ভালো পা’টা ব্যান্ডেজ বেঁধে লোককে দেখিয়ে দেখিয়ে ভোট চাইছেন, বললেন দিলীপ ঘোষ

প্রতীতি ঘোষ, ব্যারাকপুর, ১১ এপ্রিল: “একটা মুখ্যমন্ত্রী ১০ বছরে কী কাজ করেছে তার কোনো রেকর্ড নেই। তিনি জেনেগেছেন তাঁর বিদায় আসন্ন। তাই আজ ভালো পা’টাকে ব্যান্ডেজ বেঁধে লোককে দেখিয়ে দেখিয়ে ভোট চাইছেন।” বরানগরের প্রগতি সংঘের মাঠে বরানগরের বিজেপি প্রার্থী পার্নো মিত্রের সমর্থনে রবিবার সকালের সভা থেকে এভাবেই মমতাকে আক্রমণ করলেন বিজেপির রাজ্য সভাপতি দিলীপ ঘোষ।

তিনি বলেন, দিদি কাজ না করে শুধু কথা পরিবর্তন করেন। এই প্রসঙ্গে দিলীপবাবু বলেন, একসময় বড় বড় হোর্ডিং লাগিয়েছিল, দিদিকে বলো, দিদিকে বলো। কিন্তু ফোন করলে কারও কথাই শুনতেন না। আর এখন স্লোগান পাল্টে গেছে দিদিকে ঠ্যালো, দিদিকে ঠ্যালো। সবাই এখন দিদিকে ঠেলতে লেগে গেছে। স্কুটার চালালেও দিদিকে ঠেলো, আবার হুইল চেয়ারে বসলে দিদিকে ঠ্যালো। বলতে শুরু করল খেলা হবে, খেলা হবে। সব লোক বসে রইল কী খেলা হবে দেখবে বলে, দেখা গেল খেলা নয়, ঠ্যালা হবে। হুইল চেয়ার ঠ্যালো। উনি বললেন দুয়ারে দুয়ারে সরকার। মানুষ বসে আছে কখন সরকার আসবে, এখন দেখা গেল হুইলচেয়ারে সরকার। একটা মুখ্যমন্ত্রী ১০ বছরে কী কাজ করেছেন তার কোনো রেকর্ড নেই। তাই আজ ভালো পা’টাকে ব্যান্ডেজ বেঁধে লোককে দেখিয়ে দেখিয়ে ভোট চাইছেন

এদিন মমতার নিজের কথা তুলেই একের পর এক আক্রমণ করেন দিলীপবাবু। তিনি বলেন, দিদি বলেছেন আমার আন্দোলন গোত্রে জন্ম। কিন্তু এরকম কথা আমরা কোনওদিন শুনিনি। আমরা জানি মুনি-ঋষিদের নামে গোত্র হয় যেমন আমাদের। কিন্তু আন্দোলন যে গোত্র হয় তা এই প্রথম শুনলাম। তারপর শুনলাম উনার গোত্র পাল্টে গেছে, মা মাটি মানুষ নাকি উনার গোত্র। এখন বলছেন আসল গোত্র শান্ডিল্য। কোনটা আসল, কোনটা নকল কিছুই বোঝা যায় না। একসময় ছিলেন দিদি, তারপর হলেন পিসি, তারপর মা, এখন হয়েছেন মেয়ে। কত পরিবর্তন হয়েছে– উনার কথার পরিবর্তন হয়েছে, গোত্র পরিবর্তন হয়েছে। উনার কাউন্সিলর, পঞ্চায়েত সদস্য, পঞ্চায়েত সিমিতি এবং জেলা পরিষদের সদস্যদের পরিবর্তন হয়েছে। তাদের বাড়ির পরিবর্তন হয়েছে, নেতাদের বউয়ের গায়ের গয়না পরিবর্তন হয়েছে। কিন্তু, এই পরিবর্তন তো বাংলার মানুষ চায়নি। মানুষ আইন-শৃঙ্খলা চেয়েছিল, গণতন্ত্র চেয়েছিল, তিনি তা দিতে পারেননি। উলটে ছিনিয়ে নিয়েছেন। মানুষের গণতান্ত্রিক অধিকার কেড়ে নেওয়া হয়েছে। দেড় দু’বছর ধরে ১২৫ টা পুরসভার নির্বাচন করাননি। মানুষের বিভিন্ন প্রয়োজনে কাউন্সিলরের সইয়ের দরকার হয়। কিন্তু তারা তা পাচ্ছে না। মানুষ পরিসেবা থেকে বঞ্চিত। এই জন্য কি আমরা তাঁকে ভোট দিয়েছিলাম?

তিনি এদিন বলেন, “যে পরিবর্তন দিদি করেছেন সেটা বাংলার মানুষ চায়নি। মানুষের গণতান্ত্রিক অধিকার ছিনিয়ে নিয়েছেন, শান্তি শৃঙ্খলা ছিনিয়ে নিয়েছেন। এবারের নির্বাচনে ভেবেছিল ভয় দেখিয়ে ভোট আদায় করে নেবেন, মানুষ কিন্তু উল্টো স্লোগান দিয়েছে। মানুষ নিজেদের অধিকার ছিনিয়ে নিতে জয় শ্রীরাম ধ্বনি তুলে বাড়ি থেকে বেরিয়ে এসেছেন। মানুষ তো মেয়েকে চেয়েছিল, কিন্তু মেয়ে যখন কিছু দেয় না তখন মেয়েকে বেশি দিন বাড়িতে রাখতে নেই বিদায় করে দিতে হয়। ২ রা মে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিদায়ের দিন।”

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *