবোধের সঙ্গে সাধারণ মানুষকে আরও নিবিড়ভাবে যুক্ত করাই এই ধরনের কর্মসূচির অন্যতম লক্ষ্য বলে তিনি জানান।
দিলীপ ঘোষ আরও জানান, আগামী ১০ আগস্ট কলকাতায় আরও বড় আকারে তিরঙ্গা যাত্রার কর্মসূচি রয়েছে। সেখানে বড় কার্নিভালের আয়োজন করা হবে। তাঁর দাবি, ওই কর্মসূচিতে প্রায় ১০ থেকে ১৫ হাজার মানুষ একসঙ্গে জাতীয় পতাকা হাতে নিয়ে পদযাত্রায় অংশ নেবেন।
স্বাধীনতা দিবসের প্রাক্কালে খড়্গপুরের এই তিরঙ্গা যাত্রা তাই শুধু একটি শোভাযাত্রা নয়, জাতীয় পতাকার মর্যাদা, স্বাধীনতার চেতনা এবং দেশপ্রেমের বার্তা ছড়িয়ে দেওয়ার একটি তাৎপর্যপূর্ণ উদ্যোগ হিসেবেই উঠে আসে। পড়ুয়া থেকে সাধারণ মানুষ, সকলের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণে এদিন খড়্গপুরে তৈরি হয় এক অন্যরকম দেশাত্মবোধের পরিবেশ।

