Dilip Ghosh, BJP, বারবার সচেতন করলেই কমবে পথ দুর্ঘটনা, পশ্চিম মেদিনীপুর জেলা পুলিশের বিশেষ পথ নিরাপত্তা কর্মসূচির সমাপ্তি অনুষ্ঠানে বললেন দিলীপ ঘোষ

পার্থ খাঁড়া, আমাদের ভারত, পশ্চিম মেদিনীপুর, ৯ আগস্ট: পথ নিরাপত্তা নিয়ে সাধারণ মানুষকে সচেতন করার উদ্যোগ একবার করলেই তার সুফল মিলবে না। মানুষ অনেক সময় সচেতনতার বার্তা ভুলে যায়। তাই পথ নিরাপত্তা সম্পর্কে বারবার মানুষকে সচেতন করতে হবে। দুর্ঘটনা এড়াতে প্রত্যেককে সতর্ক হয়ে রাস্তায় চলাফেরা করতে হবে। রবিবার খড়্গপুরে পশ্চিম মেদিনীপুর জেলা পুলিশের উদ্যোগে আয়োজিত বিশেষ পথ নিরাপত্তা কর্মসূচির সমাপ্তি অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে এমনই বার্তা দিলেন মন্ত্রী দিলীপ ঘোষ।

পশ্চিম মেদিনীপুর জেলা পুলিশের উদ্যোগে গত ৩ আগস্ট থেকে ৯ আগস্ট পর্যন্ত এক সপ্তাহের বিশেষ পথ নিরাপত্তা কর্মসূচি পালিত হয়। সপ্তাহজুড়ে জেলার বিভিন্ন এলাকায় পথ নিরাপত্তা নিয়ে নানা ধরনের সচেতনতামূলক কর্মসূচির আয়োজন করা হয়। রবিবার ছিল সেই কর্মসূচির শেষ দিন। এদিন খড়্গপুর পৌরসভার সামনে থেকে পথ নিরাপত্তা বিষয়ক বিশেষ সচেতনতামূলক কর্মসূচির আয়োজন করা হয়।

এদিনের কর্মসূচিতে পথ নিরাপত্তার বিভিন্ন বার্তা সম্বলিত পোস্টার, ব্যানার ও প্ল্যাকার্ড নিয়ে একটি সচেতনতামূলক শোভাযাত্রা বের করা হয়। মাইকিংয়ের মাধ্যমে সাধারণ মানুষকে ট্রাফিক আইন মেনে চলা, গাড়ি চালানোর সময় সতর্ক থাকা, পথচারীদের নিয়ম মেনে রাস্তা পারাপার এবং দুর্ঘটনা এড়াতে প্রয়োজনীয় সতর্কতা অবলম্বনের বার্তা দেওয়া হয়। শোভাযাত্রাটি খড়্গপুর শহরের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ এলাকা পরিক্রমা করে। কর্মসূচিতে বিভিন্ন বিদ্যালয়ের পড়ুয়ারাও সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ করে। পড়ুয়াদের হাতে ছিল পথ নিরাপত্তা নিয়ে সচেতনতামূলক পোস্টার ও প্ল্যাকার্ড। তাদের অংশগ্রহণে কর্মসূচিতে বিশেষ উৎসাহ ও উদ্দীপনা দেখা যায়।

শুধু সাধারণ মানুষ নয়, পথ নিরাপত্তা ব্যবস্থার সঙ্গে সরাসরি যুক্ত ট্রাফিক পুলিশ কর্মীদের প্রতিও বিশেষ নজর দেওয়া হয় এদিন। কর্মসূচির অংশ হিসেবে ট্রাফিক পুলিশ কর্মীদের রেইনকোট ও ছাতা দেওয়া হয়। বর্ষার সময় প্রতিকূল আবহাওয়ার মধ্যেও যাতে তাঁরা তাঁদের কর্তব্য যথাযথভাবে পালন করতে পারেন, সেই লক্ষ্যেই এই উদ্যোগ বলে জানা যায়।

অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে মন্ত্রী দিলীপ ঘোষ দুর্ঘটনার বহুমাত্রিক প্রভাবের কথা তুলে ধরেন। তিনি বলেন, রাস্তায় একজন মানুষের সামান্য ভুল থেকেও বড় দুর্ঘটনা ঘটতে পারে। সেই দুর্ঘটনার দুর্ভোগ শুধু যিনি ভুল করেছেন বা দুর্ঘটনার শিকার হয়েছেন, তাঁর মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকে না। এর প্রভাব পড়ে বহু মানুষের জীবনে।

তিনি বলেন, একজনের ভুলের কারণে দুর্ঘটনা ঘটলে কেউ আহত হতে পারেন, আবার কারও প্রাণও যেতে পারে। দুর্ঘটনার জেরে দীর্ঘ সময় ধরে রাস্তায় যানজট তৈরি হয়। সেই যানজটে আটকে পড়েন অসংখ্য সাধারণ মানুষ। অনেক সময় পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে ওঠে এবং কোথাও কোথাও গাড়ি ভাঙ্গচুর কিংবা আগুন দেওয়ার মতো ঘটনাও ঘটতে পারে। ফলে একজনের অসতর্কতার কারণে শেষ পর্যন্ত বহু মানুষকে দুর্ভোগ পোহাতে হয়।

মন্ত্রী আরও বলেন, “রাস্তায় চলার বিষয়ে আমরা মানুষকে সতর্ক করতে পারি। কিন্তু একবার সতর্ক করলেই হবে না। মানুষ অনেক কিছুই ভুলে যায়। তাই বারবার মানুষকে পথ নিরাপত্তা সম্পর্কে সচেতন করতে হবে।” তাঁর কথায়, দুর্ঘটনা রোধে প্রশাসনের পাশাপাশি সাধারণ মানুষেরও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে। প্রত্যেককে নিজের দায়িত্ব বুঝে ট্রাফিক আইন মেনে চলতে হবে এবং অন্যকেও সচেতন করতে হবে।

পথ নিরাপত্তা কর্মসূচির মাধ্যমে মূলত সাধারণ মানুষের মধ্যে দায়িত্বশীল ও নিরাপদ যান চলাচলের অভ্যাস গড়ে তোলার ওপর জোর দেওয়া হয়। বিশেষ করে তরুণ প্রজন্ম ও স্কুল পড়ুয়াদের মধ্যে সচেতনতা তৈরি হলে আগামী দিনে পথ দুর্ঘটনার সংখ্যা কমানো সম্ভব হবে বলে মনে করছেন প্রশাসনের আধিকারিকরা।

এদিনের কর্মসূচিতে উপস্থিত ছিলেন পশ্চিম মেদিনীপুর জেলা পুলিশ সুপার পাপিয়া সুলতানা- সহ জেলা পুলিশের অন্যান্য আধিকারিক, ট্রাফিক পুলিশকর্মী, বিভিন্ন বিদ্যালয়ের শিক্ষক- শিক্ষিকা ও পড়ুয়ারা। সপ্তাহ ধরে এই বিশেষ কর্মসূচির শেষ দিনে খড়্গপুর শহরে পথ নিরাপত্তার বার্তা সাধারণ মানুষের কাছে পৌঁছে দেওয়ার পাশাপাশি আগামী দিনেও এই ধরনের সচেতনতামূলক কর্মসূচি চালিয়ে যাওয়ার বার্তা দেওয়া হয়।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *